Bangladesh: অরাজকতা সৃষ্টিকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবে সরকার - শেখ হাসিনা

হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে এই ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচার দাবি করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (CPB)। একই সাথে ৮ বামপন্থী সংগঠনের বাম গণতান্ত্রিক জোট-এর পক্ষ থেকে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
Bangladesh: অরাজকতা সৃষ্টিকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবে সরকার - শেখ হাসিনা
বাম গণতান্ত্রিক জোটের প্রতিবাদ কর্মসূচিছবি - জি কে সাদিক

কুমিল্লাসহ সারাদেশে পূজামণ্ডপে ও মন্দিরে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার বিকেলে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপে ভক্তদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

তিনি বলেন, পূজামণ্ডপে অরাজকতা সৃষ্টিকারীদের সরকার আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবে। সম্প্রতি কুমিল্লায় যে ঘটনা ঘটেছে, সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং সার্বক্ষণিকই আমরা যোগাযোগ রাখছিলাম। এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং যেখানে যেখানে যারাই এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটাবে, সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের খুঁজে বের করা হবে। এটা আমরা অতীতেও করেছি এবং সেটা আমরা করতে পারব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যথাযথ শাস্তি তাঁদের দিতে হবে। মানে এমন শাস্তি, যেন ভবিষ্যতে আর কেউ সাহস না পায়, সেটাই আমরা চাই।’

এদিকে কুমিল্লায় ঘটনার খবরটি খতিয়ে দেখছে সরকার। গতকাল এক তথ্যবিবরণীতে সরকারের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়েছে।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে এক তথ্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, কুমিল্লায় পবিত্র ধর্মগ্রন্থ অবমাননা সংক্রান্ত খবরটি সরকারের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ঘটনা খতিয়ে দেখার জন্য ইতিমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে যদি কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকে, তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইন হাতে তুলে না নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামন খান বৃহস্পতিবার দুপুরে জানিয়েছেন, কুমিল্লার ঘটনায় কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। শিগগিরই তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।

জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ উসকানি দিলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও গুজব ছড়ানো হচ্ছে। যারা এসব অপচেষ্টা করছে ও করবে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

ছবি - জি কে সাদিক

বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভকারীদের সাথে মণ্ডপের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও টিয়ার শেল ছোঁড়ে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

কুমিল্লায় হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় ৩৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার ঘটনার পর থেকে আজ বৃহস্পতিবার ভোররাত পর্যন্ত তাঁদের আটক করা হয়। কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, পূজামণ্ডপে কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা খোঁজার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে জেলার সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত আছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এ ঘটনার তদন্ত চলছে।

নানুয়ার দিঘির ঘটনার জেরে কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিজিবি ও র‍্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া জেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে আর্মড পুলিশ দেওয়া হয়েছে। গতকালের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।

ছাত্র ইউনিয়নের মশাল মিছিল
ছাত্র ইউনিয়নের মশাল মিছিলছবি - জি কে সাদিক

বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শহরের নানুয়ারদীঘি এলাকার একটি পূজামণ্ডপকে ঘিরে বুধবার (১৩ অক্টোবর) দিনব্যাপী শহর জুড়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং দফায় দফায় হামলার ঘটনা ঘটে।

সকাল দশটা নাগাদ একটি ছবি ব্যাপক ভাবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়াতে থাকে। অনেকে এটি দিয়ে নানা ধরণের লাইভ বক্তব্য দিয়ে ধর্মগ্রন্থ অবমাননার অভিযোগ করতে থাকেন। এই খবর খুব দ্রুত ছড়িয়ে পরে। অনেকে প্রতিবাদ করতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে সেখান থেকে হামলা শুরু হয়।

'নিপীড়নের বিরুদ্ধে শাহবাগ' নামক একটি ব্যানারে বিভিন্ন প্রগতিশীল মানুষের প্রতিবাদ কর্মসূচি।
'নিপীড়নের বিরুদ্ধে শাহবাগ' নামক একটি ব্যানারে বিভিন্ন প্রগতিশীল মানুষের প্রতিবাদ কর্মসূচি।ছবি - জি কে সাদিক

সারাদেশের অবস্থা

কুমিল্লার এই ঘটনায় ইতোমধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জে উপজেলায় একাধিক পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিন যুবক ও এক কিশোর নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে তিনজন বুধবার রাতে ও একজন বৃহস্পতিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে মারা যান।

সংঘর্ষের ঘটনার পর হাজীগঞ্জ পৌর এলাকায় বুধবার রাত ১২টার পর থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ঘটনা তদন্তে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এছাড়াও দুর্গাপূজা ও হিন্দু মন্দিরগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করতে ইতোমধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। কুমিল্লা, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জসহ ২২টি জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবাদ

ধর্মগ্রন্থ অবমাননার ঘটনায় কুমিল্লাসহ সারাদেশে হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনগুলো। এছাড়াও হামলার ঘটনায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও নাগরিক সমাজও সোচ্চার হয়েছে।

হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে এই ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচার দাবি করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। একই সাথে ৮টি বামপন্থী সংগঠনের জোট- বাম গণতান্ত্রিক জোট- এর পক্ষ থেকেও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

ছাত্র সংগঠনগুলো মধ্যে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলসহ বিভিন্ন প্রগতিশলী বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলো প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ সমাবশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.