অপব্যবহৃত হচ্ছে, স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরও দেশদ্রোহ আইনের কী প্রয়োজন, কেন্দ্রকে প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের

তিন বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ দেশদ্রোহ আইনকে একটি করাতের সাথে তুলনা করেছেন, যা এক ব‍্যক্তিকে কাঠ কাটতে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি কাঠের বদলে ওই করাত দিয়ে গোটা জঙ্গলটাই কেটে ফেলেছিলেন।
অপব্যবহৃত হচ্ছে, স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরও দেশদ্রোহ আইনের কী প্রয়োজন, কেন্দ্রকে প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের
সুপ্রিম কোর্টফাইল ছবি

স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও দেশে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনের প্রয়োজন আছে? রাষ্ট্রদ্রোহ আইনের সাংবিধানিক বৈধতাকে চ‍্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া এক পিটিশনের শুনানিতে কেন্দ্র সরকারের কাছে এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলেন প্রধান বিচারপতি এন ভি রমনা।

প্রধান বিচারপতির কথায়, ব্রিটিশ আমলে এই আইন তৈরি করা হয়েছিল স্বাধীনতা সংগ্রামীদের দমন করার জন্য।

মামলাকারী তাঁর আবেদনে ভারতীয় দন্ডবিধির ১২৪(এ) ধারাটিকে সম্পূর্ণভাবে বাতিলের আবেদন জানিয়েছিলেন। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ এই ধারাকে একটি করাতের সাথে তুলনা করেছেন, যা এক ব‍্যক্তিকে কাঠ কাটতে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি কাঠের বদলে ওই করাত দিয়ে গোটা জঙ্গলটাই কেটে ফেলেছিলেন।

আদালত বলে, "এই আইনের প্রচুর অপব্যবহার করা হচ্ছে। ছুতোর মিস্ত্রিকে করাত দেওয়া হয়েছিল কাঠের টুকরো কাটার জন্য, তিনি এর সাহায্যে পুরো বন কেটে ফেলেছিলেন। এখানেও এই আইনকে তেমনভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। যদি কোনো পুলিশ আধিকারিক কোনো ব‍্যক্তিকে ফাঁসাতে চান, তাহলে তিনি আইপিসি-র ১২৪(এ) ধারা কাজে লাগাতে পারেন।"

অ‍্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেনুগোপালকে উদ্দেশ্য করে আদালত আরও বলে, "রাষ্ট্রদ্রোহ আইনটি ঔপনিবেশিক। মহাত্মা গান্ধীর মুখ বন্ধ করার জন্য জন্য এবং স্বাধীনতা আন্দোলনকে দমন করার জন্য ব্রিটিশরা এই আইন ব‍্যবহার করতো। স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও আমাদের দেশে এই আইন রাখার প্রয়োজন কী? কেন্দ্রীয় সরকার অনেক পুরোনো আইন বাতিল করে দিচ্ছে। তাহলে এই আইন বাতিল করা হচ্ছে না কেন?"

অ‍্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ্য করে প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, "এই আইনের অপব্যবহার নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন, কার্যনির্বাহীর জবাবদিহি নিয়ে নয়। আমরা কোনো রাজ‍্য সরকার বা কেন্দ্রকে দোষ দিচ্ছি না। কিন্তু দেখুন যেমন তথ‍্যপ্রযু্ক্তি আইনের ৬৬এ ধারা বাতিল হওয়া সত্ত্বেও এখনও সেই আইন কীভাবে ব‍্যবহার করা হচ্ছে। কত হতভাগা মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই আইনের ফলে। এই আইনের কোনো জবাবদিহিতা নেই।"

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in