কলকাতার পুলিশ কমিশনারের পক্ষ থেকে শহরের নিঃসঙ্গ বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের নিরাপত্তার জন্য স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) তৈরির পর দিন থেকেই তৎপর হয়েছে কলকাতা পুলিশ। বৃহস্পতিবার থেকে সেই এসওপি মেনে কাজ শুরু করে দেন কলকাতা পুলিশের ১৯ টি ডিভিশনের ডেপুটি কমিশনার এবং তার অধীনস্থ অ্যাসিসট্যান্ট কমিশনার এবং থানার অফিসাররা।

এলাকার নিঃসঙ্গ বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের সঙ্গে দেখা করেছেন তাঁরা। তাদের কী কী সমস্যা রয়েছে সে ব্যাপারেও জানতে চান। নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য কী কী করনীয় তাও ভালোভাবে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের বুঝিয়ে দেন পদস্থ পুলিশকর্তারা। উল্লেখ্য, একাকী প্রবীণ নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য বেশ কয়েকবছর আগে চালু হয়েছে প্রণাম প্রকল্প। তাতে বর্তমানে ১৪ হাজারের মতো সদস্য রয়েছেন। এর বাইরেও শহরে অনেক প্রবীণ নাগরিক বিভিন্ন কারণে একা থাকেন। কারও স্বামী বা স্ত্রী প্রয়াত হয়েছেন। কেউ নিঃসন্তান, কারও সন্তান কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন। আবার অনেক প্রবীণ স্বামী-স্ত্রীকে দেখার মতো কেউ নেই।

এসবের বাইরেও এমন প্রবীণ নাগরিকের সংখ্যা কত, তারা কে, কোথায় থাকেন তার সম্পূর্ণ তালিকা তৈরি করছে পুলিশ। ওই প্রবীণদের ছেলেমেয়ে আত্মীয়স্বজন, পরিচারক-পরিচারিকা, চিকিৎসক, আয়া বা নার্স, দুধ বা খবরের কাগজ যারা দেন - অর্থাৎ নিয়মিত যাঁদের যাতায়াত তাদেরও ডেটাবেস তৈরি করছে পুলিশ।

নিঃসঙ্গ প্রবীণ নাগরিকরা প্রয়োজনে যাতে দ্রুত পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন তার জন্য সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জ, অ্যাডিশনাল অফিসার ইনচার্জ সহ বিভিন্ন অফিসারদের ব্যাক্তিগত মোবাইল ফোন নম্বরের তালিকাও প্রবীণ নাগরিকদের দেওয়া হয়েছে। প্রবীণদের বসার ঘরে সেই তালিকা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

নিউআলিপুর থানা এলাকায় এদিন নিঃসঙ্গ প্রবীণদের বাড়িতে গিয়ে গিয়ে থানার ওসি সহ অন্যান্য অফিসাররা দেখা করেন। ওই থানার অফিসার ইনচার্জ অমিত শঙ্কর মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তার অধীন এলাকায় ২৯৪ জন প্রবীণ প্রণাম তালিকাভূক্ত রয়েছেন। তার মধ্যে ১০০ জনের বাড়ির কাছে কোনও ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা নেই। তাই সেই সব বাড়িতে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা লাগিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এদিন সকামে ডিসি ( পূর্ব ) রূপেশ কুমার সার্ভে পার্ক এলাকায় বৃদ্ধ বৃদ্ধাদের বাড়িতে যান। তারা কেমন আছেন, জানতে চান। পুলিশের এই ভূমিকাতে খুশি নিঃসঙ্গ বয়স্ক নাগরিকেরাও। পরে রূপেশ কুমার বলেন, আমরা বয়স্ক নাগরিকদের সংঙ্গে সংযোগের উপরে জোর দিচ্ছি। তাদের কোনও অসুবিধা হচ্ছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বয়স্কদের এবং নিরাপত্তার জন্য প্রত্যেক থানা এলাকায় “ জোন ’ ভাগ করে এক জন করে কনস্টেবল নিয়োগ করা হবে। তারা প্রতি সপ্তাহে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের ফোন করে হালহকিকত জানবেন। ১৫ দিন অন্তর বাড়িতেও যাবেন।

জনপ্রিয় খবর

  • এই সপ্তাহের এর

  • এই মাস এর

  • সর্বকালীন