ফাইন টিউনিং

ফাইন টিউনিং

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় সঠিক সময়ে পাকিস্তানের গায়ক প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন। একই সময়ে আফরাজুলের হত্যাকারী শম্ভুলাল রেগার জেল থেকে ভিডিও করে তার বক্তব্য দেশবাসীর কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

দুটো বক্তব্য আলাদা আলাদা হলেও বক্তব্যের অভিমুখ কিন্তু এক। বিদ্বেষ এবং ঘৃণা। ‘ফাইন টিউনিং’ বোধহয় একেই বলে। একেবারে সময় বুঝে, হিসেব করে বক্তব্য বাজারজাত করে দেওয়া। এরপর দিন কয়েক এই বক্তব্যগুলো নিয়ে সাধারণ মানুষ নেচে মরুক। পিছনে চলে যাক এর চেয়ে ঢের বেশি গুরুত্বপূর্ণ অন্য ইস্যু।

নীরব মোদি ঠিক কত কোটি টাকা প্রতারণা করেছেন তার সঠিক হিসেব এখনও করে ওঠা যায়নি। নীরব মোদী ধরা পড়বেন বা তার শাস্তি হবে কিনা সেটা সময় বলবে। কিন্তু এসবের থেকেও বড়ো প্রশ্ন – সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত যে পরিমাণ টাকা তিনি প্রতারণা করে নিজের পকেটে ভরেছেন, দাভোস ঘুরতে গেছেন, সেই টাকা আদৌ ফেরানো যাবে কিনা। কারণ, এর আগে প্রতারণার টাকা ফেরানো গেছে এরকম কোনও উদাহরণ নেই।

সকলেই নিজের কোল থেকে ঝোল নামাতে ব্যস্ত। নীরব মোদী প্রতারণা প্রকাশ্যে আসবার পর প্রথম থেকেই একদল হাত ধুয়ে ফেলে সাংবাদিক সম্মেলন করতে শুরু করেছেন – ‘এ ঘটনা আমাদের সময়ে নয়’ বলে। যদিও সিবিআই-এর করা এফআইআর সম্পর্কিত যেটুকু তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে তাতে দেখা যাচ্ছে সব ঘটনাটাই শেষ দু বছরের। খুব স্পষ্ট করে বললে, বর্তমান সরকারের আমলেই। অতএব দায় তো একটা থেকেই যায়।

দায় কাঁধে এসে পড়লে হয় দায় বহন করতে হয়, নয় ঝেড়ে ফেলতে হয়। এক্ষেত্রে দ্বিতীয়টাই শ্রেয়। কারণ প্রায় সাড়ে এগারো হাজার কোটি টাকার প্রতারণা। অঙ্কটা তো খুব কম নয়।

এমনিতেই দেশের মানুষ ডিমনিটাইজেশন, জিএসটি এবং প্রস্তাবিত এফআরডিআই বিলের ত্র্যহস্পর্শে কম্পমান। তার মাঝে নীরব মোদীর নীরব চুরি, আর সংশ্লিষ্ট সকলের নীরব হয়ে যাওয়াতে সাধারণ মানুষের ভাবনা আরও বাড়ছে। সামনে যেহেতু ২০১৯, তাই মানুষকে বেশি ভাবতে দিলে সমূহ বিপদ।

তাই আমাদের থাক বাবুল সুপ্রিয়, আমাদের থাক শম্ভুলাল রেগার, বিনয় কাটিয়াররা। তাঁরা মাঝে মাঝে মন্তব্য করবেন। মানুষ তাই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় থ্রেড-এর পর থ্রেড খুলে মনের ঝাল মেটাবেন। খুব বেশি বিক্ষোভ প্রতিবাদ দেখাতে গেলে বিক্ষোভকারীদের ওপর দিয়ে ট্রেন চালিয়ে দেওয়া হবে। বিক্ষোভ থেমে যাবে। অন্যদিকে আরও কত শত নীরবরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নীরবে প্রতারণা করে দেশের মানুষকে পথে বসাবেন। সবে তো দেশের ১ শতাংশ মানুষের হাতে ৭৩% সম্পদ গেছে। ওটা পুরো ১০০ না হলে খেলা জমবে কী করে!!!

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in