

বাড়িতে ইডি তল্লাশির আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁকে ফোন করেছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলার বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন! বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা এবং ছত্তিশগড়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল তাঁকে বিজেপিতে যোগদান করানো। কংগ্রেস নেতার এই অভিযোগের পর জাতীয় রাজনীতিতে চাঞ্চল্য শুরু হয়েছে।
বাঘেলের মতে, ক্ষমতাসীন দল তদন্তকারী কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে এবং তা থেকে রাজনৈতিকভাবে সুবিধা লাভের চেষ্টা করে।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদসংস্থাকে কংগ্রেস নেতা ভূপেশ বাঘেল বলেন, ‘’বিজেপি সবসময় বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগ তোলে এবং এফআইআর দায়ের করে। ইডি এবং ইনকাম ট্যাক্স ডিপার্টমেন্ট হল বিজেপির অস্ত্র। এবং যখন কেউ এতে ফেঁসে যায়, তখন বিজেপি সেই ব্যক্তিকে ফোন করে বলে যে তাঁদের কাছে এমন একটি ওয়াশিং মেশিন আছে যার মাধ্যমে ওই ব্যক্তির সমস্ত পাপ ধুয়ে যাবে এবং তিনি নির্দোষ হয়ে বেরিয়ে আসতে পারেন।‘’
এই প্রসঙ্গে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, সদ্য প্রয়াত মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নারায়ণ রানের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। এঁরা সকলেই বিরোধী দল থেকে ক্ষমতাসীন দল বা জোটে যোগ দিয়েছেন। এঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। দল পরিবর্তনের সাথে সাথেই অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে বা ক্লিনচিট দিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
এরপরই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন বাঘেল। তিনি বলেন, ‘’ অমিত শাহ আমাকে ফোন করে আমার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। আমি তাঁকে বলেছিলাম, এটা আমার কাছে খুব আনন্দের বিষয় যে, আমি বিরোধী দলের নেতা, সরকারের সমালোচনা করা আমার কাজ, তারপরও আপনি আমাকে সাহায্য করতে ইচ্ছুক। উনি আমাকে সরাসরি বলেননি যে আমার বিজেপিতে যোগ দেওয়া উচিত। এর কিছুদিন পরেই আমার বাড়িতে তল্লাশি অভিযান হয়। তখন আমি বুঝতে পারি, তিনি কিসের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।"
তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন, তাঁর বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন