Britain: বরিসের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কে? দৌড়ে এগিয়ে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঋষি সুনক

যৌন কেলেঙ্কারি–সহ একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ২০১৯ সালে ক্রিস পিনচার নামে বর্ষীয়ান এক রাজনীতিককে বড় পদে বসান বরিস জনসন। বরিস দাবি করেন, পিনচারের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা কিছুই জানতেন না তিনি।
ঋষি সুনক
ঋষি সুনকছবি - সংগৃহীত

যৌন কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে উত্তাল ব্রিটেন। বাধ্য হয়ে মসনদ ছাড়তে চলেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। গত মঙ্গলবার মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন ব্রিটেনের চারজন মন্ত্রী। এদের মধ্যে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনকও রয়েছেন। জানা যাচ্ছে, বরিসের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পদে লড়তে পারেন ঋষি সুনক। আর তা হলে, তিনিই হবেন প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত যিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হবেন।

কে এই ঋষি সুনক ?

২০২০ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে, ব্রিটেনের অর্থমন্ত্রী (চ্যান্সেলর অব দ্য এক্সচেকার) হন ঋষি সুনক। মহামারী করোনাকালে মানুষের চাকরি বাঁচানোর জন্য সরকারি প্রকল্পে কয়েক বিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের একটি বিশাল প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন ঋষি। এ জন্য ব্রিটেনে বিপুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন তিনি।

ঋষি'র ডাকনাম- 'ডিশি', বয়স ৪২ বছর। বাড়ি - পাঞ্জাবে। ২০১৫-য় ইয়র্কশায়ারের রিচমন্ডের আইনসভার টোরি সদস্য হিসেবে প্রথম বার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রবেশ করেন তিনি। এরপর তিনি ট্রেজারির চিফ সেক্রেটারি হন।

ঘটনাচক্রে তিনি আবার ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এন আর নারায়ণ মূর্তির জামাই। এই কোম্পানির অন্যতম শেয়ার হোল্ডার হলেন ঋষি সুনকের স্ত্রী অক্ষতা মূর্তি (Akshata Murty)। ইনফোসিসের ০.৯১ শতাংশ শেয়ারের মালিক হলেন তাঁর স্ত্রী অক্ষতা। ২০২০ সালের শেষের দিকে কোম্পানিতে তার আর্থিক হোল্ডিং প্রায় ৪৩০ মিলিয়ন পাউন্ড, অর্থাৎ চার হাজার ৩২২ কোটি টাকা।

কি জন্য ব্রিটেনে টালমাটাল পরিস্থিতি?

জানা যাচ্ছে, যৌন কেলেঙ্কারি–সহ একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ২০১৯ সালে ক্রিস পিনচার নামে বর্ষীয়ান এক রাজনীতিককে বড় পদে বসান বরিস জনসন। এই বিষয়ে বরিস দাবি করেন, পিনচারের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা কিছুই জানতেন না তিনি। কিন্তু মঙ্গলবার, সরকারি মুখপাত্র সাইমন ম্যাক-ডোনাল্ড দাবি করেন, জনসন মিথ্যা কথা বলেছেন। যা নিয়ে শোরগোল উঠতেই প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইস্তফা দিয়েছেন ব্রিটেনের চার মন্ত্রী। পরে, তালিকা দীর্ঘ করে ব্রিটেনে প্রায় ৬০ জন এমপি পদত্যাগ করেছেন বলে জানা যাচ্ছে।

গত মঙ্গলবার, প্রধানমন্ত্রী বরিসকে দেওয়া ইস্তফাপত্রের সঙ্গে টুইটে ঋষি লেখেন, ‘জনগণ আশা করে সরকার সঠিকভাবে, দক্ষতার সঙ্গে এবং গুরুত্ব সহকারে পরিচালিত হবে।’ এরপরই তাঁর সংযোজন, ‘অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, আমরা এ ভাবে এক সঙ্গে চলতে পারি না।’ সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘এটা এখন আমার কাছে স্পষ্ট যে, আমরা মৌলিকভাবেই ভিন্ন পথের পথিক।’

ইস্তফাপত্র পাওয়ার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ঋষিকে চিঠি লিখে জানান, 'জন পরিষেবায় আপনার গভীর অঙ্গীকার এবং সরকার পরিচালনায় আপনার বিবিধ পরামর্শে আমি অত্যন্ত উপকৃত হয়েছি। সরকারে আপনার সঙ্গে কাজ না করতে পারা অনুভূত হবে।'

দু'দিন না পেরোতেই, ব্রিটেনে ক্ষমতার কেন্দ্র পাল্টাতে শুরু করেছে।

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in