ক্ষমতায় ফিরলে নিজের আর কোনো মূর্তি নয়, ব্রাহ্মণদের স্বার্থেও নজর, একাধিক প্রতিশ্রুতি মায়াবতীর

মায়াবতী বলেন, "ক্ষমতায় এলে নতুন কোনো পার্ক বা স্মৃতিসৌধ তৈরি করবো না আমরা। আমাদের আগের মেয়াদে ‌পাইকারিহারে এটা করেছি আমরা‌। স্মৃতিসৌধ বা পার্কে মনোনিবেশ না করে রাজ্য পরিচালিত করবো করবো।"
ক্ষমতায় ফিরলে নিজের আর কোনো মূর্তি নয়, ব্রাহ্মণদের স্বার্থেও নজর, একাধিক প্রতিশ্রুতি মায়াবতীর
মায়াবতীফাইল ছবি

সরকারে থাকাকালীন পাইকারি হারে মূর্তি তৈরি করে দিয়েছেন তিনি। তাই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ফের ক্ষমতায় এলে আর কোনো মূর্তি বা স্মৃতিসৌধ তৈরি করবেন না তিনি।নির্বাচনের প্রচার শুরু করে দিয়ে একথা বললেন উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী।

লখনৌতে এক সমাবেশে বহুজন সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো মায়াবতী বলেন, "যদি আমরা আবার ক্ষমতায় আসি তাহলে যারা আমাদের পথপ্রদর্শক ছিলেন, তাঁদের নামে নতুন কোনো পার্ক বা স্মৃতিসৌধ তৈরি করবো না আমরা আর। আমাদের আগের মেয়াদে ‌পাইকারিহারে এটা করেছি আমরা‌। স্মৃতিসৌধ বা পার্কে মনোনিবেশ না করে বরং রাজ‍্যকে যথাসম্ভব দক্ষতা নিয়ে পরিচালিত করবো।"

মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন রাজ‍্যের বিভিন্ন জায়গায় নিজের একাধিক বড় বড় মূর্তি স্থাপন করেছেন মায়াবতী। বিএসপি-র প্রতিষ্ঠাতা কাশীরাম দাসেরও মূর্তি স্থাপন করেছেন তিনি। এছাড়াও "দলিত অহংকার" নাম দিয়ে হাতির মূর্তি স্থাপন করেছেন তিনি। তাঁর দলের প্রতীক হাতি।

সরকারি অর্থে নিজের মূর্তি প্রতিষ্ঠা নিয়ে একাধিকবার বিতর্কের মুখে পড়েছেন মায়াবতী। উত্তরপ্রদেশের লোকায়ুক্ত বা দুর্নীতিবিরোধী ন‍্যায়পাল অনুসারে মূর্তি তৈরির পিছনে ১,৪০০ কোটি টাকার সরকারি অর্থ ব‍্যয় করেছেন‌ চারবারের মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী। তবে এই প্রথমবার মূর্তি স্থাপন না করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন না তিনি। ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগেও ভোটারদের এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।

২০০৭ সালে শেষবার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন মায়াবতী। এরপর ক্ষমতায় ফেরা তো দূর, রাজ‍্য ও জাতীয় - দুই জায়গাতেই তাঁর দলের ফলাফল ক্রমশ খারাপ হয়েছে। আগামী বছর হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা ফিরে পেতে মরিয়া মায়াবতী তাই পুরনো ফর্মুলা প্রয়োগের চেষ্টা করছেন যা একসময় তাঁর দলকে ব‍্যাপক সাফল্য এনে দিয়েছিল। ব্রাহ্মণ সমাজের ভোট আদায়ের জন্য গত জুন মাস থেকে ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করে যাচ্ছেন তিনি। আজকের এই সমাবেশ তারই বিস্তারিত রূপ।

তিনি বলেছেন, ২০২২ সালে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন‌ করলে আমরা 'সর্বজন হিতায় সর্বজন সুখায়' নীতি বাস্তবায়ন করবো,‌ যেমনটা ২০০৭ সালে করেছিলাম আমরা। সেইসময় আমরা কেবল দলিত বা অনগ্রসর শ্রেণিদের কথা ভাবিনি, উচ্চবর্ণের লোকেদের স্বার্থের দিকেও নজর দিয়েছিলাম। আমাদের দল কেবলমাত্র একটি জাত বা একটি ধর্মের দল নয়, সমাজের সকল শ্রেণির জন্য আমাদের দল।

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in