প্রপিতামহীর দস্যিকালের কথা

প্রপিতামহীর দস্যিকালের কথা
রাজা রামমোহন রায়গ্রাফিক্স - সুমিত্রা নন্দন

প্রপিতামহীর দস্যিকালের কথা নিজেই বলেছিলো একদিন। কোনো কদবেল মাখা দুপুরে। তখন তার শীর্ণ ঠান্ডা গায়ে গা লাগিয়ে বসতে এত আরাম লাগতো! আমাকে ডাকতো ‘মা গো’ বলে। সে আমার শৈলবালা।

তার শৈশবেই বউ হওয়া। তার শাশুড়ি বলে দিয়েছিলেন, শ্বশুরকে দেখলে ঘোমটা দিতে ভুল হওয়া চলবে না।

দুপুরবেলা গাছকোমর করে শাড়িটা পেঁচিয়ে তিনি কিতকিত খেলছিলেন। পিছন থেকে আকস্মিক শ্বশুরমশাইয়ের আগমন। ঘোমটা চাইই। নতুবা ভীষণ লজ্জার কথা হবে। এদিকে গাছকোমর এঁটে বসে আছে। কিছুতেই খোলেনা। তিনি বেমালুম লজ্জা ঢাকতে শাড়িটি তলার দিক থেকে টেনে মাথায় দিয়ে ফেললেন। অনিবার্যভাবে পাছু উন্মুক্ত। ওই অবস্থায় তাঁর শ্বশুরমশাই বৌমাকে কোলে করে এনে তাঁর শাশুড়ির সামনে নামিয়ে দিয়ে বললেন , 'তোমার বৌমা আমাকে দেখে ঘোমটা দিয়েছে দেখো '। শৈলবালার শাশুড়ি এত স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন যে বকতেই ভুলে গেলেন। শৈলবালার আধুনিক শ্বশুর বললেন, ঘোমটা not।

শৈলবালা বলেছিলো, সেই যে আধুনিক হয়ে গেলো, আর অন্ধকারের দিকে চাইতে ভালো লাগতো না। স্কুলে যায়নি কিন্তু লেখাপড়া শিখেছিলো। তাই পরে যখন নিজের ছেলের বিয়ে দিয়েছিলো, স্কুল পাশ বিদুষী বৌমা নিয়ে গিয়েছিলো আহেরিটোলা থেকে। তার নাম বসুমতী। আমার ঠাকুমা। তার গল্প বলে শেষ হবেনা। বলবো পরে।

শৈলবালা দেখেছিলো তার পিসিমা সতী হয়েছিলেন। হতে হয়েছিলো। আর্তনাদ করছিলেন শৈলবালার পিসি আর তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিলো। শৈলবালা সে কথা বলতে বলতে ওই মৃত্যু পূর্বকালীন বয়সেও ভয়ে কুঁকড়ে গিয়েছিলেন। আমার খুব আবছা মনে পড়ে সে দুপুরের কথা। আমি দেখতে পাই আমার প্রপিতামহীর দস্যিকালের অন্ধকার কোণ। অন্ধকারের নির্মম স্পর্শে সেখানে খুব ছোটোকালেই একবার মরে গিয়েছিলো আমার শৈলবালা।

ভুলে গিয়েছিলাম কানে শোনা সে অন্ধকার কে । আলোই তো দেখেছি জন্ম ইস্তক । অন্ধকারকে আর সাধ করে কেই বা মনে রাখে ! আলো যাঁরা জ্বেলেছেন , তাঁদের ও নতুন করে মনে রাখা হয়নি ।

ভুল হয়ে গেছে শৈলবালা । তোমাকেও অনেকদিন মনে পড়েনি গো । আজ আবার মন কেমন করছে । তোমার জন্যে । তোমার পিসির জন্যে । রামমোহন রায় , ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় , সবার জন্যে। মনকেমন করছে

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in