AIKS: দেশের আখ চাষীদের বকেয়া ২১ হাজার কোটি টাকা - সুদ সহ ফেরতের দাবি বিজু কৃষ্ণানের

গত চার বছর ধরে দেশজুড়ে বিভিন্ন সুগার মিলের কাছে কৃষকরা যে আখ বিক্রি করেছেন সেই বাবদ বকেয়া এই বিপুল পরিমাণ টাকা। একথা জানিয়েছেন সারা ভারত কৃষক সভার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিজু কৃষ্ণান।
AIKS: দেশের আখ চাষীদের বকেয়া ২১ হাজার কোটি টাকা - সুদ সহ ফেরতের দাবি বিজু কৃষ্ণানের
ন্যাশনাল কো অপারেটিভ সুগার মিলছবি ন্যাশনাল কো অপারেটিভ সুগার মিল ফেসবুক পেজের সৌজন্যে

সারা দেশে আখ চাষিদের প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা বকেয়া শোধ করেনি বিভিন্ন সুগার মিল। গত চার বছর ধরে দেশজুড়ে বিভিন্ন সুগার মিলের কাছে কৃষকরা যে আখ বিক্রি করেছেন সেই বাবদ বকেয়া এই বিপুল পরিমাণ টাকা। একথা জানিয়েছেন সারা ভারত কৃষক সভার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিজু কৃষ্ণান।

তামিলনাড়ুর আলানগাল্লুরে ন্যাশনাল কো অপারেটিভ সুগার মিল চালু করার দাবীতে আখ চাষীদের এক সম্মেলনে বিজু বলেন, বকেয়া এই টাকার সুদ বিরাট অঙ্কের। তিনি বলেন, ব্যাঙ্কের সুদের হার ৫ শতাংশ, কোনো কোনো কো অপারেটিভ ব্যাঙ্ক ১১ শতাংশ পর্যন্ত সুদ দেয়। আমরা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি শুধুমাত্র কৃষকদের বকেয়া মেটানো নয়। তার সঙ্গে বকেয়া টাকার ওপর সুদও দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এই দেশে কোনো মানুষ টাকা না দিলে কোনো জিনিস কিনতে পারেন না। তাহলে কেন শুধুমাত্র আখ চাষিরা তাঁদের চার বছর আগের বিক্রি করা ফসলের দাম পাবেন না।

তিনি বলেন, বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো কৃষকদের আয় দ্বিগুণ হবে। ন্যূনতম সহায়ক মূল্য কমপক্ষে ৫০ শতাংশ বাড়বে। বীজের জন্য ভর্তুকি দেওয়া হবে। কম সুদে কৃষকদের ঋণ দেওয়া হবে। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর তারা কৃষকদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। কোনো প্রতিশ্রুতি পালন করেনি। বিজেপির সাত বছরের শাসনে প্রায় এক লক্ষ কৃষক ও ভাগচাষি আত্মহত্যা করেছেন।

এআইকেএস নেতা বিজু কৃষ্ণান আরও বলেন – যখন কৃষকরা চরম সংকটে সেইসময় কেন্দ্রীয় সরকার তিন কৃষি আইন এনে কৃষিক্ষেত্রে, কৃষকদের কঠিন পরিশ্রম, কৃষকদের জমি কর্পোরেটদের জন্য লুটের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের তালিকা থেকে ধান, গম, তৈলবীজ, ডাল, পেঁয়াজ, আলুকে বাদ দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এইসব পণ্যের নিয়ন্ত্রণ কর্পোরেটদের হাতে তুলে দিচ্ছে। দ্য এসেনসিয়াল কমোডিটি অ্যাক্ট অনুসারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মজুত করা যায়না এবং সাধারণ মানুষকে কম দামে বিক্রি করার কথা। কিন্তু সাধারণ মানুষকে এড়িয়ে এখন কর্পোরেটরা এইসব পণ্য মজুত করতে পারবে, রপ্তানি করতে পারবে। কেন্দ্রীয় সরকার যতক্ষণ না তিন কৃষি আইন বাতিল করবে ততক্ষণ দিল্লিতে কৃষকদের আন্দোলন চলবে।

মাদুরাইয়ের সাংসদ সু ভেঙ্কটেশন বলেন, ন্যাশনাল কো অপারেটিভ সুগার মিল গত দুবছর ধরে বন্ধ। এই মিল এই বছরেই খোলার জন্য ডিএমকে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে। মিলের কাজকর্ম শুরু করার জন্য রাজ্য সরকারকে ১০ কোটি টাকা অর্থ সাহায্য করতে হবে। তিনি আরও বলেন, এছাড়াও তেনকাশী জেলার ধারানী সুগার মিলের এলাকা থেকে আলানগানাল্লুরে আখের জোগান পাঠাতে হবে। যাতে এই মিলের উৎপাদন সবসময় চালু থাকে।

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in