২০০৯ - এর পর গ্রিনল্যান্ডে পুনরায় বিজয় বামপন্থীদের

আগেরবার বামপন্থী বিজয়কে অর্থনৈতিক মহামন্দার প্রেক্ষিতে একটি আকস্মিক ঘটনা মনে করা হয়েছিল। এইবারের নির্বাচন বুঝিয়ে দিল, বামপন্থীরা গ্রিনল্যান্ডের রাজনীতিতে থাকতেই এসেছেন।
২০০৯ - এর পর গ্রিনল্যান্ডে পুনরায় বিজয় বামপন্থীদের
ছবি- দ্য গার্ডিয়ান

গত ৬-ই এপ্রিল গ্রিনল্যান্ডের নির্বাচনে বামপন্থী দল ইনুই আতাকাচি (Inuit Ataqatigiit) ৩৭% ভোট ও ৩১-টি আসনের মধ্যে ১২-টি আসন লাভ করে বিজয়ী হয়েছে। গ্রিনল্যান্ডের রাজনীতি চিরকালই বামঘেঁষা। সত্তরের দশক থেকে গ্রিনল্যান্ডের নির্বাচনী ক্ষেত্রে দল হিসেবে মধ্য-বাম সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট সিউমু (Siumut) ও দক্ষিণপন্থী আতাসসু (Atassut)– এই ছিল প্রধান দুই শক্তি। ইনুই আতাকাচি তৈরি হয়েছিল বিশ্বজুড়ে অগ্নিগর্ভ সত্তরের দশক যে নতুন বামপন্থী হাওয়া বয়ে আনে তার অংশ হিসেবে। কিন্তু দল গঠিত হওয়ার পর দীর্ঘদিন প্রধান দুই দলের প্রতি কোন অর্থবহ চ্যালেঞ্জ তারা নির্মান করতে সক্ষম হয়নি। একবিংশ শতক থেকে ক্রমশ বিশ্বায়ন বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে এই বামপন্থী দলটি তার শক্তি অর্জন করতে থাকে ও ২০০৯ সালে বিশ্ব অর্থনৈতিক মহামন্দার প্রেক্ষিতে প্রথম গ্রিনল্যান্ডে সরকার গঠন করে। বিকল্পনীতি ও কর্মপদ্ধতি অনুসরণ করলেও অভিবাসন প্রশ্নে উদার অবস্থান গ্রহণের মূল্য ইনুই আতাকাচিকে দিতে হয় ও তারা ক্ষমতাচ্যুত হন।

সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট সিউমু দল ২০১৩ থেকে ২০২১ গ্রিনল্যান্ডে ক্ষমতায় থাকাকালীন বামপন্থীদের বহু জনপ্রিয় পলিসিই নাকচ করে দেয়। তাকে ঘিরেই প্রাথমিকভাবে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন বামপন্থীরা। তবে এইবারের নির্বাচনে নির্ধারক ইস্যু ছিল খনি। দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডে বিরল-মৃত্তিকা খনিজ ও ইউরেনিয়ামের বিপুল ভাণ্ডার রয়েছে। সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা চৈনিক মালিকানার অস্ট্রেলিয়ান খনি কোম্পানি গ্রিনল্যান্ড মিনারেলসকে এই ভাণ্ডার খনন করার অধিকার দেওয়ার পক্ষপাতি। বামপন্থীরা এর ফলে পরিবেশ ও স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের যে বিপুল ক্ষতিসাধন হবে, তার ভিত্তিতে এর বিরোধিতা করে এসেছিলেন। এই নির্বাচনের ফলাফলকে সেই প্রেক্ষিতে বাম অবস্থানের বিজয় হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল। বামপন্থী ইনুই আতাকাচির চেয়ারম্যান ইগেল বলেছেন তাঁদের মূল ইস্যু ছিল জীবনযাত্রার মান, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ। তাঁরা প্রচার করেছিলেন পর্যটন ও কৃষি ব্যবস্থার উন্নতির দ্বারাইঅর্থনীতি চাঙ্গা হতে পারে। মানুষ সেই ভিত্তিতেই তাঁদের নির্বাচিত করেছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন তাঁরা খনন কার্যের বিরোধী না, কিন্তু সেটি স্থানীয় মানুষের সদিচ্ছা বা পরিবেশ – এই দুইকে এড়িয়ে কখনই না।

কোন ছোট দলের সঙ্গে জোট বেঁধে সরকার গড়বে বামপন্থীরা তা এখনও স্পষ্টনয়। তবে যেভাবেই সরকার হোক, গ্রিনল্যান্ডের রাজনীতি একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করল বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। আগেরবার বামপন্থী বিজয়কে অর্থনৈতিক মহামন্দার প্রেক্ষিতে একটি আকস্মিক ঘটনা মনে করা হয়েছিল। এইবারের নির্বাচন বুঝিয়ে দিল, বামপন্থীরা গ্রিনল্যান্ডের রাজনীতিতে থাকতেই এসেছেন।

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in