Joshimath: যোশীমঠ নিয়ে কোনও সমীক্ষা সামনে আনা যাবে না, ISRO-র রিপোর্টের পরই নির্দেশ কেন্দ্রের

সম্প্রতি যোশীমঠের ভূমিধস নিয়ে এক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ইসরো। যেখানে জানা যায়, মাত্র ১২ দিনে ৫.৪ সেন্টিমিটার নীচে নেমেছে যোশীমঠ। আর, এই রিপোর্ট সামনে আসতেই 'তথ্য গোপন করতে' নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্র।
 যোশীমঠে ভেঙে পড়েছে বাড়ি
যোশীমঠে ভেঙে পড়েছে বাড়ি

সম্প্রতি যোশীমঠের ভূমিধস নিয়ে স্যাটেলাইট চিত্রসহ উদ্বেগজনক এক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো)। যেখানে জানা যায়, মাত্র ১২ দিনে অর্থাৎ ২৭ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারির মধ্যে প্রায় সাড়ে ৫ সেন্টিমিটার নীচে নেমেছে যোশীমঠ। অর্থাৎ দ্রুত ভূমিধস হচ্ছে। আর, এই রিপোর্ট সামনে আসতেই 'তথ্য গোপন করতে' নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্র।

শনিবার, কেন্দ্রের জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর (National Disaster Management Authority) এক নির্দেশিকায় জানিয়েছে, সংবাদ মাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভূমিধস সম্পর্কিত কোনও তথ্য শেয়ার করতে পারবে না সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলি। কারণ, সংস্থাগুলির তথ্য সম্পর্কিত 'নিজস্ব ব্যাখ্যা' বিভ্রান্তি তৈরি করছে।  

এক বিবৃতিতে NDMA জানিয়েছে, 'এটি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠান সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ভূমি সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশ করছে। এবং এই নিয়ে মিডিয়ায় মতামত দেওয়ার সময় পরিস্থিতির নিজস্ব ব্যাখ্যা দিচ্ছে। এটি শুধুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের মধ্যে নয়, দেশের নাগরিকদের মধ্যেও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে।'   

গত ১২ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে এক বৈঠকে বসেছিল NDMA শীর্ষ কর্তারা। সেখানে ইসরো'র রিপোর্টের কথা তুলে ধরেন তাঁরা।

NDMA জানিয়েছে, যোশীমঠের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ টিম গঠন করা হয়েছে। উত্তরাখণ্ডের অন্যান্য অঞ্চলগুলিতেও ভূমিধসের আশঙ্কা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মাটির ধারণ ক্ষমতা কত তার বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করবেন পর্যবেক্ষকরা। তার আগে যে কোনও ধরণের সংবেদনশীল রিপোর্ট সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করা থেকে বিরত থাকার জন্য ইসরোসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ জানিয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর বা NDMA ।

প্রসঙ্গত, গত ১২ জানুয়ারি, কার্টোস্যাট-২এস স্যাটেলাইট থেকে ছবি ও রিপোর্ট প্রকাশ করে ইসরোর ন্যাশনাল রিমোট সেন্সিং সেন্টার (ISRO's National Remote Sensing Centre)। যেখানে জানা যায়, মাত্র ১২ দিনে ৫.৪ সেন্টিমিটার নীচে নেমেছে যোশীমঠ।

তবে শুধু ইসরো নয়, গত ১১ জানুয়ারি দেরাদুনের সরকারি সংস্থা - ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ রিমোট সেন্সিং (Indian Institute of Remote Sensing)-র একটি সমীক্ষা রিপোর্ট সামনে আনে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম NDTV। যে সমীক্ষা রিপোর্টে দাবি করা হয়, গত কয়েক বছর ধরে প্রতি বছর ৬.৫ সেমি বা আড়াই ইঞ্চি করে বসে যাচ্ছে যোশীমঠসহ সংলগ্ন এলাকা।

NDTV জানিয়েছে, ২০২০-র মার্চ থেকে শুরু করে ২০২২-র জুলাই পর্যন্ত উপগ্রহচিত্র (Satellite Picture) বিশ্লেষণ করেছে ওই সংস্থা। তাতে স্পষ্ট ধীরে ধীরে তলিয়ে যাচ্ছে যোশীমঠ (Joshimath)। শুধু যোশীমঠ নয়, এর তার আশপাশের এলাকার পাহাড়ে একাধিক ফাটল দেখা গিয়েছে। কিন্তু তারপরেও যোশীমঠের তপোবন জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ বন্ধ রাখেনি ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কর্পোরেশন বা NTPC। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য সমানে চলেছে সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কাজ।

শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী মোদীর স্বপ্নের চারধাম সড়ক প্রকল্পের (Char Dham Roads Project) কাজও চলেছে সমানতালে। এর জন্য পাহাড় কেটে, গাছ কেটে চলেছে রাস্তা তৈরির কাজ। আর, এই দুয়ের জেরেই যোশীমঠ সহ সংলগ্ন এলাকা বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

জানা যাচ্ছে, যোশীমঠের ১১০ টিরও বেশি পরিবার নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছেন। পুরো শহরটিকেই খালি করার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রশাসন। বুলডোজার দিয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্থ বাড়ি এবং বহুতল হোটেলগুলি।

 যোশীমঠে ভেঙে পড়েছে বাড়ি
'চ্যানেলে বসে ঘৃণা ছড়ালে সঞ্চালককেও হটিয়ে দিন': সুপ্রিম কোর্ট

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in