'মানুষ' এরপর কোথায় যাবে?

'মানুষ' এরপর কোথায় যাবে?
ছবি প্রতীকী

ভোট পর্ব মিটেছে ঠিক ২০ দিন। এখনও একমাস পূর্ণ হয়নি। এর মধ্যেই যুযুধান দুই রাজনৈতিক দল শক্তি প্রদর্শনে, এলাকা দখলের খোলা ময়দানে লড়ে যাচ্ছে। একদিকে যেমন প্রবল উত্তেজনায় চলছে দলবদল, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে খুনোখুনি। আজ বসিরহাট তো কাল ভাটপাড়া, পরশু আমতা, তার পরের দিন মথুরাপুর। লোকসভা নির্বাচনের ভোট শতাংশের বিচারে রাজ্য রাজনীতিতে ক্ষয়িষ্ণু শক্তি বামেদের কর্মীও এই সময়ে খুন হয়ে গেছেন। অর্থাৎ এই হানাহানি শুধুমাত্রই এলাকা দখলের কারণে তা পরিষ্কার।

মাত্র ২০ দিনেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে হতাহতের সংখ্যা। আর তার থেকেও বেশি হয়েছে দলবদল। এরকম গণ দলবদল সাত আট-এর দশকে কলকাতা ময়দানে ফুটবলের দল বদলের ঘটনাকেও লজ্জা দিচ্ছে। সকালে যিনি তৃণমূল, দুপুরে বিজেপি। সকালে বাম বিকেলে রাম। জলাঞ্জলি নীতি আদর্শ। প্রমাণ হয়ে যাচ্ছে রাজনীতি এখন যতটা না রাজনীতি, তার থেকে ঢের বেশি আখের গোছানোর খেলা। পিঠ বাঁচাতে আর যাই হোক, নেতাদের দলবদল করতে হয় না। কর্মীদের বাস্তব পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে বাঁচার পথ খুঁজতে দল বদল করতে হতে পারে। কিন্তু সাম্প্রতিক যতগুলো দল বদলের ঘটনা আমার, আপনার চোখে পড়েছে তার বেশীরভাগটাই বদলেছেন নেতৃত্ব। এখনও বহু কর্মী, সমর্থক বিভিন্ন দলে আছেন, যারা বিশ্বাস বুকে নিয়ে বাঁচেন।

যদিও এ সবই নিতান্তই গৌণ বিষয়। আপাত উত্তেজনা, খুনোখুনি, দল বদলের আড়ালে নিঃশব্দে চলছে অন্য খেলা। যা মোটা মাথায় ধরা পড়ছে না। ভাঙছে সমাজ। ভাঙছে সমাজের স্থিতি, ভাঙছে বহুত্ববাদ। যে তীব্র সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের আবহে দেশে, রাজ্যে ভোটের ফলাফল নিয়ন্ত্রিত হয়েছে, তা আরও বাড়ছে। প্রতিনিয়ত বাড়ছে এবং আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব যে সচেতন ভাবেই তাতে মদত দিচ্ছেন তাও ক্রমে ক্রমে দিনের আলোর মত স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যে কোনো ঘটনাকেই রূপ দেবার চেষ্টা করা হচ্ছে সাম্প্রদায়িকতায়। বসিরহাট হোক বা এন আর এস – হয়তো এই ঘটনাগুলোর কোনোটার মধ্যেই সাম্প্রদায়িকতার চিহ্নমাত্র নেই। তবু সাধারণ মানুষের সামনে খাড়া করে দেওয়া হচ্ছে অদৃশ্য শত্রু। যে নাজিরের দোকান থেকে হয়তো গণেশ সকাল বিকেল চা খেয়ে কিশোর থেকে যুবক হয়েছে, যে নাজিরের বাবাকে গণেশ ছোটোবেলা থেকে ‘কাকু’ ডেকে এসেছে, হঠাৎ একদিন সকালে সেই নাজির আর গণেশই যুযুধান হয়ে তাল ঠুকছে।

যারা এই বিষ ভাবনা আটকাতে পারতেন, সেই রাজনৈতিক নেতৃত্বই আটকানোর পরিবর্তে উল্টে প্রচ্ছন্ন সমর্থন যুগিয়ে সমস্যাকে আরও গভীরে ঠেলছেন। এর একমাত্র উদ্দেশ্য যদি যেন তেন প্রকারেণ ক্ষমতা দখলই হয় তাহলে একটাই কথা বলার। মানুষের ভালোর জন্য রাজনীতি। কিন্তু এই সর্বগ্রাসী রাজনীতির পাঁকে মানুষই ডুবে যাচ্ছে আস্তে আস্তে। এরপর সেই জমিতে যাই ফলুক না কেন, তা বর্ণে বিবর্ণ, স্বাদে তিক্ত, গন্ধে কটু হতে বাধ্য। এখনও হুঁশ না ফিরলে মানুষ এরপর কোথায় যাবে?

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in