Covid-19: জনতা কার্ফুর ১ বছর

আজ জনতা কার্ফুর এক বছর। গত বছর এদিনই অপ্রয়োজনে বাড়ি থেকে বেরোনোতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সারাদিন ঘরে থাকার পর সেদিনই বিকেলে দেশ জুড়ে মানুষ থালা বাজিয়েছিলেন।
Covid-19: জনতা কার্ফুর ১ বছর
ছবি প্রতীকী সংগৃহীত

আজ জনতা কার্ফুর এক বছর। গত বছর এদিনই অপ্রয়োজনে বাড়ি থেকে বেরোনোতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সারাদিন ঘরে থাকার পর সেদিনই বিকেলে দেশ জুড়ে মানুষ থালা বাজিয়েছিলেন। 'গো করোনা গো' বলে কেউ কেউ রাস্তায় রীতিমত মিছিল করে নেচেছিলেন। যদিও তাতে যে করোনা আটকানো যায়নি তা দেখা গেছে পরবর্তী সময়ে। এই মুহূর্তে দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যে করোনা পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। যার শীর্ষে অবশ্যই মহারাষ্ট্র।

গত বছরের এই দিনে ভারতে ততটা প্রকোপ দেখা না গেলেও গোটা বিশ্বে সেই সময় ছড়িয়ে পড়েছে করোনা সংক্রমণ। দেশে করোনা সংক্রমণ রুখতে ২২ মার্চ ট্রায়াল রান হিসেবে জারি হয় জনতা কার্ফু। এরপর ২৪ মার্চ রাত ৮টায় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুসারে মাত্র ৪ ঘণ্টার নোটিশে ২৫মার্চ রাত থেকে জারি হয় লকডাউন। একইসঙ্গে বাড়তে থাকে করোনা সংক্রমণ।

প্রায় পঁচাত্তর দিন পর ৮ জুন শুরু হয় আনলক পর্ব ১। লকডাউনে সব কিছুই বন্ধ ছিল। আনলক পর্বে ধীরে ধীরে সব খুলতে শুরু করে। কিন্তু তখন করোনা সংক্রমণে লাগাম পরানো গিয়েছিল, তা নয় অর্থনীতিকে চালু রাখার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কিছু ক্ষেত্রে আনলক পর্ব চালু হয়। ধাপে ধাপে সব কিছু খুলতে শুরু করে। গত সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ করোনা সংক্রমণ লাগাম ছাড়ায়।

জানুয়ারি মাসে সম্পূর্ণ স্বদেশীয় করোনা ভ্যাকসিন এল। ১৬ জানুয়ারি থেকে চালু হল ভ্যাক্সিনেশন পর্ব। সাড়ে চার কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন মাত্র ৭৫ লাখ মানুষ।

কিন্তু ভ্যাকসিন আসাতে মানুষ আশা করেছিল, সংক্রমণ কমবে। কিন্তু ফল হল উল্টো। সংক্রমণ বাড়ল। তবে সেটা ভ্যাকসিনের জন্য নয়, ভ্যাকসিন আসায় মানুষ কোভিড বিধি মানতে অস্বীকার করতে শুরু করল।

মাস্ক পরা, স্যানিটাইজ করা এবং হওয়া, দূরত্ব বিধি মেনে চলা, পোশাক-আশাক পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা ইত্যাদি যেসব কোভিড বিধি মেনে চলা আবশ্যক ছিল, তা মানুষ ভুলতে বসেছিল। ফলে যথারীতি সংক্রমণে রাশ টানা যায়নি। গত ১১ ফেব্রুয়ারি ৯৩৫৩ নতুন করোনা কেসের কথা জানা যায়। ২০ মার্চ তা বেড়ে হল ৪৩, ৮১৫। সংক্রমণ বৃদ্ধির হার ৩৬৮ শতাংশ।

দেশের ছয় রাজ্যে করোনার প্রকোপ বেড়েছে যথেষ্ট। সেখানে গত বছরের মতো নাইট কার্ফু, আংশিক লকডাউন করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। গতবছর মহারাষ্ট্রের ধারাভি বস্তিতে সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করেনি। যদিও এই বস্তি নিয়ে মানুষের আশঙ্কাই বেশি ছিল। কিন্তু এবছর মহারাষ্ট্রের সর্বত্রই দ্রুতগতিতে সংক্রমণের হার বেড়েছে। নাগপুর, পুনের মতো জায়গায় নানাভাবে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রশ্ন উঠছে, ভ্যাকসিন আসার পরও কেন সংক্রমণ বাড়ছে? চিকিৎসকরা বলছেন, ভ্যাকসিন ওষুধ নয়. ইমিউনিটি বুস্টার। ৪০-৫০ কোটি মানুষ ভ্যাকসিন না পেলে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হবে না। ফলে সংখ্যায় পৌঁছতে গেলে সবাইকে কঠোর ভাবে কোভিডবিধি মেনে চলতে হবে।

পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হচ্ছে এবছর। চলছে জোরকদমে প্রচার পর্ব। বিভিন্ন নেতা-মন্ত্রীদের জনসভা, সমাবেশে ভিড় উপচে পড়ছে। জনসংযোগ কর্মসূচিতেও ভিড় যথেষ্টই। দুরত্ববিধির বালাই নেই। প্রার্থীদের মুখেও মাস্ক দেখা যায় না। যাঁরা জনপ্রতিনিধি হতে চলেছেন, তাঁরাই যদি এতটা অসতর্ক হন, তাহলে করোনার সংক্রমণ নিয়ে আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in