সহকর্মীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, নির্যাতিতা বায়ুসেনা আধিকারিককে নিষিদ্ধ 'টু ফিঙ্গার টেস্ট'!

প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্ট অনেক আগেই এই 'টু ফিঙ্গার টেস্ট' নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। তারপরেও নির্যাতিতাকে এই টেস্ট করতে বাধ্য করায় বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সহকর্মীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, নির্যাতিতা বায়ুসেনা আধিকারিককে নিষিদ্ধ 'টু ফিঙ্গার টেস্ট'!
ছবি - প্রতীকী

পেশায় ভারতীয় বায়ুসেনার আধিকারিক। সহকর্মী ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ করেছিলেন তিনি। তার জন্য দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নিষিদ্ধ করা 'টু ফিঙ্গার টেস্টে'র যন্ত্রণা পোহাতে হয় নির্যাতিতা আধিকারিককে। পাশাপাশি তাঁকে ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

নির্যাতিতার অভিযোগ, ঘটনার ১০ দিন পরও কলেজ কমান্ড্যান্ট বা কর্তৃপক্ষ উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়নি। উলটে তাঁকে ভুল পথে চালিত করা হয়েছে। এরপর তিনি মহিলা থানায় ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট অমিতেশ হরমুখের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।

নির্যাতিতার বয়ান অনুযায়ী, গত ৯ সেপ্টেম্বর অফিসার্স মেসে একটি পার্টিতে যান অমিতেশ হরমুখর ও ওই মহিলা আধিকারিক। তাঁরা পার্টিতে অ্যালকোহল নেন। নির্যাতিতার হাতে পানীয়ের গ্লাস তুলে দেয় অমিতেশ। সন্দেহ, তাতে মাদক মেশানো ছিল। পরে বেহুশ হয়ে পড়েন। অবচেতন হয়ে পড়লেও তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি যৌন হেনস্থার শিকার।

অভিযোগকারিণীর এক ব্যাচমেট ঘটনাটি জানেন। পরদিন অভিযুক্তকে এই বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করেন নির্যাতিতা। অভিযুক্ত ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান। তাঁর স্বীকারোক্তি ভিডিয়ো রেকর্ড করেন নির্যাতিতার ব্যাচমেট। তবে অভিযোগ জানাতে গেলে নানা ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হয় তাঁর। নির্যাতিতাকে 'ভবিষ্যতের কথা' ভেবে অভিযোগ তুলে নিতে বলেন ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা। এরপর তাঁর যৌনাঙ্গে টু ফিঙ্গার টেস্ট হয়। কিন্তু টেস্ট রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। তাই তাঁকে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিতে বলেন দুই শীর্ষ আধিকারিক।

এরপর ২০ সেপ্টেম্বর পুলিশ কমিশনার এবং মহিলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতা। গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্তকে। বর্তমানে অভিযুক্ত বিচার বিভাগীয় হেফাজতে আছে। এদিকে বায়ুসেনা দাবি করেছে, এই ঘটনার তদন্ত তারা করবে। কিন্তু পুলিশ দাবি করেছে, যেহেতু নির্যাতিতা বায়ুসেনার থেকে সাহায্য না পেয়েই পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছেন, তাই তদন্তভার তাদের।

টু ফিঙ্গার টেস্ট-র ঘটনা জানাজানি হতেই নড়েচড়ে বসে জাতীয় মহিলা কমিশন। তাঁদের তরফ থেকে বায়ুসেনাকে কড়া ভাষায় চিঠি পাঠানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট অনেক আগেই এই প্রক্রিয়াটি নিষিদ্ধ করেছে, তাঁর পরেও কেন নির্যাতিতার উপর তা প্রয়োগ করা হল - জানতে চেয়েছে মহিলা কমিশন।

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in