National Cancer Awareness Day: ভারতে ক্যান্সারের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে কেন?

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ-এর বক্তব্য (ICMR) অনুসারে, আগামী ৫ বছরে দেশে ক্যান্সারের প্রকোপ আনুমানিক ১২% বাড়বে। মনে করা হচ্ছে গড় আয়ুর বৃদ্ধি ক্যান্সারের ঘটনা বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
National Cancer Awareness Day: ভারতে ক্যান্সারের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে কেন?
ছবি প্রতীকীছবি সৌজন্য ক্যান্সারসেন্টার ডট কম

যদিও ভারত দীর্ঘকাল ধরে ক্যান্সারের প্রকোপের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সমীক্ষা থেকে দেখা যাচ্ছে ভারতে ক্যান্সারের সম্ভাবনা উচ্চ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। একসময় বার্ধক্যজনিত রোগ হিসেবে বিবেচিত ক্যান্সার এখন তরুণ ও শিশুদের মধ্যেও যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ। ক্যান্সার প্রতিরোধ এবং এর প্রাথমিক সনাক্তকরণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে ভারতে প্রতি বছর ৭ নভেম্বর জাতীয় ক্যান্সার সচেতনতা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ-এর (ICMR) বক্তব্য অনুসারে, আগামী পাঁচ বছরে ভারতে ক্যান্সারের প্রকোপ আনুমানিক ১২ শতাংশ বাড়বে।

মনে করা হচ্ছে গড় আয়ু বৃদ্ধি পাওয়ায় সামগ্রিকভাবে ক্যান্সারের ঘটনা বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। মানুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে, শারীরিক ত্রুটিগুলি ক্রমশ সক্রিয় হতে থাকে এবং বিভিন্ন জিনগত ত্রুটি আরও প্রকট হতে শুরু করে, যা ক্যান্সারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়।

এই প্রসঙ্গে কোচির এক বেসরকারি হাসপাতালের মেডিকেল অঙ্কোলজির ক্লিনিক্যাল অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ওয়েসলি এম জোস আইএএনএসকে জানিয়েছেন, "বয়স্ক ব্যক্তিদের অনুপাতে বৃদ্ধি ক্যান্সারের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রথম কারণ। জনসংখ্যায় বয়স্কদের অনুপাত যত বেশি, ক্যান্সারের সম্ভাবনা তত বেশি।"

সাধারণভাবে মহিলাদের (৪৭.৪ শতাংশ) তুলনায় পুরুষদের (৫২.৪ শতাংশ) সব ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি সবসময় বেশি। তামাক ব্যবহার এর প্রধান কারণ। যার ফলে পুরুষদের মধ্যে ৪৮.৭ শতাংশ এবং মহিলাদের মধ্যে ১৬.৫ শতাংশ ক্যান্সার হয়ে থাকে।

সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ২০২৫ সালে তামাক ব্যবহারের সাথে যুক্ত ক্যান্সারের সংখ্যা ৪,২৭,২৭৩ হবে -- যা ভারতের মোট ক্যান্সারের ২৭.২ শতাংশর কাছাকাছি। তামাকের মধ্যে কমপক্ষে ৬৯টি ক্যান্সার সৃষ্টিকারী পদার্থ রয়েছে বলে জানা গেছে। অল্প বয়স থেকে ভারতের বহু মানুষ তামাক ব্যবহারে অভ্যস্থ হওয়ার কারণে ক্যান্সারের সংখ্যা বাড়ছে।

মুম্বাইয়ের বিশিষ্ট ক্যন্সার বিশেষজ্ঞ, মুরাদ ই লালা জানিয়েছেন, "তামাক বন্ধ করা গেলে ক্যান্সারের হার প্রায় ২৫ শতাংশ কমে যাবে। মূলত তামাক এবং গুটখা সেবনই ক্যান্সারের সম্ভাবনাকে বাড়িতে তোলে। যা ভারতে সরাসরি ২৭ শতাংশ ক্যান্সারের জন্য দায়ী।"

