“গিয়াছে ভাঙ্গিয়া সাধের বীণাটি…”

কবি কামিনী রায়ের জন্মদিনে গুগল ডুডল এ শ্রদ্ধার্ঘ্য
“গিয়াছে ভাঙ্গিয়া সাধের বীণাটি…”
কবি কামিনী রায়ছবি গুগল থেকে সংগৃহীত

(কবি কামিনী রায়ের জন্মদিনে ডুডলের মাধ্যমে বিশেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছে গুগল। তাঁকে স্মরণে রেখে পিপলস রিপোর্টারের বিশেষ প্রতিবেদন।)

কথাটি তো কবেই ফুরিয়েছে। নোটে গাছটি কিন্তু একটুও মুড়িয়ে যায়নি। দিব্য স্নেহের শাসন। আজকের ভোগবাদী দুনিয়ার আমরা যারা পণ্য পৃথিবীতে সুখ খুঁজে মরি, তাদের নোটেগাছটি কিছু অক্সিজেন যোগাবার ছলে বলে যায়,” সুখ সুখ করি কেঁদোনা আর / যতই কাঁদিবে যতই ভাবিবে / ততই বাড়িবে হৃদয় ভার।”

মানুষটির মৃত্যু হয়েছিলো 1933 এ । ছিয়াশি বছর অতিক্রান্ত। আর জন্ম আজকের দিনে। 12 অক্টোবর 1864। কবি কামিনী রায়।
কথা বলছি ভারতবর্ষের প্রথম অনার্স গ্রাজুয়েট মেয়ে সম্পর্কে। 1886 তে। সংস্কৃতে সাম্মানিক। ঐ বছরই বেথুন স্কুলে পড়াতে শুরু করলেন। পাঁচ বছর পরে বেথুন কলেজে অধ্যাপনা। মেয়েদের পড়াশোনা শেখা, স্বনির্ভর হয়ে ওঠার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কামিনী রায় যে খুব সিরিয়াসলি ভেবেছেন ও ভাবাতে চেয়েছেন, বোঝা যায় যখন তিনি ‘ Some Thoughts on the education of our women ‘ বা ‘ বালিকা শিক্ষার আদর্শ – অতীত ও বর্তমান ‘ এর মত প্রবন্ধ লেখেন।

রবীন্দ্র সমকালের মানুষ কামিনী রায়। কবির সঙ্গে দিব্য একটা অম্লমধুর সম্পর্ক ছিলো। 1900 সালে 5 অক্টোবর প্রিয়নাথ সেনকে লেখা একটি চিঠিতে কামিনী রায়ের ‘আলো ও ছায়া’, ‘পৌরাণিকী ‘ কাব্যগ্রন্থ নিয়ে রবীন্দ্রনাথ আলোচনা করেছেন। তাঁর মনে হয়েছিলো, “লেখিকার ভাব, কল্পনা এবং শিক্ষা আছে, কিন্তু তাঁর লেখনীতে ইন্দ্রজাল নেই, তাঁর ভাষায় সঙ্গীতের অভাব।” আর কামিনী রায়ের মনে হয়েছিলো রবি ঠাকুরের কবিতা পড়ে, কিছু যেন একটা নেই তাঁর কবিতায়। সেকথা লিখেছিলেন মন্মথ ঘোষকে “কিন্তু কেবল এইগুলি দিয়াই হৃদয় পরিতৃপ্ত হয়না, আরও কিছু চাই”। এই পারস্পরিক চাওয়া এবং না পাওয়ার নিস্পত্তিটা কিন্তু বড় মধুর। কামিনীর কথায় বলি ? ”আমার মনে হয় আমি কিছু অকালপক্ব ছিলাম। কতকগুলি বিষয় আমি রবীন্দ্রনাথের পূর্বেই লিখিয়াছি। কিন্তু তিনি যখন লিখিয়াছেন অনেক সুন্দর করিয়া লিখিয়াছেন ”

একটু অন্য কথা বলে শেষ করবো। আজকের প্রাত্যহিক জীবনে কটা চেনা শব্দ। হতাশা, বিষণ্ণতা, আত্মহত্যা, হেরে যাওয়া ,.. । যদি দাবি করি, ব্লু হোয়েল গেম খেলে যে কিশোর আত্মহননের পথ বেছে নিলো, সে যদি শুধু কামিনী রায় পড়তো? যে মেয়েটা মায়ের সামান্য বকুনি সহ্য করতে না পেরে গলায় ফাঁস লাগালো সে যদি কামিনী রায়ের কবিতা আত্মস্থ করতে পারতো ! অন্যরকম কিছু হতে পারতনা ?

স্বামী কেদারনাথ রায় মারা গেলেন আকস্মিক দুর্ঘটনায়। প্রাণের ধন পুত্র অশোকের মৃত্যু হল তার পাঁচ বছর পরে। তারপরে কন্যা লীলার মৃত্যু। আর সব হারিয়েও এক মেয়ে লড়াই করে যাচ্ছেন একা। লিখছেন, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সহ সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। “সকলের তরে সকলে আমরা / প্রত্যেকে আমরা পরের তরে ।”
মেয়েটির নাম যে কামিনী রায়।

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in