'সকলকে ভাবতে শিখিয়ে' - চলে গেলেন জঁ লুক গোদার!

গোদারের বিখ্যাত কয়েকটি সিনেমার মধ্যে অন্যতম হল 'ব্রেথলেস' এবং 'আলফাভিলে'। তাঁর সিনেমা তৈরির ভাবনা, কৌশল ঘিরে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন সত্যজিত রায়, মৃণাল সেনেরা।
জঁ লুক গোদার
জঁ লুক গোদারছবি - সংগৃহীত

'সকলকে ভাবতে শিখিয়ে'- চলে গেলেন জঁ লুক গোদার। সিনেমার অভিধান থেকে 'প্রজ্ঞা' শব্দটা বিদায় নিল। মঙ্গলবার, বিকালে  ৯১ বছর বয়সে গোদারের প্রয়াণকাল সেকথা তুলে ধরলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের 'চলচ্চিত্র বিভাগের' অধ্যাপক মানস ঘোষ।

গোদারের বিখ্যাত কয়েকটি সিনেমার মধ্যে অন্যতম হল 'ব্রেথলেস' এবং 'আলফাভিলে'। তাঁর সিনেমা তৈরির ভাবনা, কৌশল ঘিরে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন সত্যজিত রায়, মৃণাল সেনেরা।  

একদা, সত্যজিৎ রায় বলেছিলেন, 'চিত্রভাষার ব্যাপারে বিপ্লবের পুরোধা হলেন জাঁ লুক গোদার। গোদারের ছবি প্রধানত দুটি গুণে শিল্প হিসাবে সার্থক। এক হল আজকের রিয়ালিটি সম্পর্কে এক আশ্চর্য স্পষ্ট ধারণা; এবং দ্বিতীয় হল, পরস্পর আপাতবিরোধী চিত্রভাষাকে একই ছবিতে সমন্বিত করার অদ্ভুত ক্ষমতা। ভাষা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান না থাকলে এটা সম্ভব নয়।'

পিপলস রিপোর্টারকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে মানস ঘোষ বলেন, 'প্রথমত, ভারতে যে নবতরঙ্গ, সেটা গোদারের কাছে থেকে অনেকটাই ইন্সপায়ারড। মৃণাল সেন প্রায় অনেকগুলি ছবিতেই 'জাম্প কাট', 'স্ট্রিজ ফ্রেম' ব্যবহার করেছেন। যেমন 'ভুবন সোম'-এ 'স্ট্রিজ ফ্রেম', 'কলকতা ৭১'-এ যেমন 'আন-কনভেশনাল কাট' করছেন মৃণাল সেন। এই জিনিসগুলি গোদারের আগে সেভাবে ছিল না।'

'গোদারই প্রথম শিখিয়েছেন- এভাবেও কাজ করা যায়। সবসময় যে হলিউডের বেঁধে দেওয়া নিয়মে কাজ করতে হবে, তা নয়। বলা যায়, তিনি একাই হলিউডের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন।'

'হলিউড যেভাবে ফিল্ম করে, সেভাবে যে ফিল্ম করতে হবে- তার কোনও মানে নেই। একটা নতুন ধরণের ফিল্মের স্ট্রাটিজি তিনি তৈরি করে ছিলেন। যে ফিল্মের মূল লক্ষ্যই হবে - রাজনৈতিক, সামাজিক। গোদার না থাকলে এই শিক্ষা চলচ্চিত্র পেতো না কোনোদিন।'

'গোদার শুধু যে তৃতীয় বিশ্বের ফিল্ম মেকারদের (সিনেমা পরিচালকদের) অনুপ্রাণিত করেছেন, তা নয়। তিনি একাধারে লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকান এবং আরব বিশ্বের ফিল্ম মেকারদের প্রভাবিত করেছেন। ভারতবর্ষের ফিল্ম মেকারদের প্রভাবিত করেছেন।'

মৃণাল সেনের সাথে গোদার
মৃণাল সেনের সাথে গোদার

সবথেকে বড় কথা হল- তিনি সকলকে ভাবতে শিখিয়েছেন। সিনেমা, চলচ্চিত্র শিল্পের মাধ্যমে যে ভাবনার জগতে আলোড়ন তোলা যায়, তা তিনি শিখিয়েছেন। তাঁর প্রতিটি ছবিতে নতুন করে চিন্তার ছাপ ছিল।

'প্রতিটি নতুন ছবিতে তিনি নিজেকে প্রশ্ন করেছেন। নিরন্তর প্রশ্ন করেছেন ক্যাপিটালিজম নামের ব্যবস্থাটাকে। গোদার একের পর এক ছবিতে সমাজতন্ত্রকে কনটেমপ্লেট করে গেছেন। তিনিই পারেন চলচ্চিত্রের সামান্য একটি টেকনিককে ইতিহাস ও দর্শনের আলোকে বিচার করতে। এই যে প্রতি মুহূর্তে একটা চিন্তার মাধ্যমে সজীব থাকা, মস্তিস্ককে সজীব রাখা- এটা উনিই পারেন। যে বয়সে উনি এসে পৌঁছেছিলেন, সেই বয়সে নতুন করে না ভবলেও কিছু এসে যেত না।'

অধ্যাপক মানস বাবু জানান, 'অজ্ঞাতবাসে নিজেকে প্রচারের আলো থেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন গোদার। কিন্তু ইতিহাসের সঙ্গে, চলমান বর্তমানের সঙ্গে এক মুহুর্তের জন্যও তাঁর যোগাযোগ ছিন্ন হয়নি। মে ৬৮'এর প্রতি তাঁর অবিচল আস্থায় ছেদ পরেনি কোনোদিন। তবে, আজ তাঁর পথ চলা শেষ হলো। তাঁর বিদায়ে চলচ্চিত্র অতি সাধারণ একটি মাধ্যমে পরিণত হলো।'

জঁ লুক গোদার
পথ সুরক্ষার নামে চলছে পণ প্রথার প্রচার! অক্ষয়ের বিজ্ঞাপনী ভিডিও শেয়ার করে তীব্র ক্ষোভের মুখে গড়করি

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in