Jharkhand: মহারাষ্ট্রের পর এবার ঝাড়খন্ড, রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের চেষ্টায় BJP

ক্ষমতার অলিন্দে ফিরতে, ঝাড়খণ্ডে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে বিজেপি। যার জেরে বিপাকে পড়েছে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা-কংগ্রেস-রাষ্ট্রীয় জনতা দল জোট সরকার।
ছবি প্রতীকী
ছবি প্রতীকীফাইল ছবি সংগৃহীত

মহারাষ্ট্রের পর এবার ঝাড়খণ্ডকে ‘পাখির চোখ’ করে এগোচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। ২০১৯ সালে বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর এখন তাঁরা ঝাড়খণ্ডে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলানোর চেষ্টা করছে।

ক্ষমতার অলিন্দে ফিরতে, ঝাড়খণ্ডে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে বিজেপি। যার জেরে বিপাকে পড়েছে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা-কংগ্রেস-রাষ্ট্রীয় জনতা দল জোট সরকার।

অনুমান করা হচ্ছে যে মহারাষ্ট্রে শিবসেনা-কংগ্রেস-এনসিপি জোট সরকারের পতনের পর, বিজেপির 'অপারেশন লোটাস' মিশনের পরবর্তী লক্ষ্য হল ঝাড়খণ্ড।

একদিকে, এনডিএ রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী দ্রৌপদী মুর্মুর পক্ষে সমর্থন চেয়ে ঝাড়খণ্ড সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছে বিজেপি। অন্যদিকে, আবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা যেমন সিবিআই, ইডি, আয়কর দপ্তকে ব্যবহার করে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ও JMM সভাপতি হেমন্ত সোরেনের উপর চাপ বজায় রাখছে নরেন্দ্র মোদী সরকার।

গত ২০-২৫ দিনে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে লক্ষণীয় পরিবর্তন হয়েছে ঝাড়খণ্ডে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে একে অপরের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করছে জেএমএম এবং বিজেপি। যেখানে কিছুদিন আগে পর্যন্ত দুই দলের নেতারা কাউকে ছেড়ে কথা বলতো না।

গত ২৭ জুন, নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেন হেমন্ত সোরেন। পরে সোরেন রাঁচিতে ফেরার পর, JMM-কে আর আক্রমণ করেনি বিজেপি। দুই দলের মধ্যে পুরনো রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছে। বিজেপির এই পদক্ষেপকে অনেকেই 'অপারেশন লোটাস'-এর অংশ বলে মনে করছেন।

১৮ জুলাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। ঝাড়খণ্ডে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে সরকার চালালেও, এই নির্বাচনে NDA- এর প্রার্থী দ্রৌপদী মুর্মুকে সমর্থন করবে বলে ঘোষণা করেছে হেমন্ত সোরেনের দল ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা বা JMM।

এর আগে, UPA এবং বিরোধী দলগুলির ডাকা বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন JMM নেতারা। এই বৈঠকেই বিরোধীদের মনোনীত রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসাবে যশবন্ত সিন্‌হার নাম ঘোষিত হয়।

JMM-এর প্রতিষ্ঠাতা শিবু সোরেন জানিয়েছেন, এটি দেশের জন্য গর্বের বিষয় যে মুর্মু হবেন প্রথম আদিবাসী মহিলা রাষ্ট্রপতি। তাই আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে NDA প্রার্থীকে সমর্থন দেবে তাঁর দল।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে JMM-এর এই অবস্থান পরিবর্তন ঝাড়খণ্ডে বড় ধাক্কা দিয়েছে জোট সঙ্গী কংগ্রেসকে।

এছাড়া, গত জুন মাসে রাজ্যসভা নির্বাচনের সময়, একটি আসনে নিজেদের প্রার্থী দেওয়া নিয়ে JMM এবং কংগ্রেসের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। কংগ্রেসের দাবি উড়িয়ে - শিবু সোরেনকে রাজ্যসভার প্রার্থী করে JMM বা ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা।

গত দুই মাসের মধ্যে, JMM-র রাজনৈতিক পদক্ষেপের জেরে রাজনৈতিকভাবে কংগ্রেস দু'বার বড় ধাক্কা খেয়েছে।

ঝাড়খণ্ড কংগ্রেসের সভাপতি রাজেশ ঠাকুর বলেছেন, ‘দ্রৌপদী মুর্মুকে সমর্থন দেওয়ার কারণে ঝাড়খণ্ডে JMM-এর সঙ্গে কংগ্রেস জোটে কোনও প্রভাব ফেলবে না। JMM-কংগ্রেস জোট শুধুমাত্র রাজ্যে সরকার পরিচালনার জন্য গঠিত হয়েছে, আসন্ন রাষ্ট্রপতির নির্বাচনের জন্য নয়।’

অন্যদিকে, ঝাড়খণ্ড বিধানসভার বিরোধী দলের নেতা এবং বিজেপি সদস্য বাবুলাল মারান্ডি বলেছেন, ‘দেশের স্বার্থে NDA-র রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীকে সমর্থন করছে JMM। দেরিতে হলেও তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তবে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

JMM প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই দল সর্বদা নিজেদের স্বার্থকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

২০১২ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময়, ঝাড়খণ্ডে জোট সরকারে ছিল বিজেপি-JMM-এজেএসইউ জোট। কিন্তু, এ সময় বিজেপির রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী পিএ সাংমাকে কে সমর্থন দেয়নি JMM। জোট সঙ্গী বিজেপির বিরুদ্ধে গিয়ে UPA রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী প্রণব মুখার্জিকে সমর্থন দেয় শিবু সোরেনের দল।

এই নির্বাচনের কয়েক মাস পর ঝাড়খণ্ডে জোট সরকার ভেঙে যায়। পরে ঝাড়খণ্ডে কয়েক মাস রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়। তারপরেই, কংগ্রেসের সাথে সরকার গঠন করে JMM।

এখন প্রশ্ন উঠছে- বর্তমান পরিস্থিতিতে JMM কি কংগ্রেসের সঙ্গে জোট ভেঙে আবার পুরনো মিত্র বিজেপির সঙ্গে ঐক্য গড়বে?

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in