উন্নাও, কাঠুয়া, এবং জয় শ্রী রাম ও ভারতমাতা কী জয়…

উন্নাও, কাঠুয়া, এবং জয় শ্রী রাম ও ভারতমাতা কী জয়…

না। তিনি এখনও পর্যন্ত ঘটনাগুলোকে ‘সাজানো ঘটনা’ বা ‘ছোট্ট ঘটনা’ বলেননি। এখনও বলেননি, ‘শরীর থাকলে যেমন জ্বর বমি হয়, ঠিক তেমন ধর্ষণও হয়’।

টেক স্যাভি এবং ঘন ঘন ট্যুইটে অভ্যস্ত তিনি উন্নাও বা কাঠুয়ার গণধর্ষণের ঘটনা সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া দিয়ে উঠতে পারেননি। বরং, সংসদের কাজকর্ম অচল হওয়ার প্রতিবাদে তিনি এখন অনশন করাকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেছেন।

ঠিক কী হয়েছিলো উন্নাওতে? বিশেষ কিছু না অবশ্যই। এক নাবালিকার গণধর্ষণ। অভিযোগ খোদ শাসকদলের বিধায়কের বিরুদ্ধে। যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে রহস্যজনকভাবে ধর্ষিতার বাবার মৃত্যু হয়েছে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে। দপ্তরটা সরকারীই এবং এলাহাবাদ হাইকোর্ট জানিয়েছে ধর্ষিতার বাবাকে পিটিয়ে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে। অভিযোগ অভিযুক্ত বিধায়কের ভাই এবং তার সাঙ্গপাঙ্গদের দিকে।

এবং কাঠুয়া। জম্মু কাশ্মীরের এই এলাকায় আট বছরের এক শিশুকন্যাকে গত জানুয়ারি মাসের ১০ তারিখে অপহরণ করা হয়। ওই শিশুটির মৃতদেহ পাওয়া যায় ১৭ জানুয়ারি। শিশুটিকে অপহরণ করার পর আটকে রাখা হয়েছিলো স্থানীয় এক মন্দিরে। এবং সেই মন্দিরেই শিশুটিকে মাদক খাইয়ে বার বার ধর্ষণ করা হয়। আট বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ করার জন্য উত্তরপ্রদেশের মীরাট থেকে এক বন্ধুকেও ডেকে আনে অভিযুক্ত যুবক। মন্দিরেই চলে ধর্ষণ এবং পাশাপাশি পূজাপাঠও। স্বয়ং দেবতাও রক্ষা করতে আসেননি আট বছরের শিশুকন্যাকে। পরে ওই শিশুকন্যাকে গলা টিপে হত্যা করা হয় এবং মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য পাথর দিয়ে তার মাথা থেঁতলে দেওয়া হয়। ওই ঘটনার চার্জশিট অনুসারে এরপরও, হ্যাঁ ওই শিশুকন্যার মৃতদেহকেও নাকি এক পুলিশকর্মী ধর্ষণ করে।

কাঠুয়ার জানুয়ারি মাসের ঘটনার চার্জশিট গত ১০ এপ্রিল জমা করতে যায় পুলিশ। যার বিরোধিতায় মাঠে নেমে পড়ে ‘হিন্দু একতা মঞ্চ’ এবং বার অ্যাসোসিয়েশন। আদালত চত্বর কেঁপে ওঠে ‘জয় শ্রীরাম’, ‘ভারতমাতা কী জয়’ ধ্বনিতে। একইভাবে উন্নাওয়ের ঘটনাতেও অভিযুক্তের পাশে দাঁড়ানোর মত মানুষের অভাব হয়নি। খোদ অভিযুক্ত তো বলেই দিয়েছেন – স্বয়ং রামজীর নামেও তো অভিযোগ উঠেছিলো। অন্য এক বিধায়ক আবার আরেকটু এগিয়ে বলেছেন – তিন সন্তানের মাকে কেউ ধর্ষণ করে? মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে নাকি তা সম্ভব নয়।

হয়তো নিতান্তই গুরুত্বহীন দুটো ঘটনা। ‘রাম’-এর নামে এগিয়ে চলা দেশের মানুষের কেঁপে ওঠার জন্য যথেষ্ট নয় হয় তো। আর বিদেশভ্রমণে ক্লান্ত কোনও দেশনেতার নজর কাড়ার জন্য যথেষ্ট তো নয়ই। ‘আচ্ছে দিন’ পেতে গেলে এটুকু ত্যাগ স্বীকার না করলে চলে? আড়মোড়া ভেঙ্গে ঘুমের খোয়ারি ভাঙতে ভাঙতে বলি চড়ুক আরও আরও কিছু নাবালিকারা। আমাদের বাঁচার জন্যে সঙ্গে থাকুক গুটখা, ‘জয় শ্রীরাম’ আর ‘ভারতমাতা কী জয়’।

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in