করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বেকার হতে পারেন প্রায় ১২ কোটি কর্মজীবী - সমীক্ষা

সমীক্ষা করে এমনই তথ্য প্রকাশ করেছে সেন্টার অফ মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমি
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বেকার হতে পারেন প্রায় ১২ কোটি কর্মজীবী - সমীক্ষা
ছবি- নিউজক্লিক

করোনা সংক্রমণে প্রথম দফায় কাজ হারিয়েছিলেন কোটি কোটি মানুষ। দ্বিতীয় দফায় এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে চলেছে। এবার কাজ হারাতে পারেন প্রায় ১২ কোটি পরিযায়ী শ্রমিক কর্মচারী। সমীক্ষা করে এমনই তথ্য প্রকাশ করেছে সেন্টার অফ মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমি। পশ্চিমবঙ্গের মতো বিভিন্ন জায়গায় কর্মসংস্থানের প্রকৃত অবস্থা চেপে যাওয়া হচ্ছে।

ওই সংস্থা জানিয়েছে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের জেরে কাজ হারাতে চলেছেন ১২ কোটি মানুষ, যা মোট কর্মরতদের ৩০ শতাংশ। বেকারের হার বেড়ে হচ্ছে ৮ শতাংশ আর শহরে সেই হার পৌঁছচ্ছে ১০ শতাংশে। কাজে যুক্ত থাকা এবং কাজের খোঁজে থাকা শ্রমিকদের সংখ্যার হার কমে দাঁড়িয়েছে ৪০ শতাংশে যা করোনার প্রথম পর্যায়ে ছিল ৪২.৭ শতাংশে।

সমীক্ষা বলছে, স্থায়ী কর্মীরা কাজ হারান না, তা নয়। সংগঠিত ও অসংগঠিত উভয় ক্ষেত্রেই কাজ হারানো শ্রমিক-কর্মচারীদের পুনর্বহাল করার মতো কোনও ব্যবস্থাই তৈরি করা হয়নি। ২০২০-২১ সালের মোট বেতনভোগী শ্রমিকের সংখ্যা কমেছে ৯৮ লক্ষ বা প্রায় ১ কোটি। ১৯-২০তে বেতনভোগী কর্মচারীদের সংখ্যা ছিল ৮ কোটি ৫৯ লাখ। ২০-২১ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৬২ লক্ষতে। এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করছে যে, দেশে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়নি।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বেকার হতে পারেন প্রায় ১২ কোটি কর্মজীবী - সমীক্ষা
লকডাউন ওঠার পরেও অসংগঠিত ক্ষেত্রের প্রায় ১৫ শতাংশ শ্রমিক এখনও কর্মহীন

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে অনেক রাজ্যেই চলছে আঞ্চলিক লকডাউন, নাইট কার্ফু। ব্যবসা বাণিজ্যে তার প্রভাব পড়েছে। অনেক পরিযায়ী কাজ না পেয়ে ঘরে ফেরা শুরু করেছেন। বিধিনিষেধের ফলে মোট জনসংখ্যার ৫৭ শতাংশ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। ছোট ছোট শহরে কাজ হারানো ঘটনা বেশি, সেজন্য বেকারের সংখ্যা শহরে এসে পৌঁছেছে ১০ শতাংশে।

সমীক্ষা থেকে জানা গিয়েছে, অনেকে কলকারখানায় কাজ হারিয়ে গ্রামে ফিরে কৃষিকাজ শুরু করেছেন। ২০১৯-২০ সালে কাজে যুক্ত হওয়ার হার ছিল ৪২.৭ শতাংশ। মহামারী বছর পেরিয়ে মার্চে সেই কর্মীদের কাজে যুক্ত হওয়ার হার আরও কমে হয়েছে ৪০.২ শতাংশ। কাজ হারানো পরিযায়ীদের বড় অংশই কৃষিকাজে ফিরলেও কৃষিতে উৎপাদন বেড়েছে মাত্র ২-৩ শতাংশ।

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in