Bharat Bandh: কৃষক আন্দোলনের ৩০৫ দিন - ৩ কৃষি আইনের বর্ষপূর্তির দিনে SKM-এর ডাকে ভারত বনধ

বিতর্কিত তিনটি কৃষি আইন পাশ হয়েছিল এক বছর আগে আজকের দিনেই। আর আজ সেই বর্ষপূর্তির দিনে সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার ডাকা ভারত বনধে পঞ্জাব, হরিয়ানা,উত্তরপ্রদেশে ভালো প্রভাব পড়লো৷ প্রভাব পড়েছে অন্যান্য রাজ্যেও।
Bharat Bandh: কৃষক আন্দোলনের ৩০৫ দিন - ৩ কৃষি আইনের বর্ষপূর্তির দিনে SKM-এর ডাকে ভারত বনধ
তামিলনাড়ু থিরুপুর-এ ভারত বনধের সমর্থনে মিছিলছবি কিষাণ একতা মোর্চা ট্যুইটার হ্যান্ডেলের সৌজন্যে

বিতর্কিত তিনটি কৃষি আইন পাশ হয়েছিল এক বছর আগে আজকের দিনেই। আর আজ সেই বর্ষপূর্তির দিনে সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার ডাকা ভারত বনধে পঞ্জাব, হরিয়ানা,উত্তরপ্রদেশে ভালো প্রভাব পড়লো৷ দিল্লীর যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে গেল প্রধান প্রধান রাস্তাগুলিতে বিক্ষুব্ধ কৃষকরা অবরোধ করায়। এদিনের বনধের প্রভাব পড়েছে তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা, মধ্যপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা সহ অন্যান্য রাজ্যেও।

হরিয়ানা এবং পঞ্জাবের বিভিন্ন জায়গায় প্রচুর পুলিশ মোতায়েন আছে আইন শৃঙখলা রক্ষায়। দুটি রাজ্যেই হাইওয়ে এবং রাজ্যের প্রধান সংযোগকারী রাস্তাগুলিতে বিক্ষোভকারীরা বসে পড়েছে ট্রাক্টর নিয়ে।

হরিয়ানার কুরুক্ষেত্রে শাহবাদে দিল্লি-অমৃতসর জাতীয় সড়ক অবরোধে বন্ধ।উত্তরপ্রদেশ থেকে গাজীপুর যাতায়াত বন্ধ। দক্ষিণে শাসক বাম এবং কংগ্রেস বনধে পূর্ণ সমর্থন জানানোয় ওই রাজ্যগুলিতে প্রায় সর্বাত্মক বনধ পালিত হচ্ছে।

প্রত্যেকবারের মতো এবারেও মোর্চা বনধ শান্তিপূর্ণ হবে জানিয়ে সকলকে এই বনধকে সমর্থন করার আবেদন জানিয়েছে। সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার নেতৃত্বে ৪০টি কৃষক সংগঠনের ডাকে এই বনধ চলার কথা ভোর ৬টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত। তবে কৃষকরা জানিয়েছে জরুরি পরিষেবা এই সময়ে বহাল থাকবে।

মোর্চা এক বিবৃতিতে বলেছে গত বছর ২৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ তিনটি কৃষকবিরোধী কালা কানুনে সম্মতি জানিয়েছিলেন।

সিপিআই(এম), সিপিআই, ফরওয়ার্ড ব্লক, আর এস পি, সমাজবাদী পার্টি, সিপিআই এম-এল (লিবারেশন), সিপিআই(এম) নিউ ডেমোক্রেসি, এস ইউ সি আই(সি), এম সিপি আই (ইউ), কংগ্রেস, আপ, টিডিপি, জেডিএস, বিএসপি, এনসিপি, ডিএমকে, ওয়াইএসআরসিপি, জেএমএম, আরজেডি এবং স্বরাজ ইন্ডিয়া পার্টি এদিনের বনধকে মর্থন জানিয়েছে।

মোর্চা জানিয়েছে ভারত বনধে শ্রমিক সংগঠন,কর্মচারী ও ছাত্র ইউনিয়ন,মহিলা সংগঠনগুলি এবং পরিবহন ইউনিয়নগুলিও যুক্ত। দিল্লীর সীমান্তে প্রহরা কঠোর করা হয়েছে। সেখানেই দশ মাস ধরে বিক্ষোভ সনাবেশ করছে কৃষকরা। সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় বিশাল সংখ্যায় পুলিশ চোখে পড়ছে। আরও ১২টি রাজ্যেও পুলিশকে সতর্ক রাখা হয়েছে।

গাজিয়াবাদে প্রধান রাস্তাগুলিতে পুলিশকে গাড়ি ঘুরিয়ে দিতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে সংযোগস্থলগুলিতে এবং শহর পার্শ্বস্থ হাপুর চুঙ্গি ইউপি গেট এবং গাজিপুর সীমান্তে।

এইসব জায়গায় সাধারণ মানুষ অসুবিধায় পড়তে পারেন। এছাড়া স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কোথাও কোথাও ব্যাঙ্কের কাজকর্ম ব্যাহত হতে পারে।

কৃষকরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে বনধের সময়ে সরকারি বেসরকারি কোন অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া হবে না।

মোর্চার বিবৃতি অনুযায়ী ভারত বনধ হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারি অফিসগুলি, বাজার দোকান, কারখানা, স্কুল, কলেজ এবং অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যাবে না। সরকারি বেসরকারি পরিবহনও বন্ধ থাকবে।

তবে অ্যাম্বুলেন্স,দমকল,ওষুধের দোকান এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত পরিষেবা, হাসপাতাল চালু থাকবে। পাশাপাশি পরীক্ষার্থী এবং ইন্টারভিউ দিতে যাওয়া ব্যক্তিকে আটকানো হবে না।কোভিড ১৯সংক্রান্ত জরুরি পরিষেবা ব্যাহত হবে না জানিয়েছে মোর্চা।

দিল্লীর সীমান্তে ১০মাসের বেশি সময় ধরে কৃষকদের বিক্ষোভ চলছে। সরকারের সঙ্গে কৃষক প্রতিনিধিদের ১১দফা বৈঠক নিষ্ফলা থেকে গেছে। এর আগে গত ২৬ জানুয়ারি লালকেল্লায় কৃষক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে।

- with inputs from IANS

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.