বিজেপির সঙ্গে কৃষক নেতা রাকেশ টিকাইতের আঁতাত! জল্পনা রাজনৈতিক মহলে

কেন্দ্রের কৃষি আইনের বিরুদ্ধে গত দেড় বছর ধরে দিল্লি সীমান্তে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন রাকেশ টিকায়েত। এই টিকায়েত পরিবারকে নিজেদের দিকে আনতে কেন্দ্র এবং রাজ্য দুই-ই উদ্যোগী হয়েছে।
বিজেপির সঙ্গে কৃষক নেতা রাকেশ টিকাইতের আঁতাত! জল্পনা রাজনৈতিক মহলে
রাকেশ টিকাইতফাইল ছবি, সৌজন্যে Scroll

বিজেপির সঙ্গে আঁতাত গড়ছেন সংযুক্ত কিষান মোর্চার নেতা রাকেশ টিকায়েত। এমনই জল্পনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে দেশীয় রাজনীতিতে। শুধু তাই নয়, আগামী বছরের শুরুতে বিধানসভা নির্বাচনের আগে পরপর দুদিন ঘটে যাওয়া দুই ঘটনার মধ্যে প্রচ্ছন্ন সংযোগ সূত্র আছে বলে উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক মহল মনে করছে।

বুধবার জাঠ কৃষক নেতা মহেন্দ্র সিং টিকায়েতের জন্মদিনে ভূয়সী প্রশংসা করেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। যোগী টুইট করেন, 'কৃষকদের হিতের জন্য আজীবন সংঘর্ষ চালিয়ে যাওয়া জনপ্রিয় চৌধরি মহেন্দ্র সিংহ টিকায়েতজির জন্মদিনে তাঁকে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই। অন্নদাতাদের জীবনে সুখ এবং সমৃদ্ধি আনার জন্য আপনার প্রয়াস অনুকরণযোগ্য। কৃষকদের উত্থানে আপনার যাবতীয় স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করতে উত্তরপ্রদেশ সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।' তার আগের দিন লখিমপুর খেরির ক্ষোভ প্রশমিত করতে যোগী সরকারের পাশে থাকতে দেখা যাও তাঁর ছেলে তথা সংযুক্ত কিষান মোর্চার নেতা রাকেশ টিকায়েতকে।

কেন্দ্রের কৃষি আইনের বিরুদ্ধে গত দেড় বছর ধরে দিল্লি সীমান্তে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন রাকেশ টিকায়েত। উত্তরপ্রদেশের কৃষক সমাজে প্রবল প্রভাবশালী এই টিকায়েত পরিবারকে নিজেদের দিকে আনতে কেন্দ্র এবং রাজ্য দুই-ই উদ্যোগী হয়েছে। কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিংহ তোমর এবং বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল কথা বলেছেন প্রয়াত মহেন্দ্রর দুই ছেলে নরেশ এবং রাকেশের সঙ্গে। উদ্দেশ্য, এই কৃষক পরিবারের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলার পাশাপাশি কৃষি আন্দোলনের ঐক্যে চিড় ধরানো। লখিমপুর খেরির ঘটনায় রাকেশকে সরকারের পাশে দাঁড়াতে দেখে প্রশ্ন উঠছে, তিনি কি কিছুর বিনিময়ে শিবির বদলাচ্ছেন?

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ছেলের গাড়িতে পিষ্ট হয়ে মৃতদের দেহ সৎকারে প্রথমে রাজি হয়নি পরিবার। কিন্তু মৃতদের পরিবারকে ৪৫ লক্ষ টাকা-সহ বিভিন্ন ক্ষতিপূরণ দেওয়া, সৎকারের ব্যবস্থা, ধরনা ওঠানো, এসবে উত্তরপ্রদেশের পুলিশ-প্রশাসনের পাশে দেখা গিয়েছে রাকেশ টিকায়েতকে। উত্তরপ্রদেশের শীর্ষ পুলিশকর্তা প্রশান্ত কুমারের সঙ্গে যৌথ ভাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেন তিনি।

রাজনৈতিক শিবিরের বক্তব্য, এই টুইটের মাধ্যমে আসলে মুখ্যমন্ত্রী যে কৃষক-দরদি, সেই বার্তা দেওয়া, জাঠ সমাজের মন জয় করা, টিকায়েত পরিবারের প্রতি নিজের আনুগত্য জাহির করা, লখিমপুর খেরির চলতি সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছেন।

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.