প্রশ্নটা শুধু অন্যায় যে করে তাঁদের নিয়ে নয়, অন্যায় যে সহে তাঁদের নিয়েও - কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়

সোশ্যাল মিডিয়ায় যে কোনও ইস্যুতে বরাবরই নিজের মতামত দিয়ে থাকেন কমলেশ্বর। গতকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে রাজ্যের বর্তমান অবস্থা নিয়ে মতামত জানালেন পরিচালক।
কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়
কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ফাইল ছবি

শহরের একটি বহুতল ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হলো কোটি কোটি টাকা। তা নিয়ে বিগত কয়েকদিন ধরে উত্তাল পরিস্থিতি রাজ্যে। রাজ্যের শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এক ঘনিষ্টের ফ্ল্যাট থেকে মিলেছে প্রায় ২১ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি অতর্কিতে হানা দিয়ে উদ্ধার করেছে এই বিপুল পরিমাণ টাকা। তারপরই ইডি গ্রেপ্তার করে তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে।

পার্থ গ্রেপ্তার হবার পর থেকেই তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় উঠেছে। কেউ মিম বানাচ্ছেন তো কেউ আবার সরাসরি আক্রমণ করছেন তাঁকে। এবার এই প্রসঙ্গে, মুখ খুললেন অভিনেতা ও চলচ্চিত্র পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় যে কোনও ইস্যুতে বরাবরই নিজের মতামত দিয়ে থাকেন তিনি। গতকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে রাজ্যের বর্তমান অবস্থা নিয়ে মতামত জানালেন পরিচালক।

ওই পোস্টে কমলেশ্বর লিখেছেন, “একদল তরতাজা শিক্ষিত যুবক যুবতীকে বঞ্চিত করে ঘুষের বিনিময়ে চোরাপথে সরকারি কাজ পাচ্ছেন অন্যরা। সেই দুর্নীতি ও আর্থ-সামাজিক অন্যায় ধরা পড়েছে। আইন আইনের পথে চলবে - এটা জনগণের দাবি।”

রবীন্দ্রনাথের ‘ন্যায়দণ্ড’ কবিতার বিখ্যাত লাইন “অন্যায় যে করে অন্যায় যে সহে / তব ঘৃণা যেন তারে তৃণ সম দহে” ঊদ্ধৃতি করেছেন ফেসবুক পোস্টে। কবিগুরুর এই লাইনটি রূপক অর্থে ব্যবহার করে পরিচালক রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতিকেই তুলে ধরতে চেয়েছেন। তিনি আসলে বলতে চেয়েছেন এই দুর্নীতিকে কোনভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়। তা সেই অন্যায় যেই করুক না কেন! শাসকদলের মন্ত্রী, নেতা, কর্মী, সমর্থক, শুভাকাঙ্খী বা সুবিধাবাদী চাটুকার যে কেউ হতে পারেন দোষী ব্যক্তি। অন্যায় করা ও অন্যায় সহ্য করা একইরকম ঘৃণ্য অপরাধ।

কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় আরও লিখেছেন, “তাঁরা কি এখনো এ কথা বুঝতে পারছেন না যে নীতিহীন ব্যক্তিকেন্দ্রিক একটি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব নিজের স্বার্থে সেই দলেরই যে কোনো ব্যক্তির সাথে, তাঁদের সমর্থনকারী অন্য (সহযোগী বামপন্থী) দলের সাথে ও আপামর মানুষের সাথে ক্রমাগত বেইমানি করে চলেছেন এবং ভবিষ্যতেও অবলীলায় বেইমানি ও মিথ্যাচার করে যাবেন ? না কি তাঁরা সব বুঝেও মুখে কুলুপ এঁটে আছেন - আরো কিছু পাবার লোভে ? কিংবা সব কিছু হারাবার ভয়ে ?”

পরিচালক পোস্টের শেষে লিখেছেন, “এই অপার নির্লজ্জ সর্বংসহা সুবিধাভোগী উদাসীন 'আমি'কে প্রশ্ন করুন। নচেৎ এই পচনের অংশীদার হয়ে কাটানো আপনাদের গোটা জীবনটাই আর কিছুদিনের মধ্যে বিষাক্ত চোলাই হয়ে যাবে।”

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in