Bangladesh: করোনার ধাক্কা - পর পর তিন মাস ধরে ব্যাঙ্কে কমেছে রেমিট্যান্স
ছবি প্রতীকী ছবি সৌজন্য - জি কে সাদিক

Bangladesh: করোনার ধাক্কা - পর পর তিন মাস ধরে ব্যাঙ্কে কমেছে রেমিট্যান্স

বাংলাদেশে করোনা মহামারির মধ্যেও দেড় বছর ধরে রেমিট্যান্স প্রবাহ ভালো ছিল। মহামারির সংকটের সময়ে প্রবাসীরা রেকর্ড পরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছেন। কিন্তু হঠাৎ ছন্দপতন। পর পর তিন মাস রেমিট্যান্স প্রবাহ কমছে।

বাংলাদেশে করোনা মহামারির মধ্যেও দেড় বছর ধরে রেমিট্যান্স প্রবাহ ভালোই ছিল। মহামারির সংকটের সময়েও প্রবাসীরা রেকর্ড পরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছেন। কিন্তু হঠাৎ ছন্দপতন ঘটেছে। পর পর তিন মাস রেমিট্যান্স প্রবাহ কমছে।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ৫৪০ কোটি ৭৮ লাখ ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা এর আগের অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে আসা রেমিট্যান্সের তুলনায় ১৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ কম। ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৬৭১ কোটি ৩২ লাখ ডলার।বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ করা পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত অর্থবছরের পুরোটা সময় আগের বছরের চেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। কিন্তু চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে হঠাৎ রেমিট্যান্স কমে গেছে। এই ধারাবাহিকতা আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসেও দেখা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের তুলনায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রবাসীরা ৪২ কোটি ডলার কম পাঠিয়েছেন। গত সেপ্টেম্বর মাসে তারা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১৭২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ২১৫ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত ৫ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর - এই তিন মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৫৪০ কোটি ৮০ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ে (২ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর) পাঠিয়েছিলেন ৬৭১ কোটি ৩০ লাখ ডলার। অর্থাৎ গত অর্থবছরের তুলনায় প্রবাসী আয় কমেছে ১৩০ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি বছরের জুলাইয়ে দেশে ১৮৭ কোটি ১৪ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা জুনের চেয়ে ৬ কোটি ৯৩ লাখ ডলার কম এবং আগের বছরের (২০২০ সালের জুলাই) একই সময়ের তুলনায় ২৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ কম। গত বছর জুলাইয়ে এসেছিল ২৫৯ কোটি ৮২ লাখ ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব বলছে, গত আগস্টে এসেছে ১৮১ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৫ কোটি ডলার কম। ২০২০ সালের আগস্টে এসেছিল ১৯৬ কোটি মার্কিন ডলার।

এদিকে হঠাৎ প্রবাসী আয় কমে যাওয়াকে নানাভাবে বিশ্লেষণ করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক ড. জায়েদ বখত বলেন, ‘লকডাউন চলাকালে উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ ছিল। তখন হুন্ডিও বন্ধ হয়ে যায়। প্রবাসীরা বাধ্য হয়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। কিন্তু গত কয়েকমাস ধরে উড়োজাহাজ চলতে শুরু হওয়ায় আবার হুন্ডি বেড়েছে। তবে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে অনেক দেশে এখনও লকডাউন চলছে। এতেও প্রবাসীদের আয় কমেছে।’

অর্থনীতিবিদদের অনেকেই বলছেন, গত দেড় বছরে অস্বাভাবিক রেমিট্যান্স বৃদ্ধির কারণ ছিল সরকারের ২ শতাংশ প্রণোদনা। এ ছাড়া করোনার কারণে অনেকে চাকরি হারিয়ে যাবতীয় সঞ্চয় নিয়ে দেশে ফিরে এসেছিলেন বলেও রেমিট্যান্স বেড়েছিল।

গেলো আগস্ট মাসে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়ে ছিলেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর সরকারের দেওয়া প্রণোদনার হার বাড়ছে না। এ মুহূর্তে রেমিট্যান্সে প্রণোদনা বাড়ানোর কোনো চিন্তা নেই। অবশ্য প্রণোদনা বন্ধের কারণে রেমিট্যান্স কমেছে এটা মানতে নারাজ অর্থমন্ত্রী।

তিনি জানান, আমার মনে হয় রেমিট্যান্সের উপর ২ শতাংশ ইনসেনটিভ (প্রণোদনা) ঠিক আছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এ মুহূর্তে বাড়াচ্ছি না। ইনসেনটিভের ক্ষেত্রে রেভিনিউ এলাকায় নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে পারি কি-না সেটা আমরা দেখব।'

সরকারের প্রণোদনা বন্ধ ও রেমিট্যান্স কমে যাওয়া নিয়ে এক সংলাপে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য বলেছিলেন, ‘রেমিট্যান্সের যে জাদু সেটি সম্ভবত শেষ হতে চলেছে। কারণ, মানুষ বিদেশে গেছে কম, এসেছে বেশি। সরকারি প্রণোদনার কারণে হুন্ডি ছেড়ে মানুষ ব্যাংকিং খাতে টাকা পাঠিয়েছিল। এ অবস্থায় জাদু শেষ হয়ে যাচ্ছে কিনা সেটিই বোঝার বিষয়।’

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.