নিরঞ্জনির পর কুম্ভ মেলা থেকে নিজেদের সরালো জুনা আখড়া

জুনা আখড়ার প্রধান স্বামী অবধেশানন্দ এক ট্যুইট বার্তায় জানিয়েছেন – দেশের মানুষের স্বাস্থ্য এবং তাঁদের জীবন রক্ষা আমাদের কাছে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। করোনার কারণে কুম্ভের সমস্ত দেবতা বিসর্জন করে দিয়েছি।
নিরঞ্জনির পর কুম্ভ মেলা থেকে নিজেদের সরালো জুনা আখড়া
১৪ এপ্রিল দ্বিতীয় শাহী স্নানে জুনা আখড়া স্বামী অবধেশানন্দর ট্যুইটার হ্যান্ডেলের সৌজন্যে

নিরঞ্জনি আখড়ার পর জুনা আখড়াও কুম্ভ মেলায় তাঁদের অংশগ্রহণ এবারের মত শেষ বলে ঘোষণা করলো। শনিবার জুনা আখড়ার প্রধান স্বামী অবধেশানন্দ এক ট্যুইট বার্তায় জানিয়েছেন – দেশের মানুষের স্বাস্থ্য এবং তাঁদের জীবন রক্ষা আমাদের কাছে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। করোনা মহামারীর প্রকোপ বেড়ে চলায় আমরা বিধি মেনে কুম্ভের সমস্ত দেবতা বিসর্জন করে দিয়েছি। জুনা আখড়ার পক্ষ থেকে আমরা এই কুম্ভ মেলার বিধিমত বিসর্জন সমাপ্তি ঘোষণা করলাম।

প্রসঙ্গত, গতকালই কুম্ভমেলা নিয়ে বিবাদ বেঁধেছিলো সাধুদের বিভিন্ন আখড়ার মধ্যে। দেশজুড়ে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাবার কারণে গত বৃহস্পতিবার নিরঞ্জনি আখড়ার সম্পাদক রবীন্দ্র পুরি জানিয়েছিলেন – মেষ সংক্রান্তির দিন প্রধান শাহী স্নান হয়ে গেছে গত ১৪ এপ্রিল। আমাদের আখড়ার অনেক সাধুরই দেহে করোনা সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় আমাদের আখড়ার জন্য এবারের মত কুম্ভমেলা শেষ। আমরা কাল থেকেই মেলা থেকে ফেরা শুরু করে দেব।

নিরঞ্জনি আখড়ার এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা ধেয়ে আসে অন্যান্য আখড়া থেকে। নির্বাণি আনি আখড়ার সভাপতি মহন্ত ধর্মদাস এর উত্তরে বলেন – একমাত্র মেলা আধিকারিক অথবা মুখ্যমন্ত্রীই মেলার সমাপ্তি ঘোষণা করতে পারেন। এভাবে কুম্ভ মেলার সমাপ্তি ঘোষণা করে নিরঞ্জনি আখড়া গুরুতর অপরাধ করেছে। তাদের এই মন্তব্যে অন্য আখড়ার সাধুদের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে। এই কাজের জন্য নিরঞ্জনি আখড়াকে ক্ষমা চাইতে হবে আখড়া পরিষদের কাছে।

এখনও পর্যন্ত গত ছ’দিনের র‍্যান্ডম টেস্টে কুম্ভ মেলা সংলগ্ন অঞ্চলে ২ হাজারের বেশি সাধুর করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এবারের কুম্ভ মেলায় অংশ নিচ্ছে ১৩টি আখড়া। গত ১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া কুম্ভ মেলা চলার কথা আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কুম্ভ মেলা বন্ধের আবেদন জানিয়েছিলেন।

যদিও নিরঞ্জনি আখড়া এবং জুনা আখড়া কুম্ভ মেলা থেকে নিজেদের সরিয়ে নিলেও মেলা এখনই শেষ হয়ে যাচ্ছে না। এখনও পর্যন্ত ১৩টি আখড়ার অনেক আখড়াই মেলা চালিয়ে যাবার পক্ষে। যার মধ্যে আছে নির্মোহী, দিগম্বর, নির্বাণী প্রভৃতি আখড়া। আগামী ২৭ এপ্রিল শাহী স্নানের সিদ্ধান্তে তাঁরা এখনও অনড়।

এর আগে যে দুটি শাহী স্নান হয়েছে, গত ১২ এবং ১৪ এপ্রিলের সেই দুই স্নানে করোনা বিধি মানার কোনো বালাই ছিলো না বলেই অভিযোগ। যা নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ট্যুইটারে এর বিরোধিতায় সরব হয়েছেন বহু নেটিজেন।

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in