বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য অঘটন ঘটে গেল আজ। বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ অথচ ফিফা র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী সবচেয়ে দুর্বল দল রাশিয়ার কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে বিদায় নিলো ২০১০ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ও অন্যতম শক্তিশালী দল স্পেন। নির্ধারিত সময়ের ৯০ মিনিট ও এক্সট্রা টাইমের ৩০ মিনিট খেলার রাশ সম্পূর্ণরূপে স্পেনের হাতে থাকলেও পেনালটিতে ৪-৩ এ হেরে স্পেনকে বিদায় নিতে হলো। তার চেয়েও বেশী আশ্চর্যজনকভাবে রাশিয়া, যাদের নিয়ে বিশ্বকাপ শুরুর আগে নিজেদের সমর্থকেদেরই খুব একটা আশা ছিল না, তারাই এবার খেলবে কোয়ার্টার ফাইনালে।

আজকের খেলাতে স্পেন মোট ১,০০৬টি পাস্ সম্পূর্ণ করেছিল, যেখানে রাশিয়া বিশ্বকাপে তাদের ৪টি খেলা মিলিয়ে করতে পেরেছে ১,০২৭টি পাস। মোটামুটি ৮০% বল পসেশন থাকা সত্ত্বেও রাশিয়ার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও সুশৃঙ্খল রক্ষণ স্পেনকে গোলের সামনে সুবিধা করতে দেয়নি। ১২০ মিনিটের খেলার প্রায় সবটাই রাশিয়া তাঁদের বক্সের চারদিকে রক্ষণাত্মক খেলা খেলে ও স্পেন অনেক পাস্ করলেও গোলে তেমন আক্রমণ গড়ে তুলতে ব্যর্থ  হয়। এছাড়াও মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে উপস্থিত ৮০,০০০ সমর্থকদের গর্জন রাশিয়ার খেলোয়াড়দের ক্লান্তি কাটিয়ে খেলে অসাধ্যসাধন করতে অনুপ্রাণিত করে।

খেলার শুরুর দিকে ১২ মিনিটেই রাশিয়া এক গোলে পিছিয়ে পড়ে। মার্কো অ্যাসেনসিও-র ফ্রি কিক থেকে ক্রস আসবার সময় রাশিয়ার অভিজ্ঞ রক্ষক সার্গেই ইগনাশেভিচ স্পেনের খেলোয়াড় রামোস-কে ধরতে গিয়ে নিজেই নিজের জালে বল ঢুকিয়ে আত্মঘাতী গোল করে বসেন। পিছিয়ে পড়েও রাশিয়া স্পেনের গোলে আক্রমণের কোনো চেষ্টা না করে নিজেদের অর্ধে থেকে রক্ষণাত্মক খেলা চালিয়ে যেতে থাকে ও অন্যদিকে স্পেন অনেক পাস্ বেঁধে বল পাশাপাশি মাঠের একদিক থেকে আরেকদিক নিয়ে গেলেও রাশিয়ার গোলের দিকে নিয়ে যেতে অক্ষম হয়। আর তার মাশুল তাদের দিতে হয়, যখন মধ্যান্তরের কিছু আগেই কর্নার থেকে রাশিয়ার দীর্ঘকায় ফরোয়ার্ড জিউবার হেডার জেরার্ড পিকে হ্যান্ডবল করেন ও রাশিয়া পেনাল্টি পায়।

প্রাপ্ত পেনাল্টি থেকে গোল করে জিওবা খেলায় সমতা ফেরান ও সমর্থকদের উল্লসিত করেন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে ইনিয়েস্তাকে পরিবর্ত হিসেবে নামানোর পর স্পেন অর্থবহ কিছু আক্রমণ করতে শুরু করে। এমনই এক আক্রমণ থেকে ইনিয়েস্তা গোলে শট নিলেও রাশিয়ার গোলরক্ষক আকিনফেয়েভ তা বাঁচিয়ে দেন ও রিবাউন্ড থেকে আসপাস-এর শটও গোলে ঢুকতে দেন না। এরপর এক্সট্রা টাইমে স্পেনের পরিবর্ত খেলোয়াড় রড্রিগো গোলে শট নিলেও আকিনফেয়েভ তা বাঁচিয়ে ফেলেন ও খেলাকে পেনাল্টি শুটআউট পর্যন্ত নিয়ে যান। এবং শেষমেশ সেই পেনাল্টি শুটআউটের নায়ক হয়ে ওঠেন আকিনফেয়েভ নিজেই।

১৯৭০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন শেষবার কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছতে পেরেছিল, আর তখন সেই দলে সামিল ছিলেন কিংবদন্তী রাশিয়ান গোলরক্ষক লেভ ইয়াসিন। পেনাল্টি শুটআউটে দুটি পেনাল্টি বাঁচিয়ে আকিনফেয়েভের দুর্দান্ত পারফর্মেন্স আজ লেভ ইয়াসিনের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিল। রাশিয়া তাদের সবকটি পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারলেও স্পেনের তৃতীয় সুযোগে কোকে-র শট ডানদিকে ঝাঁপিয়ে ও পঞ্চম সুযোগে আসপাস-এর সোজা শট পা দিয়ে লাথি মেরে বাঁচিয়ে আকিনফেয়েভ বিশ্ব ফুটবলে এক বড়সড় ভূমিকম্প ঘটিয়ে দিলেন।

(ছবি সংগৃহীত)

জনপ্রিয় খবর

  • এই সপ্তাহের এর

  • এই মাস এর

  • সর্বকালীন