ইডির ক্ষমতায়ন 'ভয়ঙ্কর', যৌথ বিবৃতি পেশ ১৭ বিরোধী দলের

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'এই রায় সরকারের হাতকে মজবুত করেছে। এটি (আদালতের রায়) বিরোধীদের উপর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, অর্থ পাচার এবং তদন্ত সংস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দ্যেশে ব্যবহার করার পথ খুলে দিয়েছে।'
ইডির ক্ষমতায়ন 'ভয়ঙ্কর', যৌথ বিবৃতি পেশ ১৭ বিরোধী দলের

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি-র (Enforcement Directorate) অতিরিক্ত ক্ষমতাপ্রদান নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) রায়কে 'ভয়ঙ্কর' আখ্যা দিয়েছে বিরোধীরা। বিরোধী শিবিরের ১৭ টি দল এই নিয়ে এক যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করলো। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'আশা করব এই ভয়ঙ্কর রায় ক্ষণস্থায়ী হবে এবং সাংবিধানিক বিধি রক্ষিত হবে।'

বুধবার জারি করা ওই যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'আমরা শীর্ষ আদালতকে সম্মান করি এবং তা করবো। তবে, আমরা বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, এই রায়টি দেওয়ার ক্ষেত্রে আদালতের একটু সময় নেওয়া দরকার ছিল। কারণ সাংবিধানিকভাবে অর্থ আইনের সংশোধিত কিছু বিষয়ের সঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন ছিল। এই রায় সরকারের হাতকে মজবুত করেছে। এটি (আদালতের রায়) বিরোধীদের উপর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, অর্থ পাচার এবং তদন্ত সংস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দ্যেশে ব্যবহার করার পথ খুলে দিয়েছে।'

 যৌথ বিবৃতি
যৌথ বিবৃতি

আর্থিক কেলেঙ্কারি মামলায়, PMLA আইনে অভিযুক্তদের গ্রেফতার, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত বা তল্লাশি চালানোর জন্য ইডিকে ছাড়পত্র দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ২৭ জুলাই, এ নিয়ে একটি রায় দিয়েছে বিচারপতি এএম খানউইলকরের ডিভিশন বেঞ্চ।

তবে, গত ২৯ জুলাই অবসর নেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এ এম খানউইলকর। অবসরের দু'দিন আগে বিচারপতি এ এম খানউইলকরের ওই রায় নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে। আইনজীবীদের একাংশের বক্তব্য, ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ কোন পদ পাওয়ার আশাতেই অবসরের আগে ওই রায় দিয়েছেন তিনি।

ED-কে অতিরক্ত ক্ষমতা প্রদান নিয়ে যে দলগুলি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, তাদের মধ্যে রয়েছে - কংগ্রেস, সিপিআই (এম), সিপিআই, রাষ্ট্রীয় জনতা দল, রাষ্ট্রীয় লোকদল, সমাজবাদী পার্টি, আম আদমি পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেস, ডিএমকে, শিবসেনা, এনসিপি।

প্রসঙ্গত, PMLA আইনের আওতায় ইডির ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা হয়। আবেদনকারীরা আদালতে জানায়, কোনও ব্যক্তিকে গ্রেফতারির কারণ না জানিয়ে গ্রেফতার করা অসাংবিধানিক। কিন্তু, আদালত মামলা খারিজ করে জানায়, ED-র গ্রেপ্তারির পদ্ধতিটি স্বেচ্ছাচারী নয়।

আদালতের এক্ষেত্রে বক্তব্য, এনফোর্সমেন্ট কেস ইনফরমেশন রিপোর্ট (ECIR) হল ইডির অভ্যন্তরীণ নথি। প্রাথমিক তথ্য প্রতিবেদনের (FIR) সঙ্গে তা সমান নয়। সেই কারণে, PMLA-র অধীনে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে অভিযুক্তকে ECIR সরবরাহ করা মোটেও বাধ্যতামূলক নয়।

-With IANS Inputs

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in