চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে হওয়া দাঙ্গা 'পরিকল্পিত ও লক্ষ্যবস্তু' স্থির করেই সংঘটিত হয়েছিল। পুলিশের বেশ কিছু অংশের ইচ্ছাকৃত নিষ্ক্রিয়তাও ছিল, যার ফলে সহজেই আক্রমণ ঘটানো সম্ভব হয়েছিল। দিল্লি সংখ্যালঘু কমিশনের তরফে নিযুক্ত একটি সত্যানুসন্ধানী দলের দেওয়া রিপোর্টে এই তথ্য দেওয়া হয়েছে।

এদিন এই প্রসঙ্গে এক ট্যুইট বার্তায় সিপিআইএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলেন – উত্তেজনা সৃষ্টিকারী এবং ঘৃণাসূচক মন্তব্যকারী বিজেপি নেতা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা হোক। ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার অপরাধীদের শাস্তি দেওয়া হোক। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক।

 

রিপোর্ট আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জাফরাবাদে সিএএ বিরোধী বিক্ষোভকারীদের জোর করে সরানোর দাবি করেছিলেন বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র। যদিও পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরাতে ব্যর্থ হয়েছিল। এরপরই হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময়ই তাঁকে গ্রেপ্তার করলেই হিংসা ছড়ানো আটকানো সম্ভব হতো। দিল্লি পুলিশ তখন কমিটির নোটিসের জবাব দেয়নি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির ২৩ এবং ২৬ তারিখের মধ্যে দিল্লি দাঙ্গায় প্রাণ গিয়েছিল ৫৫ জনের। রিপোর্ট অনুসারে, বিজেপি নেতা কপিল মিশ্রর মন্তব্যের পরই বিভিন্ন গোষ্ঠী, উত্তেজিত জনতা দ্রুত পেট্রোল বোমা, লোহার রড, গ্যাস সিলিন্ডার, পাথর এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় মানুষের জীবন ও সরকারি সম্পত্তি বাঁচাতে স্থানীয় প্রশাসন বা পুলিশ কেউই পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে পারেনি।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম আর শামশাদের নেতৃত্বাধীন ১০ সদস্যের কমিটির তরফে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই হিংসা পরিকল্পিতভাবেই হিন্দুত্ববাদী স্লোগানের মধ্যে দিয়ে সংঘটিত হয়েছিল। শুধুমাত্র সংখ্যালঘুদের উপরই আক্রমণ চালানো হয়েছিল। তাদেরই বাড়ি, দোকান, গাড়ি, মসজিদ ভাঙচুর করা হয়েছিল। আক্রান্তরা হামলাকারীদের চিহ্নিতও করতে পেরেছিলেন সহজে।

 

জনপ্রিয় খবর

  • এই সপ্তাহের এর

  • এই মাস এর

  • সর্বকালীন