প্রতিবছর অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে ভারতে মারা যাচ্ছে গড়ে ১৭ লক্ষ মানুষ: রিপোর্ট
প্রতীকী ছবি ছবি সৌজন্যে - ডাউন টু আর্থ

প্রতিবছর অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে ভারতে মারা যাচ্ছে গড়ে ১৭ লক্ষ মানুষ: রিপোর্ট

‘ডাউন টু আর্থ’ নামে একটি ম্যগাজিন জানিয়েছে, ‘প্রতি বছর ১৭ লক্ষের বেশি ভারতীয় এমন রোগের কারণে মারা যায়, যার অন্যতম কারণ হল অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ এবং শরীরের ওজনের মাত্রা কমে যাওয়া।‘

বেঁচে থাকার জন্য মানুষ যে সব খাবার খাচ্ছেন, তা কতটা স্বাস্থ্যকর তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। ২০২২ সালের ভারতের পরিবেশগত অবস্থা নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে সম্প্রতি। তাতে দেখা যাচ্ছে প্রতিবছর অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার জন্য গড়ে ১৭ লক্ষ মানুষ মারা যাচ্ছেন ভারতে। যেখানে কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করছে, ভারতে ভালো মানের খাদ্যশস্যের অভাব নেই।

দিল্লি থেকে প্রকাশিত ‘ডাউন টু আর্থ’ নামে একটি ম্যগাজিন জানিয়েছে, ‘প্রতি বছর ১৭ লক্ষের বেশি ভারতীয় এমন রোগের কারণে মারা যায়, যার অন্যতম কারণ হল অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ এবং শরীরের ওজনের মাত্রা কমে যাওয়া।‘ রিপোর্টে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, ‘ভারতীয়দের খাদ্য তালিকায় ফল, শাকসবজি, লেবু, বাদাম এবং দানাশস্যের অভাব থাকার কারণে এটি ঘটছে।‘

‘ডাউন টু আর্থ’ ম্যাগাজিনের সম্পাদক সুনিতা নারাইন জানান, ‘ডেটা একটি পরিমাপের একক। ডেটা যত ভালো পরিমাপ করা হবে, সেইমতো ভালো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবো আমরা। এটা আমরা জানি। তাই প্রতিবছর এই সংক্রান্ত ডেটাবেস আমরা করে থাকি। বিশ্বজুড়ে যে পরিবর্তন হচ্ছে, এটি (ডেটাবেস) দেখে আমরা তা বুঝতে পারি। একইসঙ্গে কী করা দরকার, এটি আমাদের বুঝতে সাহায্য করে।

রিপোর্টে, অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণের জেরে কয়েকটি রোগের কথা বলা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে শ্বাসকষ্ট, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, স্ট্রোক এবং হৃদরোগের মতো সমস্যা। একইসঙ্গে খাদ্যতালিকায় ফল, শাক-সবজি, দানা শস্যের অভাবের কথা বলা হয়েছে। এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্য বলতে প্রক্রিয়াজাত মাংস, রেড মিট এবং চিনিযুক্ত পানীয় জল বেশি গ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় ৪২ শতাংশ মানুষ স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ করে না বা করতে পারে না। আর ভারতের এই সংখ্যা ৭১ শতাংশের অধিক। এটি স্পষ্ট করে যে, ভারতের একটি বড় অংশের মানুষ খাদ্য তালিকায় যথেষ্ট পরিমানে ফল, শাকসবজি, লেবু, বাদাম এবং দানা শস্যের অভাব রয়েছে।‘

রিপোর্ট উল্লেখ করা হয়েছে, ‘খাদ্য ব্যবস্থা এবং এর ব্যবহার পদ্ধতি পরিবেশকে প্রভাবিত করে। যেমন, দুধ উৎপাদনের জন্য যেভাবে জল, নাইট্রোজেন এবং ফসফরাস ব্যবহার করা হয়, তার প্রভাবে গ্রিনহাউস গ্যাস উৎপন্ন হয়ে থাকে।‘

একইসঙ্গে রিপোর্টে সতর্কতা মূলক বার্তা হিসাবে বলা হয়েছে, ‘পরিস্থিতির অগ্রগতি সত্ত্বেও, খাদ্যতালিকা স্বাস্থ্যকর হচ্ছে না। উল্টে, এই ধরনের চাহিদা পরিবেশের উপর প্রভাব ফেলছে। দেশে অপুষ্টির মাত্রা বাড়ছে। আমারা যদি উচ্চাশা সরিয়ে মানবিক পথে এগোতে না পারি, তাহলে এটি আমাদের স্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।‘

প্রতীকী ছবি
মার্কিন মুলুকে 'হিন্দুত্বের' প্রচারে ১২২৭ কোটি টাকা ব্যয় RSS-ঘনিষ্ঠ একাধিক সংস্থার: রিপোর্ট

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in