লকডাউনের কারণে চাকরি খুইয়ে একশো দিনের কাজ খুঁজছেন স্নাতক স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীরা। সম্প্রতি এরকম বহু ছবি দেখা গিয়েছে দেশের বিভিন্ন রাজ‍্যে। এনডিটিভি-র এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেবলমাত্র উত্তরপ্রদেশেই প্রায় ৩০ লক্ষ লোক উচ্চ বেতনের চাকরি খুইয়ে বেকার হয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৪ মার্চ রাত ৮টায় ঘোষণা মাত্র ৪ ঘণ্টার নোটিশে দেশে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে লকডাউন শুরু হয়ে যায়। বেশ কিছু নিয়ম শিথিল করে দেশে এই মুহূর্তে পঞ্চম দফার লকডাউন চলছে। পাশাপাশি চলছে আনলক -১ পর্বও। যদিও এই মুহূর্তে বিভিন্ন রাজ্যে এক বড়ো সংখ্যক মানুষ রোজগার হারিয়ে সম্পূর্ণ বিপাকে। এখনও পর্যন্ত এঁদের রোজগার ফিরে পাবার মতো কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা দেখা যায়নি। সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করা হলেও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে এই আর্থিক প্যাকেজ থেকে কর্মচ্যুত ব্যক্তিদের লাভবান হবার সম্ভাবনা খুবই কম।

লকডাউনের জেরে দেশজুড়ে প্রায় ১৪ কোটি মানুষ কর্মচ্যুত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়া বহু মানুষ রাতারাতি কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন। গত ২৯ মার্চ কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এক নির্দেশিকায় লকডাউনের সময় কোনো কর্মীকে ছাঁটাই করা যাবেনা এবং পুরো বেতন দিতে হবে জানানো হলেও পরবর্তী সময়ে এই বিষয় নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়। যে মামলার অন্তর্বর্তীকালীন রায়ে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে কর্মীদের লকডাউনের সময়ের পুরো বেতন না দিলেও আগামী ১২ জুন পর্যন্ত কোনো নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবেনা। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় গত ১৮ মে।

ওই প্রতিবেদনে এমএ ডিগ্রিধারী এক যুবকের কথা বলা হয়েছে, যিনি ভিনরাজ‍্যে উচ্চ বেতনের কাজ করতেন। লকডাউনের কারণে চাকরি খুইয়ে বর্তমানে মনরেগা প্রকল্পের আওতায় কাজ খুঁজছেন তিনি। ওই যুবক জানিয়েছেন, "আমি চাকরি করতাম। অনেক টাকাই উপার্জন করতাম। কিন্তু দেশব‍্যাপী লকডাউন জারি হওয়ার পর কোম্পানি আমায় বাড়ি পাঠিয়ে দিল। পেট চালানোর জন্য এখন যে কোনো কাজ করতে রাজি আমি।"

অপর এক বিবিএ ডিগ্রিধারী যুবকের গলায় কিছুটা অন‍্য সুর। উচ্চশিক্ষিত হলেও এই দেশজুড়ে চলা তীব্র বেকারত্বের কারণে এখনও চাকরি পাননি তিনি। ওই যুবক জানিয়েছেন, "আমার কাছে বিবিএ ডিগ্রি রয়েছে। কিন্তু এখনও কোনো ভালো চাকরি পাইনি আমি। অনেক চেষ্টার পর কয়েকমাস আগে মাসে ৬ হাজার টাকার বেতনে একটি চাকরি পেয়েছিলাম আমি।‌ কিন্তু লকডাউনের কারণে সেটাও চলে গেল। বাধ‍্য হয়ে গ্রামে ফিরে এসেছি আমি এবং গ্রাম প্রধানকে অনুরোধ করে একটা একশো দিনের কাজে ঢুকেছি।"

স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী অপর এক যুবকের কথায়, "আমার কাছে এমএ ও বিএডের ডিগ্রি রয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনো চাকরি পাইনি আমি। একশো দিনের কাজই এখন ভরসা।"

লকডাউনের কারণে কোটি কোটি পরিযায়ী শ্রমিক কাজ হারিয়ে বিভিন্ন রাজ‍্যে ফিরেছেন। রাজ‍্যে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে মনরেগা প্রকল্পের কর্মদিবস বাড়িয়েছে কেন্দ্র সরকার। সেই প্রকল্পেরই অন্তর্গত পুকুর খনন বা গ্রামের‌ রাস্তা তৈরি করাই এখন এই উচ্চশিক্ষিতদের একমাত্র সম্বল।

 

 

জনপ্রিয় খবর

  • এই সপ্তাহের এর

  • এই মাস এর

  • সর্বকালীন