সুপ্রিম নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভোটার-আধার সংযুক্তির নয়া কৌশল কমিশনের! - প্রতিবাদে সরব ইয়েচুরি

ভোটদাতাদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে অবিলম্বে এই প্রক্রিয়া বন্ধ করা উচিত। শুক্রবার দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিলেন ইয়েচুরি।
সীতারাম ইয়েচুরি
সীতারাম ইয়েচুরিগ্রাফিক্স - সুমিত্রা নন্দন

ফের ভোটার কার্ডের সাথে আধার কার্ডের নম্বর সংযুক্তিকরণ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কথা উল্লেখ করে সরব হলেন সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি।

ভোটদাতাদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে অবিলম্বে এই প্রক্রিয়া বন্ধ করা উচিত। এই দাবিতেই শুক্রবার দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিলেন ইয়েচুরি। ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়েছিল, ভোটার কার্ডের সাথে আধার নম্বরের সংযুক্তিকরণকে বাধ্যতামূলক করা যাবে না। তার আগে ওই বছর ফেব্রুয়ারী মাসেই ভোটার-আধার সংযুক্তিকরণের লক্ষ্যে জাতীয় ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণ ও প্রামাণ্যকরণ কর্মসূচী শুরু করেছিল নির্বাচন কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর তা বন্ধ করা হয়।

চিঠিতে ইয়েচুরি জানিয়েছেন, এই বিষয়ে নতুন কৌশল নিয়েছে কমিশন। শীর্ষ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় ভোটারদের ভোটার কার্ডের সাথে আধার নম্বর আর সংযুক্ত করতে বলা হচ্ছে না। তার বদলে প্রতিটি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের দিয়ে গণবণ্টন ব্যবস্থার মত বিভিন্ন সরকারি ক্ষেত্র থেকে আধার নম্বর সংগ্রহ করা হচ্ছে। তারপর ভোটারদের না জানিয়েই তাঁদের ভোটার কার্ডের সাথে যুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে আধার নম্বর।

এ প্রসঙ্গে চিঠিতে ইয়েচুরি আরও জানান, ইতিমধ্যেই ৩১ কোটি ভোটার কার্ডের সাথে আধার নম্বর যুক্ত করা হয়েছে। এভাবে ভুয়ো ভোটার ধরতে গিয়ে ব্যবস্থাজনিত ত্রুটির কারণে ভোটার তালিকা থেকে সারা দেশের বহু প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ গেছে। ২০১৮ সালের তেলেঙ্গানার বিধানসভা নির্বাচনে এই চিত্রই সামনে এসেছিল। শুধু তাই নয়, এই ঘটনার জেরে অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানার বহু ভোটারদের ব্যক্তিগত গোপন তথ্য প্রকাশ্যে চলে এসেছিল।

কমিশনের এই নতুন কৌশল প্রসঙ্গে ইয়েচুরি লিখেছেন, ভোটার-আধার সংযুক্তিকরণ প্রক্রিয়া শুরুর আগে কমিশন রাজনৈতিক দলগুলিকে কিছুই জানায়নি। দেশে যেমন এখনও পর্যন্ত তথ্য বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার কোনও আইন নেই, তেমনই এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের কোনও নীতিও নেই। তাই এ অবস্থায় ফের ভোটার-আধার সংযুক্তি প্রক্রিয়া শুরু হলে অতীতের মতই তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে বহু প্রকৃত ভোটারদের নাম। তাই অতীতের এমন ঘটনার তদন্ত করাই নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।

ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য গোপনীয়তার সুরক্ষার দাবিতে সিপিআই(এম) নেতা বলেন, দেশের ভোটারদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার দায়িত্ব কমিশনের। তাই যতদিন না পর্যন্ত কমিশন আগের ত্রুটিগুলির বিষয়ে তদন্ত রিপোর্ট তৈরী করছে, ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখার বিষয়ে ত্রুটিহীন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করছে, ততদিন পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া স্থগিত রাখতে হবে।

সীতারাম ইয়েচুরি
'আবার 'মিথ্যাচার' মোদী সরকারের', সাফাই কর্মীদের মৃত্যুর পরিসংখ্যান নিয়ে সরব ইয়েচুরি

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in