ট্রাম্পের শুল্কনীতিকে 'বেআইনি' অ্যাখ্যা আমেরিকার আদালতের! তবে এখনই নয় স্থগিতাদেশ

People's Reporter: তবে মনে করা হচ্ছে, এর রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তেমনই ইঙ্গিত মিলেছে ট্রাম্পের কথায়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্পছবি - সংগৃহীত
Published on

দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে প্রবেশের পর বিভিন্ন দেশের পণ্যের উপর চড়া হারে শুল্ক আরোপ করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার ট্রাম্পের সেই শুল্কনীতিকে 'বেআইনি' বলল আমেরিকার এক আপিল আদালত। তবে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের উপর এখনও স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়নি। আগামী ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। তবে মনে করা হচ্ছে, এর রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেখানে শুল্কনীতিকে বেআইনি বললে, শুল্ক প্রত্যাহার করতে হবে হোয়াইট হাউসকে।

শুক্রবার আমেরিকার ফেডেরাল সার্কিটের আপিল আদালতে শুল্কনীতি সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল। আদালত নিম্ন আদালতের রায়কেই বহাল রেখেছে। আপিল আদালতের পর্যবেক্ষণ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর জরুরী অর্থনৈতিক ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন দেশের উপরে শুল্ক আরোপ করছেন। কিন্তু এরফলে তিনি নিজের কর্তৃত্বের সীমা অতিক্রম করে গিয়েছেন। তবে আপাতত স্থগিত করা হয়নি এই শুল্কনীতি। জানিয়েছে, আপাতত অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এই শুল্কই বহাল থাকবে। এরপর এইয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে গত মে মাসে আমেরিকার নিম্ন আদালত জানিয়েছিল, এই আইন ব্যবহার করতে গিয়ে কর্তৃত্বের সীমা ছাড়িয়েছেন ট্রাম্প। আপিল আদালতের এই রায়ের পর সেটাকে চ্যালেঞ্জ করে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টে আপিল করতে পারেন ট্রাম্প। তেমনই ইঙ্গিত মিলেছে ট্রাম্পের কথায়।

এরপর থেকে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কেন ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে বেআইনি বলল আদালত? সুপ্রিম কোর্টেো যদি আপিল আদালতের সঙ্গে একমত হয়, তাহলে কী হবে? কোন আইনের উপর ভিত্তি করে ট্রাম্প শুল্কযুদ্ধে নেমেছেন?

১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনকে (আইইইপিএ) ঢাল করেছেন ট্রাম্প। গত এপ্রিল মাসে তিনি দাবি করেছিলেন, একাধিক দেশের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্যক ঘাটতি রয়েছে। বন্ধু বা শত্রু, সকলেই সেই নীতির সুযোগ নিচ্ছে। এর ফলে সমস্যায় পড়ছেন মার্কিন উৎপাদনকারীরা। ফলে জাতীয় অর্থনৈতিক জরুরী অবস্থা ঘোষণা করে শুল্কনীতি শুরু করেছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকার বেআইনি অভিবাসন ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে এই আইনের মাধ্যমেই শুল্ক আরোপ করা হয় মেক্সিকো, কানাডা এবং চিনের উপর।

আইইইপিএ অনুযায়ী, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বিশেষ এক ধরনের ক্ষমতা পান। যার মাধ্যমে তিনি অর্থনৈতিক জরুরী অবস্থা ঘোষণা করে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন লেনদেন। আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা, বিদেশ নীতি এবং অর্থনীতিকে রক্ষা করতে প্রেসিডেন্ট একাধিক পদক্ষেপ করতে পারেন। এমনকি বাইরের কোনও উৎস যদি আমেরিকার অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের হয়ে দাঁড়ায়, তার বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করতে পারবে প্রেসিডেন্ট।

অতীতে একাধিক বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই আইনকে ব্যবহার করেছেন নিষেধাজ্ঞা আরোপ, রফতানি নিয়ন্ত্রণ এবং লেনদেন সীমিত করার ক্ষেত্রে। তবে এই আইনকে ঢাল করে বিভিন্ন দেশের উপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করা হয়নি। প্রাক্তন অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কেলি আন শ-কে উদ্ধৃত নিউ ইয়র্ক টাইমস এই তথ্য দিয়েছে।

এই নিয়ে প্রথম থেকেই ট্রাম্পকে সাবধান করেছন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানিয়েছেন, এর আগে শুল্ক আরোপের জন্য ১৯৬২ সালের বাণিজ্য আইনের ২৩২ ধারাকে ব্যবহার করেছেন। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সেই শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। এবার প্রশ্ন উঠছে, দুটি আইন আলাদা কোথায়! ১৯৬২ সালের আইনে শুল্ক আরোপের আগে ২৭০ দিনের নির্দিষ্ট তদন্ত এবং রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। যেখানে মার্কিন অর্থনীতি সত্যিই সঙ্কটে কিনা, তা দেখা হয়।

অভিযোগ ওঠে, ১৯১৭ সালের বাণিজ্য আইনের মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে যে জরুরী ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, তা অপব্যবহার করা হচ্ছিল। যা সীমিত করার জন্য মার্কিন কংগ্রেস আইইইপিএ পাশ করে।

তবে আপিল আদালতের রায়কে সমাজমাধ্যমে ভুল বলে উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘সমস্ত শুল্কই এখনও বহাল রয়েছে। আপিল আদালত জানিয়েছে আমাদের শুল্ক তুলে নেওয়া উচিত, এটা ভুল। কিন্তু ওরাও জানে, শেষ পর্যন্ত আমেরিকা জিতবে।’’

শুল্ক তুলে নিতে হলে তা দেশের জন্য ‘বিপর্যয়’ ডেকে আনবে বলে মনে করেন প্রেসিডেন্ট। তাঁর কথায়, ‘‘যদি এই শুল্ক কখনও তুলে নিতে হয়, তা আমেরিকার জন্য বিপর্যয় হবে। আমরা অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়ব।’’ ট্রাম্প আরও বলেছেন, ‘‘বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি আমেরিকা আর সহ্য করবে না। অনৈতিক, একতরফা শুল্কও সহ্য করা হবে না। অন্যান্য দেশ আমাদের উপর ইচ্ছামতো শুল্ক আরোপ করে আমাদের উৎপাদনকারীদের এত দিন ঠকিয়ে এসেছে। যদি আপিল আদালতের এই রায় বহাল থাকে, তবে তা আমেরিকাকে ধ্বংস করে দেবে।’’

স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

Related Stories

No stories found.
logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in