মুম্বাইয়ের এক বেসরকারি হাসপাতালের অ্যাডভান্সড অঙ্কোসার্জারি ইউনিটের ডিরেক্টর অনিল হেরুর জানান, "আমরা সকলেই জানি যে মুখ এবং ফুসফুসের ক্যান্সার যা আমাদের পুরুষ জনসংখ্যাকে সর্বাধিক প্রভাবিত করে তা ধূমপান এবং তামাক সেবনের অভ্যাস বন্ধ করে প্রতিরোধ করা যেতে পারে। আমরা তামাক সম্পর্কে যা ভাবি সেরকমই কিছু অস্বাস্থ্যকর খাবারের কথা ভাবতে হবে - যা অপ্রয়োজনীয়, আসক্তিকর এবং ক্ষতিকর।”

তামাক ছাড়াও অ্যালকোহল, স্থূলতা, স্থির জীবনধারা এবং পরিবেশগত কারণেও ক্যান্সার বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে।

ডাঃ জোস জানিয়েছেন, "ভারতীয় জনসংখ্যার সামগ্রিক জীবনযাত্রার অবস্থার উন্নতি হয়েছে। ফলে একটা বড়ো অংশ স্থির জীবনযাত্রার সঙ্গে অভ্যস্থ হয়ে পড়ছেন। যারা উচ্চ-ক্যালোরি সম্পন্ন খাবার গ্রহণ করতে পারছেন। যা পরোক্ষভাবে ক্যান্সারের সংখ্যা বৃদ্ধিকে প্রভাবিত করেছে।"

ডাঃ হিরুর জানান, "প্রায় ছয় ধরনের ক্যান্সার স্থূলতার সাথে যুক্ত, যা ৫০ বছরের কমবয়সী মানুষের মধ্যে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এগুলো হল কোলন বা মলদ্বার, অগ্ন্যাশয়, কিডনি, গলব্লাডার, জরায়ু (এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সারও বলা হয়), এবং মাল্টিপল মাইলোমা। এই ধরণের ক্যান্সারগুলো সাধারণভাবে প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়েনা। রোগ অ্যাডভান্সড স্টেজে পৌঁছে গেলে তা চিকিত্সা করা কঠিন হয়ে যায়। তাৎপর্যপূর্ণভাবে প্রায়শই অল্পবয়সী ব্যক্তিদের মধ্যে এইধরনের ক্যান্সার চিহ্নিত করা যায়না।"

সম্প্রতি শৈশব অবস্থায় ক্যান্সারও ক্রমশ বাড়ছে। শিশুদের ক্ষেত্রে প্রধানত লিউকেমিয়া এবং লিম্ফোমাস। ICMR-এর মতে, শৈশব অবস্থার (০-১৪ বছর) ক্যান্সার সমস্ত ক্যান্সারের প্রায় ৭.৯ শতাংশ।

ডাঃ জোস এই প্রসঙ্গে জানান, "শিশুদের ক্যান্সারের সাধারণ ধরণগুলি হল লিউকেমিয়া, লিম্ফোমাস, সিএনএস টিউমার, রেটিনোব্লাস্টোমাস এবং উইলমস টিউমার৷ যদিও শৈশবকালীন ক্যান্সারের বেশিরভাগই প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা গেলে এবং যথাযথ চিকিত্সা করলে সেরে যেতে পারে। তবে ভারতে শৈশবকালীন ক্যান্সারের চিকিত্সা করার কেন্দ্রর সংখ্যা অনেক কম। ফলে চিকিত্সায় দেরির কারণে বেঁচে থাকার হার কমে যায়।"

সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে, সার্বজনীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য শিক্ষা, চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং তৃণমূল স্তরে প্রাথমিক সনাক্তকরণ কেন্দ্র তৈরি করে দেশে ক্যান্সারের বোঝা কমানো যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুসারে, এছাড়াও লিভার এবং সার্ভিক্সের মতো ভাইরাসজনিত ক্যান্সারের জন্য টিকা এবং উন্নত শারীরিক কার্যকলাপ, কঠোর তামাক এবং অ্যালকোহল আইনও ক্যান্সার রোধে সাহায্য করতে পারে।

(Only the headline and picture of this article may have been reworked by the People's Reporter staff; the rest of the content is translated and published from a syndicated feed)

ছবি প্রতীকী
করোনার জেরে ভারতীয়দের গড় আয়ু কমেছে প্রায় দু'বছর, গবেষণায় উঠে এল নতুন তথ্য

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in