করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ

সমালোচনায় সরব দিল্লি এইমসের বিভাগীয় প্রধান
করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ
ছবি প্রতীকী সংগৃহীত

করোনা জনিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে কেন্দ্রের মোদী সরকারের কড়া সমালোচনা করলেন দিল্লি এআইআইএমএস-এর বিশিষ্ট চিকিৎসক অনুপ সারিয়া। তিনি এই বিষয়ে ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ মেডিক্যাল সায়েন্স-এর সম্পাদককে এক চিঠি লিখেছেন। যে চিঠিতে দেশের করোনা জনিতে পরিস্থিতি সামলাতে মোদী সরকারের ব্যর্থতার কথা তিনি তুলে ধরেন।

নিজের চিঠিতে ডাঃ অনুপ সারিয়া লিখেছেন – কীভাবে করোনা পরিস্থিতির মোকাবিলা করা হবে তা নিয়ে সরকারের অবস্থান বিভ্রান্তিকর। কারণ এই বিষয়ে সরকারের নীতি নির্ধারণ ও যোগাযোগের দায়িত্বে যাঁদের রাখা হয়েছে তাঁরা কেউ আমলা, কেউ স্বাস্থ্যকর্মী, কেউ আইএএস আধিকারিক। অথচ এখানে কোনো জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ নেই, জীবাণু বিশেষজ্ঞ নেই বা কোনো মহামারী বিশেষজ্ঞ নেই।

এআইআইএমএস-এর গ্যাস্ট্রোএন্ট্রোলজি এবং হিউম্যান নিউট্রিশন বিভাগের প্রধান ডাঃ অনুপ সারিয়া আরও জানিয়েছেন – এই ক্ষেত্রে সাফল্য নির্ভর করে মুক্তচিন্তা, স্বাধীনতা এবং ভিন্ন মতামতের ওপর ভিত্তির করে। যদিও দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এখানে তা অনুপস্থিত। কারণ এঁদের অধিকাংশই সরকারি আমলা।

ওই চিঠিতে ডাঃ অনুপ সারিয়া আরও লিখেছেন সরকারি নীতির গঠনমূলক সমালোচনা খুবই প্রয়োজন। এই ধরণের সমালোচনার ফলে সঠিকভাবে পরিকল্পনা করা সম্ভব হয়। এছাড়াও বিজ্ঞানীদের জন্য, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের জন্য তথ্যের স্বচ্ছতা প্রয়োজন। এই কাজে জনসাধারণকেও সঙ্গে নেওয়া উচিৎ। কারণ তাঁরাই মহামারী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করবে এবং দেশে সর্বসম্মত ঐক্যমত তৈরিতে সহায়তা করবে।

নিজের চিঠিতে ডাঃ সারিয়া ইন্ডিয়ান পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশন এবং ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রিভেনটিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিনের যৌথ বিবৃতির কথা উল্লেখ করে জানিয়েছেন – এই দুই সংস্থা সরকারের কাছে নির্দিষ্ট কাজ ভিত্তিক গ্রুপ গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলো। যাতে সরকারের প্রকৃত সহায়তা হয়।

তিনি আরও লিখেছেন – সরকারের নীতি বাস্তবায়নের সাথে জড়িত সংস্থা এবং ব্যক্তিদের আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হওয়া প্রয়োজন। সরকারের নীতি নির্ধারণ গোষ্ঠীতে সমাজবিজ্ঞানী বা অন্য সমাজের অন্য অংশের যোগদানের অভাব রয়েছে। কোভিড-১৯ মোকাবিলায় এবং সমাজকে এর প্রভাব থেকে রক্ষা করার লড়াইতে স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারদের দিকে নজর দেওয়ার ও নীতি নির্ধারকদের কাজের থেকে এটা বেশি প্রয়োজন।

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in