কেরালায় মৎস্যজীবিদের প্রতিবাদে থমকে গেল আদানির মেগা প্রজেক্টের কাজ

আদানির এই বন্দরকে ঘিরে ক্ষোভ সঞ্চার হয়েছে ওই এলাকার মৎস্যজীবিদের মধ্যে। প্রতিবাদ জানাতে, বন্দরে আসার প্রবেশপথ আটকে একটি আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তুলেছেন তাঁরা। যার ফলে, আটকে গিয়েছে বন্দর তৈরির কাজ।
মৎস্যজীবিদের প্রতিবাদ (ডানদিকে) থমকে গেল আদানির মেগা প্রজেক্টের কাজ
মৎস্যজীবিদের প্রতিবাদ (ডানদিকে) থমকে গেল আদানির মেগা প্রজেক্টের কাজছবি সংগৃহীত

কেরালার রাজধানী তিরুঅনন্তপুরমের ভিজিনজামে দেশের প্রথম কন্টেইনার ট্রান্সশিপমেন্ট (Container Transhipment Port) বন্দর তৈরি করছেন গৌতম আদানি।

তবে, আদানির এই বন্দরকে ঘিরে ক্ষোভ সঞ্চার হয়েছে ওই এলাকার মৎস্যজীবিদের মধ্যে। প্রতিবাদ জানাতে, বন্দরে আসার প্রবেশপথ আটকে একটি আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তুলেছেন তাঁরা। যার ফলে, আটকে গিয়েছে বন্দর তৈরির কাজ।

মৎস্যজীবিদের অধিকাংশই হলেন খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের। তাঁদের অভিযোগ, এই বন্দরের নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার পর উপকূলবর্তী একালায় উল্লেখযোগ্যভাবে ভূমি ক্ষয় শুরু হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে মৎসজীবীদের উপর। ইতিমধ্যে অনেকেই এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

এক রিপোর্টে NDTV জানিয়েছে, প্রায় ১০০ টি প্লাস্টিকের চেয়ার নিয়ে একটি আশ্রয়কেন্দ্রে তৈরি করেছে প্রতিবাদী মৎস্যজীবিদের। অনির্দিষ্টকালীন আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন তাঁরা।

আবার অন্যদিকে, আদানী গোষ্ঠীর এই বন্দরের সমর্থনে নেমেছে গেরুয়া শিবির। বিজেপি এবং বিভিন্ন হিন্দু গোষ্ঠীর সদস্যরা গোটা এলাকা জুড়ে নিজেদের আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করছে। ফলে, এই এলাকা জুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এই মুহূর্তে।

সংবাদ সূত্রে খবর, আন্দোলনকারীদের সংখ্যা ৩০০ জনের কম হলেও, এলাকা ছাড়ছেন না পুলিশ। তাঁরা (পুলিশ) সবসময় লাঠি হাতে এলাকা পরিদর্শন করছেন। প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলারের এই মেগা প্রজেক্ট নিয়ে এর আগেও সমালোচনার মুখে পড়েছেন গৌতম আদানি।

উল্লেখ্য বিষয় হল, আদানী গোষ্ঠীর এই বন্দরের নির্মাণের কাজ বাধাহীনভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আদেশ দিয়েছে কেরালা হাইকোর্ট। তবে, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রাজি হচ্ছে না পুলিশ। তাঁদের আশঙ্কা, এটি করলে বন্দরকে কেন্দ্র করে সামাজিক এবং ধর্মীয় উত্তেজনা ছড়াতে পারে।

এই বন্দরের বিরোধিতাকারীদের অভিযোগ, ২০১৫ সালের ডিসেম্বর থেকে বন্দর নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। সামুদ্রিক মাটি অনেকটাই ক্ষয়ে গেছে। এর উপর প্রায় ৫৬ হাজার মৎস্যজীবি সম্প্রদায় মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল। সরকার সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের উপর বন্দর নির্মাণ এবং স্বাধীন গবেষণা বন্ধ করার নির্দেশ দিক।

মৎস্যজিবীদের দাবি
মৎস্যজিবীদের দাবি

বিক্ষোভকারীদের নেতৃত্বদানকারী ইএইচ পেরেইরা (Eugine H. Pereira) বলেন, 'আদালতের আদেশ দিলেও আমরা আশ্রয়কেন্দ্রটি সরিয়ে নেবে না। প্রয়োজনে আমরা গ্রেপ্তার হতে রাজি আছি।'

অপরদিকে, আদানি গ্রুপ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আইনের সাথে সম্পূর্ণ সম্মতি নিয়ে এই বন্দর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের দ্বারা পরিচালিত অনেক গবেষণা উপকূলীয় ক্ষয়ের জন্য প্রকল্পের দায় সম্পর্কিত অভিযোগ প্রত্যাখ্যানও করেছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে তামিলনাড়ুর থুত্থুকুডি বা তুতিকোরিনে ভেদান্তা গ্রুপের স্টারলাইট তামা প্রক্রিয়াকরণ কারখানায় দূষণ বিরোধী গণবিক্ষোভে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলি চালায় পুলিশ। এতে প্রাণ হারান ১৩ জন পরিবেশকর্মী।

সেই প্রসঙ্গে টেনে, এদিন বন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক সিনিয়র পুলিশ অফিসার প্রকাশ আর (Prakash R) বলেন, 'প্রতিবেশী তামিলনাড়ুর বেদান্তের মতো যাতে কোনও ঘটনা না ঘটে, সেজন্য আমরা সতর্ক আছি।'

তিনি জানান, 'আমরা এখানে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার সম্ভাবনাকেও উড়িয়ে দিতে পারি না। তাই, এই ধরনের ঘটনা এড়াতে আমরা কৌশলগতভাবে দুই পক্ষের মধ্যে অবস্থান করছি।'

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in