UP: যোগী রাজ্যে বৈষম্যের শিকার স্কুলের দলিত ছাত্র-ছাত্রীরাও, তুঙ্গে জাতপাতের রাজনীতি!

বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে জাতপাতের প্রবণতা এখন এতটাই বেড়েছে যে, শিশুরা দলিতদের রান্না করা খাবার খেতে অস্বীকার করছে বা দলিত শিশুদের সাথে একসঙ্গে বসতে চাইছে না।
UP: যোগী রাজ্যে বৈষম্যের শিকার স্কুলের দলিত ছাত্র-ছাত্রীরাও, তুঙ্গে জাতপাতের রাজনীতি!
গ্রাফিক্স - সুমিত্রা নন্দন

‘সি’ (C) ফর- চিলড্রেন (Children) এবং ‘সি’ (C) ফর- কাস্ট (Caste)- ইংরাজি বর্ণ অনুসারে এমনই শব্দ সামনে আসছে উত্তরপ্রদেশে। জাতপাতের রাজনীতির (caste politics) ছায়া গ্রাস করেছে স্কুলের বাচ্চাদের মধ্যেও।

সরকারি স্কুলেও জাতপাতের রাজনীতি ছড়িয়ে পড়েছে। আর বৈষম্যের শিকার হচ্ছে স্কুলের শিশুরা। এই ধরণের ঘটনার সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। তবে, অনেক ঘটনাই সামনে আসছে না।

গত বছর, আমেঠির সংগ্রামপুর এলাকার গাদেরিতে এক প্রাথমিক স্কুলে এই ধরণের ঘটনা ঘটেছিল। অভিযোগ ওঠে, দুপুরের খাবার (Mid-Day Meal) দেওয়ার সময় ‘দলিত শিশুদের আলাদা লাইন’ করেছিলেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক কুসুম সোনি (Kusum Soni)।

পরে, এসসি/এসটি নৃশংসতা প্রতিরোধ আইনে (SC/ST Atrocities Prevention Act) তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের হয়েছিল। এবং তাঁকে চাকরী থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।

মামলাটি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকেও জানানো হয়েছিল, যিনি মৌলিক শিক্ষা অধিকারী (the Basic Shiksha Adhikari) হিসাবে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

শুধু তাই নয়, মইনপুরী জেলার একটি সরকারি স্কুলেও দলিত ছাত্রদের প্রতি বৈষম্যের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে দলিত ছাত্রদের ব্যবহৃত পাত্র আলাদা করার ঘটনাও ঘটেছে। 

বালিয়ার প্রাক্তন স্কুল শিক্ষক রাম প্রকাশ শ্রীবাস্তব (Ram Prakash Srivastava) জানান, ‘এটি এখন সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে। জাতপাতের প্রবণতা এখন এতটাই বেড়েছে যে, শিশুরা দলিতদের রান্না করা খাবার খেতে অস্বীকার করছে বা দলিত শিশুদের সাথে একসঙ্গে বসতে চাইছে না। আমরা সমাধানের চেষ্টা করছি। তবে, বিষয়টি (সমাধানের চেষ্টা) স্কুলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে। আর, সংবাদ মাধ্যমে এই ধরণের ঘটনা সামনে আসলে, তখনই শুধু ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

বিনয় কুমার (Vinay Kumar) নামে উত্তরপ্রদেশের (পূর্বাঞ্চলীয় বিধানসভা এলাকার) এক গ্রামের প্রধান বলেন, ‘জাতিভেদ প্রথার শিকড় গভীরে পৌঁছেছে। স্থানীয় বিধায়ক (MLA) বা সাংসদ (MP)-রা দলিত শ্রেণীর না হলে, সেই এলাকার স্কুলে দলিত শিশুরা বৈষম্য নেমে আসে। স্কুলের শিক্ষকরা তাদের উপর শারীরিক অত্যাচার চালায়, জাতপাত তুলে অপমান করে। আমি দলিত সম্প্রদায়ের হওয়া সত্ত্বেও শিশুদের জন্য তেমন কিছু করতে পারি না। কারণ, স্থানীয় বিধায়ক উচ্চবর্ণের। শুধু তাই নয়, স্থানীয় কর্মকর্তারাও এই ধরণের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত।’

চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী সঙ্গীতা (দলিত সম্প্রদায়ের) জানিয়েছে, ‘স্কুলের শিক্ষক তাকে আলাদা লাইনে (জায়গায়) বসতে বলেন এবং দুপুরের খাবার দেওয়ার সময় তাঁকে অন্যদের থেকে দূরে বসতে বলা হয়।’

সে বলে, ‘বড় (পড়ুন উচ্চবর্ণের) ছেলেমেয়েরা আমার সাথে খেলা করে না। তারাও প্রথমে খাবার পায়।’

সঙ্গীতা জানায়, ‘যখন 'মন্ত্রীজি' স্কুলে আসেন, শুধুমাত্র তখনই তাকে 'ভিআইপি অর আচ্চা কাম' (ভালো পরিষেবা) দেওয়া হয়।’

সঙ্গীতার মা আশা দেবী বলেন, ‘শিক্ষক তাকে সঙ্গীতার মাথায় তেল দিতে এবং চুল আঁচড়াতে বলেন। তাকে শেখানো হয়, কিভাবে অতিথির সাথে কথা বলতে হবে। বিনিময়ে তিনি মিষ্টি পান। কিন্তু, একবার (মন্ত্রীর) পরিদর্শন হয়ে গেলে, পরিস্থিতি আবার খারাপ হয়ে যায়।’

UP: যোগী রাজ্যে বৈষম্যের শিকার স্কুলের দলিত ছাত্র-ছাত্রীরাও, তুঙ্গে জাতপাতের রাজনীতি!
Madhya Pradesh: 'তানজিম-এ-জারখেজ', গরীব কৃষকদের 'জমি হাতাতে' হিন্দু সংগঠনের নাম বদল মধ্যপ্রদেশে

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in