Editorial: আপনাদের সাথে, আমরা সাত-এ

আপনাদের শুভেচ্ছা এবং আমাদের হার না মানা জেদকে পাথেয় করে দীর্ঘ এই ছ’বছরে আমরা গুজব নয়, সৎ ভাবে শুধুমাত্র খবর পরিবেশনের চেষ্টাই চালিয়ে গেছি। যা আজও একইভাবে চলছে। চলবে আগামীতেও।
ছবি প্রতীকী
ছবি প্রতীকী গ্রাফিক্স - সুমিত্রা নন্দন

২০১৬ থেকে ২০২২। আপাতদৃষ্টিতে এমন কিছু নয় মনে হলেও এ এক দীর্ঘ যাত্রা। মাঝখানে ফেলে আসা ২১৯০ দিনের একটানা, অসম লড়াই। যে লড়াইয়ের পথে ক্লান্তি, অবসাদ, হতাশা, কোভিডের ধাক্কা, পিছিয়ে পড়া, এগিয়ে চলা – সবই এসেছে ক্রমান্বয়ে। আর সেই সবকিছু সঙ্গে নিয়েই ছ’বছর পূর্ণ করে সাত-এ পা দিলো পিপলস রিপোর্টার। হ্যাঁ। অবশ্যই আপনাদের শুভেচ্ছা এবং আমাদের হার না মানা জেদকে পাথেয় করে। দীর্ঘ এই ছ’বছরে আমরা গুজব নয়, সৎ ভাবে শুধুমাত্র খবর পরিবেশনের চেষ্টাই চালিয়ে গেছি। যা আজও একইভাবে চলছে। চলবে আগামীতেও।

চাটুকারিতা, গোদী মিডিয়ার তকমা থেকে নিজেদের সযত্নে দূরে সরিয়ে রাখার অদম্য ইচ্ছে নিয়ে মাত্র দু’জন মিলে যাত্রা শুরু। প্রায় কাউকে পাশে না পাওয়া। হাসাহাসি, ব্যঙ্গ, টিটকিরি। এসব প্রাপ্তি ছিলই। যদিও এসবের থেকেও বেশি ছিল বেশ কিছু শুভানুধ্যায়ীর ভালোবাসা। যে ভালোবাসা পিপলস রিপোর্টারকে ক্রমশ ক্রমশ এগোতে সাহায্য করেছে। তাই আজ বিস্তৃতি বেড়েছে। গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। পিপলস রিপোর্টার এখন অনেকটাই ছড়িয়ে পড়েছে। সুস্থ খবরের খোঁজ করা মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে। আমরাও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের পরিবেশনকে আরও আরও উন্নত করার চেষ্টা চালিয়ে গেছি। নিজেদের প্রতিদিনের যাত্রাপথে কোনোদিনই গুরুত্ব পায়নি আত্মতুষ্টি।

ইদানীংকালে ডিজিটাল মিডিয়ার ক্রমশ বেড়ে চলার কারণ মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার প্রতি মানুষের আস্থাহীনতা। যে জায়গাটা অনেকটাই পূরণ করেছে ডিজিটাল মিডিয়া। যদিও সাধারণ মানুষ যেভাবে ডিজিটাল মিডিয়াকে স্বাধীন হিসেবে ভাবেন সাম্প্রতিক সময়ের বেশ কিছু ঘটনায় এই মিডিয়া আদৌ কতটা স্বাধীন সেই প্রশ্ন উঠে গেছে। বিশেষ করে একাধিক নিয়ম কানুনের বেড়াজালে যেভাবে দিনের পর দিন আষ্টেপৃষ্টে বাঁধা পড়ছে ডিজিটাল মিডিয়া তা হয়তো আগামীর জন্য অশনি সংকেত।

একটা প্রতিষ্ঠান – তা সে ছোটো হোক বা বড়ো, সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে রেস্ত লাগে। দুঃখের বিষয়ে, ছ’বছর কাটিয়ে ফেললেও এখনও সেই জায়গায় আমরা শূন্যে দাঁড়িয়ে আছি। আমাদের কোনো বিজ্ঞাপনও নেই। অন্য কোনো আর্থিক বটবৃক্ষ নেই। যদিও খরচ তাতে থেমে থাকেনি। বরং বেড়েছে। প্রতিনিয়ন বিভিন্ন টেকনিক্যাল বিষয়ে চলতে থাকা বদলগুলোকেও এর মধ্যে থেকেই সামাল দিতে হচ্ছে। মাঝে মাঝে কিছু শুভানুধ্যায়ী আমাদের উদ্দেশ্যে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন একথা সত্যি। যদিও সৎ, নির্ভীক সাংবাদিকতার জন্য তা যথেষ্ট নয়।

আর যাদের কথা না বললেই নয় তাঁরা হলেন সেই তাঁরা – যারা দিন নেই রাত নেই – পিপলস রিপোর্টারকে আগলে রেখেছেন ভালোবেসে, নিজের মত করে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চরম ব্যস্ততায় প্রতিটি সত্যিকারের খবরকে আপনাদের সামনে তুলে ধরার জন্য তাঁদের সবাইকে, তাঁদের দায়বদ্ধতাকে কুর্ণিশ। সেই টিম এখন আর খুব একটা ছোটো নয়।

আমরা বিগত ছ’বছর ধরে দাপটের সঙ্গে আছি। আগামীতেও থাকবো। আমাদের মত ও পথেই। গুজবে নয়, আপনাদের খবরে রাখার অঙ্গীকার নিয়ে। আপনারা আমাদের সঙ্গে থাকুন, পাশে থাকুন, সাথে থাকুন। পিপলস রিপোর্টারের এগিয়ে চলার সাথী হন।

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in