বিরোধী মত দমন করার জন্য সন্ত্রাস-বিরোধী আইনের অপব্যবহার উচিত নয় - বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়

বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় বলেন - আদালতগুলিকে নিশ্চিত করতে হবে নাগরিকদের স্বাধীনতার অধিকার খর্বের বিরুদ্ধে তারা সর্বদা লড়াই করবে। একদিনের জন্যও যেন নাগরিক তাঁর স্বাধীনতার অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়।
বিরোধী মত দমন করার জন্য সন্ত্রাস-বিরোধী আইনের অপব্যবহার উচিত নয় - বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়
বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ফাইল ছবি সংগৃহীত

বিরোধী মতকে দমন করার জন্য সন্ত্রাস-বিরোধী আইনের অপব্যবহার করা উচিত নয়। ভারতবর্ষ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আইনি সম্পর্ক সম্পর্কিত একটি অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় এই মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়।

ইন্দো-মার্কিন জয়েন্ট সামার কনফারেন্সে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন বিচারপতি চন্দ্রচূড়। সেখানে স্ট‍্যান স্বামীর মৃত্যু প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, "বিরোধী মতকে দমন করার জন্য বা নাগরিকদের হয়রানি করার জন্য সন্ত্রাস-বিরোধী আইন সহ যে কোনো ফৌজদারি আইনের অপব্যবহার করা উচিত নয়। যেমন অর্ণব গোস্বামী বনাম রাজ্যের যে মামলার বিচার আমি করেছিলাম তার কথা উল্লেখ করছি, আদালতগুলিকে নিশ্চিত করতে হবে নাগরিকদের স্বাধীনতার অধিকার খর্বের বিরুদ্ধে তারা সর্বদা লড়াই করবে। একদিনের জন্যও যেন নাগরিক তাঁর স্বাধীনতার অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়। আমাদের সিদ্ধান্তগুলির গভীরতর পদ্ধতিগত বিষয়গুলোর জন্য আমাদের সর্বদা সচেতন থাকতে হবে।"

প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে হেফাজতে থাকাকালীন অবস্থায় মৃত্যু হয় স্ট‍্যান স্বামীর। গত অক্টোবর মাসে এলগার পরিষদ মামলায় সন্ত্রাসী-বিরোধী আইন UAPA-এর অধীনে ৮৪ বছর বয়সী এই সমাজকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। মেডিক্যাল গ্রাউন্ডে একাধিকবার জামিনের আবেদন করা সত্ত্বেও জামিন পাননি তিনি। স্ট‍্যান স্বামীর মৃত্যুতে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে দেশের পাশাপাশি উত্তাল হয়েছিল বিদেশও।

শেষ কয়েকবছরে UAPA-এর আইনের অধীনে একাধিক ব‍্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এঁর মধ্যে অধ‍্যাপক, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, সমাজকর্মী, পড়ুয়া, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক সহ অনেকেই রয়েছেন এবং প্রত‍্যেকের ক্ষেত্রে একটা বিষয় একই - এঁরা প্রত‍্যেকেই সরকারের বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করেছিলেন।

অনেক ক্ষেত্রেই অভিযুক্তদের দীর্ঘদিন জেলবন্দী করে রাখার পর অভিযোগ প্রমাণ করতে না পেরে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের দীর্ঘ কয়েক বছর জেলবন্দী করে রাখা হয়েছে এবং মামলা এখনো বিচারাধীন রয়েছে।

সোমবারের এই অনুষ্ঠানটির আয়োজক ছিল আমেরিকান বার অ্যাসোসিয়েশনের ইন্টারন‍্যাশনাল ল সেকশন, চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অফ আরবিট্রেটার্স ইন্ডিয়া এবং সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ান ল ফার্মস। অনুষ্ঠানে ভারত ও ‌আমেরিকার আইনি সম্পর্ক নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেছেন বিচারপতি চন্দ্রচূড়। তিনি বলেন, স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় শান্তির প্রচারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের কাছে পথপ্রদর্শক।

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in