France: করোনার চতুর্থ ঢেউ-এর থাবা, গত একসপ্তাহে সংক্রমণ বৃদ্ধির হার প্রায় ১২৫%

ফ্রান্সের সরকারি মুখপাত্র আট্টালের জানিয়েছেন – গত ১ সপ্তাহে সংক্রমণ বৃদ্ধির হার প্রায় ১২৫%। যে বৃদ্ধি খুবই দ্রুত ও আচমকা হচ্ছে। আমাদের দেশে অতিমারীর শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত এই হারে বৃদ্ধি আমরা দেখিনি।
France: করোনার চতুর্থ ঢেউ-এর থাবা, গত একসপ্তাহে সংক্রমণ বৃদ্ধির হার প্রায় ১২৫%
ছবি প্রতীকী সংগৃহীত

ফ্রান্সে থাবা বসালো করোনার চতুর্থ ঢেউ। ফ্রান্সের সরকারি মুখপাত্র গ্যাব্রিয়েল আট্টাল জানিয়েছেন দ্রুত গতিতে কোভিড-১৯ সংক্রমণ বেড়ে চলার ঘটনায় উদ্বিগ্ন প্রশাসন। সোমবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে আট্টাল জানিয়েছেন – এর আগের সমস্ত সংক্রমণের থেকে এবার সংক্রমণ অনেক দ্রুত হারে বাড়ছে।

ফ্রান্সের সরকারি মুখপাত্র আট্টালের বক্তব্য অনুসারে – গত একসপ্তাহে সংক্রমণ বৃদ্ধির হার প্রায় ১২৫%। যে বৃদ্ধি খুবই দ্রুত এবং আচমকা হচ্ছে। আমাদের দেশে অতিমারীর শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত এই হারে বৃদ্ধি আমরা দেখিনি। প্রায় প্রতিদিন এখন আমাদের দেশে ১০ হাজারের বেশি পজিটিভ কেস ধরা পড়ছে। আলোকের গতিতে সংক্রমণ বেড়ে চলেছে। তিনি আরও জানান, ফ্রান্সে মোট সংক্রমণের ৮০ ভাগের বেশি ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ। সংবাদ সংস্থা জিংহুয়াতে এই সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

ওই প্রতিবেদন অনুসারে ফ্রান্সে মোট সংক্রমণ এবং মৃত্যু সংখ্যা বর্তমানে যথাক্রমে ৫৯,৩১,৯২৩ এবং ১,১১,৬৭৮। গত ১২ জুলাই থেকে সংক্রমণের হার বেড়েছে। আগে যেখানে প্রতি ১ লাখে সংক্রমিত হচ্ছিলেন ১২ থেকে ৩৭ জন সংক্রমিত হচ্ছিলেন সেখানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০-এর বেশি।

আট্টাল জানিয়েছেন, সংক্রমণ বেশি হচ্ছে প্যারিস সংলগ্ন অঞ্চলে। যেখানে বহু পর্যটক আসছেন। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে বিদেশ দপ্তরকে সতর্ক করা হয়েছে।

এর আগে গত সোমবার ফরাসী মন্ত্রীসভার এক বৈঠকে কোভিড সংক্রমণ আটকাতে এক নতুন বিল আনা হয়েছে। এছাড়াও টিকাকরণ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রন।

নতুন এই বিল অনুসারে যে কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গেলে হেলথ পাস থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আগামীকাল বুধবার থেকে এই নিয়ম জারি হবে। শুধুমাত্র যাদের টিকাকরণ সম্পূর্ণ হয়েছে অথবা যাদের পিসিআর টেস্ট নেগেটিভ এসেছে তাঁরাই এই হেলথ পাস পাবেন।

দেশের সমস্ত বার, রেস্তোরাঁ, শপিং সেন্টারে যেতেও এই পাস লাগবে। হেলথ পাস ছাড়া প্রথমবার কেউ ধরা পড়লে সাধারণ মানুষকে ১৫০০ ইউরো জরিমানা দিতে হবে। যদি তিনি কোনো সরকারি ব্যক্তি হন তাঁর ক্ষেত্রে ফাইনের পরিমাণ ৭৫০০ ইউরো। সাধারণের ক্ষেত্রে হেলথ পাস ছাড়া তৃতীয় বার ধরা পড়লে ৯০০০ ইউরো ফাইন এবং এক বছরের কারাদন্ড ভোগ করতে হবে। সরকারি আধিকারিকদের ক্ষেত্রে ১ বছরের কারাদন্ড এবং ৪৫ হাজার ইউরো জরিমানা দিতে হবে। এছাড়াও যাদের করোনা পজিটিভ ধরা পড়বে তাঁদের ১০ দিন সম্পূর্ণ আইসোলেশনে থাকতে হবে।

গতকালের বিবৃতিতে টিকাকরণে ঘাটতির কথা স্বীকার করে নিয়েছেন সরকারি মুখপাত্র। তিনি জানিয়েছেন দেশের ৪৫.৭% মানুষের সম্পূর্ণ টিকাকরণ হয়েছে। সংখ্যার হিসেবে যা দাঁড়ায় ৩০.৭৯ মিলিয়ন।

- with inputs from IANS

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in