গত ২ সেপ্টেম্বর অবসর গ্রহণ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অরুণ মিশ্র। এর ঠিক একদিন আগে আদানি গোষ্ঠীকে ৮০০০ কোটি টাকা পাইয়ে দেওয়ার ব‍্যবস্থা করে গেছেন তিনি। ৩১ আগস্ট বিচারপতি মিশ্রের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চ আদানি পাওয়ার রাজস্থান লিমিটেডের (APRL) মালিকানাধীন রাজস্থানের বারন জেলার কাওয়াইয়ে ১,৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষতিপূরণ শুল্ক হিসেবে ৫ হাজার কোটিরও বেশি টাকা এবং সুদ ও জরিমানা বাবদ ৩০০০ কোটি টাকা পাওয়ার পক্ষে রায় দিয়েছে।

যোধপুর, জয়পুর ও আজমের শহরের বিদ‍্যুৎ গ্রাহকরা এই বিশাল ক্ষতিপূরণের ভার বহন করবেন।‌ ২০১৯ সাল থেকে অবসর গ্রহণের আগে পর্যন্ত এই নিয়ে মোট সাতবার আদানি গোষ্ঠীর পক্ষে রায় দিয়েছেন বিচারপতি অরুণ মিশ্র। সম্প্রতি নিউজক্লিকে এই সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

নিউজক্লিকের ওই প্রতিবেদন অনুসারে - ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে Appellate Tribunal for Electricity (Aptel)-এর রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে একত্রে আবেদন জানিয়েছিল উপরিউক্ত তিন শহরের বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলি (discoms)। এছাড়াও পৃথকভাবে আবেদন জানিয়েছিল পাবলিক সেক্টর বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলির কর্মচারী সংগঠন অল ইন্ডিয়া পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ার্স ফেডারেশন (AIPEF)। সেই আবেদনের রায়ে বিচারপতি অরুণ মিশ্র, বিচারপতি ভিনীত সরণ এবং বিচারপতি এম আর শাহের ডিভিশন বেঞ্চ discoms এবং AIPEF-এর আবেদন খারিজ করে দিয়ে Aptel-এর‌ রায়ই বহাল রেখেছে, যেখানে বলা হয়েছিল রাজস্থান সরকার আদানী গোষ্ঠীর পাওয়ার প্ল্যান্টের জন্য ডোমেস্টিক ফুয়েলের ব‍্যবস্থা করতে না পারায় লোকসানের মুখে পড়েছিল এই সংস্থা। তাই এই সংস্থাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। প্রসঙ্গত, AIEPF-এর হয়ে আবেদন করেছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ।

কাওয়াইয়ে এই পাওয়ার প্ল‍্যান্টটি আদানি পাওয়ার লিমিটেড এবং রাজস্থান সরকারের সাথে একটি MoU স্বাক্ষরের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে প্রয়োজনীয় জ্বালানি হিসেবে কয়লার যোগান দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল রাজ‍্য। ২০১০ সালে এই Power Purchase Agreement বা PPA স্বাক্ষর করা হয় এবং ২০১৩ সালে এই প্ল‍্যান্ট চালু হয়।

চুক্তি থাকা সত্ত্বেও কয়লার অভাবের কারণে রাজস্থান তার পার্সা পূর্ব এবং কান্তে বসন খনি থেকে APEL-কে কয়লা সরবরাহ করতে পারেনি। কেন্দ্রীয় কয়লা মন্ত্রকের কাছে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও কোল ইন্ডিয়া লিমিটেডের সাথেও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহ চুক্তি করতে অক্ষম হয়েছে এই সংস্থা।

Aptel এই মামলার রায় ঘোষণার সময় আদানি গোষ্ঠী জানিয়েছিল, PPA অনুযায়ী বিদ‍্যুৎ শুল্ক প্রতি ইউনিট ৩.২৪ টাকা রাখা সত্ত্বেও ব‍্যয়বহুল জ্বালানি আমদানি করতে বাধ্য করা হতো সংস্থাকে, যার কারণে বার্ষিক ১,২২১ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে সংস্থার।

জনপ্রিয় খবর

  • এই সপ্তাহের এর

  • এই মাস এর

  • সর্বকালীন