উত্তরপ্রদেশ সহ বেশ কিছু রাজ্যে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা খর্ব

ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম পাঠাচ্ছে এডিটরস গিল্ড অফ ইন্ডিয়া
উত্তরপ্রদেশ সহ বেশ কিছু রাজ্যে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা খর্ব
ছবি প্রতীকী সংগৃহীত

উত্তরপ্রদেশ সহ বেশ ‌কিছু রাজ‍্যে সাংবাদিকেদের স্বাধীনতা খর্ব করা হচ্ছে। এই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে রাজ‍্যগুলিতে তথ্য অনুসন্ধানকারী দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সম্পাদকদের শীর্ষস্থানীয় সংস্থা এডিটরস গিল্ড অব ইন্ডিয়া। উত্তরপ্রদেশ ছাড়াও এই রাজ‍্যগুলোর মধ্যে রয়েছে জম্মু-কাশ্মীর, ওড়িশা ও তেলেঙ্গানা।

২ নভেম্বর এডিটর গিল্ডের নতুন এক্সিকিউটিভ কমিটির প্রথম বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ ও গ্রেফতারের পরিপ্রেক্ষিতে এডিটরস গিল্ডের এই পদক্ষেপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

ইন্টারন‍্যাশনাল প্রেস ইনস্টিটিউট এবং ইন্টারন‍্যাশনাল ফেডারেশন অফ জার্নালিস্টস সহ একাধিক মিডিয়া ওয়াচডগ ভারতের বিভিন্ন রাজ‍্যে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের দাবির ক্রমবর্ধমান প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গত মাসেই সাংবাদিকদের স্বাধীন ভাবে কাজ করতে দেওয়ার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে যৌথভাবে চিঠি দিয়েছে এই দুটি সংস্থা।

গত কয়েক বছরে সমস্ত রাজ‍্যেই একাধিক সাংবাদিককে বন্দী করে রাখা হয়েছে। জামিনও পাচ্ছেন না তাঁরা। গত ৫ অক্টোবর হাথরস গণধর্ষণ নিয়ে খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে সিদ্দিক কাপ্পান নামে কেরলের এক সাংবাদিককে গ্রেফতার করে উত্তরপ্রদেশ সরকার। ইউএপিএ আইনের অধীনে দেশদ্রোহীতার মামলা দায়ের করা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। গত এক মাস ধরে মথুরা জেলে বন্দি রয়েছেন তিনি। এক মাসে তাঁকে জামিন দেওয়া তো দূরের কথা তাঁর স্ত্রী বা আইনজীবী কারো সাথে তাঁকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।

প্রশান্ত কানোজিয়া নামের এক ফ্রিল‍্যান্স সাংবাদিককে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের জন্য গত দু'বছরে দু'বার গ্রেফতার করেছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। পুলিশের বক্তব্য, তাঁর ট‍্যুইটগুলোর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দুটি মামলাতেই আদালত কানোজিয়ার জামিন মঞ্জুর করলেও কয়েক মাস কারাগারে কাটাতে হয়েছিল তাঁকে। গত ৬ নভেম্বর তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

জম্মু-কাশ্মীর, ওড়িশা, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশেও একই ছবি দেখা গিয়েছে। এরই প্রতিফলন দেখা গিয়েছে গ্লোবাল প্রেস ফ্রিডম ইন্ডেক্সে। ২০১৮ সালে ১৮০টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান ছিল ১৩৮। ২০১৯ সালে দুই ধাপ নেমে গিয়ে তা হয়েছিল ১৪০ এবং ২০২০ সালে আরও দুই ধাপ নেমে তা হয়েছে ১৪২।

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in