প্রখ্যাত মানবাধিকার কর্মী স্ট্যান স্বামী প্রয়াত

সোমবার মুম্বাইয়ের হাসপাতালে দুপুর ১.৩০ মিনিট নাগাদ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিলো ৮৪ বছর। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়েছিলো।
প্রখ্যাত মানবাধিকার কর্মী স্ট্যান স্বামী প্রয়াত
স্ট্যান স্বামীফাইল ছবি সংগৃহীত

প্রয়াত হলেন প্রখ্যাত সমাজকর্মী স্ট্যান স্বামী। সোমবার মুম্বাইয়ের হোলি ফ্যামিলি হাসপাতালে দুপুর ১.৩০ মিনিট নাগাদ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৮৪ বছর। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে সম্প্রতি ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়েছিলো। গত ২৮ মে বোম্বে হাইকোর্টের নির্দেশে তাঁকে তালোজা জেল থেকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এলগার পরিষদ কান্ডে মাওবাদীদের যোগাযোগের অভিযোগে গত বছরের ৮ অক্টোবর রাঁচিতে তাঁর বাড়ি থেকে থেকে স্ট্যান স্বামীকে গ্রেপ্তার করে এনআইএ। তাঁর বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে পুণের ভীমা-কোরেগাঁওয়ে মাওবাদীদের সাহায্যে হিংসা ছড়ানোর অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনায় মাওবাদী ঘনিষ্ঠ সংগঠন এলগার পরিষদও জড়িত ছিল বলে অভিযোগ।

গত মে মাসে আদালতে স্ট্যান স্বামীর পক্ষে সওয়াল করতে উঠে আইনজীবী মিহির দেশাই জানান, গত অক্টোবর ২০২০ তে গ্রেপ্তার হবার সময় থেকে তিনি তালোজা জেল হাসপাতালে আছেন। তিনি পারকিনসনস ডিজিজের রোগী। তিনি তাঁর শ্রবণশক্তি হারিয়েছেন। বর্তমান কোভিড পরিস্থিতিতে আমাদের আবেদন তাঁকে কিছু সময়ের জন্য জামিনে মুক্তি দেওয়া হোক। তিনি আরও জানান, এখনও পর্যন্ত স্ট্যান স্বামীর বিরুদ্ধে কোনো চার্জ গঠন করা হয়নি।

দেশাই আরও জানান, তাঁর বাড়ি থেকে কোনো অস্ত্র বা কোনো আপত্তিজনক বস্তু পাওয়া যায়নি। তবুও ৮৪ বছর বয়স্ক এই ব্যক্তিকে ইউএপিএ এবং আইপিসি-র একাধিক ধারায় যুক্ত করা হয়েছে।

গত ২৮ মে বোম্বে হাইকোর্টের পক্ষ থেকে ভীমা কোরেগাঁও – এলগার পরিষদ মামলায় আটক সমাজকর্মী স্ট্যান স্বামীকে হোলি ফ্যামিলি হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়ে একথা জানানো হয় শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি হচ্ছে, ওনার চিকিৎসার প্রয়োজন। আগামী দু'সপ্তাহের জন্য তিনি হোলি ফ্যামিলি হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর সুযোগ পাবেন। হোলি ফ্যামিলি হাসপাতালে ভর্তি এবং চিকিৎসার খরচ বহন করবেন স্ট্যান স্বামী নিজেই।

১৯৩৭ সালের ২৬ এপ্রিল তৎকালীন ব্রিটিশ ইন্ডিয়ার মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সীর তিরুচিরাপল্লীতে জন্ম হয় স্ট্যান স্বামীর। ১৯৭০ সালে ফিলিপাইন্স থেকে থিওলজি এবং সোশিওলজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পর তিনি ভারতে ফিরে আসেন। ১৯৭৫ থেকে ১৯৮৬ পর্যন্ত ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাঙ্গালোরের ইন্ডিয়ান সোশ্যাল ইনস্টিটিউটে। পরবর্তী সময়ে তিনি ঝাড়খন্ডে আসেন।

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in