সমগ্র বিশ্বজুড়ে বেড়ে চলেছে করোনা ভাইরাস কোভিড-১৯-এর সংক্রমণ, তখনই বিশ্বের প্রথম করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিনের কথা ঘোষণা করতে চলেছে রাশিয়া সরকার। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বিশ্বের প্রথম কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী দেশ হতে যাচ্ছে রাশিয়া। রাশিয়ার সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ বিনিয়োগ করে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও গ্যামেলিয়া ইনস্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে এই প্রথম এ্যাডিনো ভাইরাস বেসড প্রতিষেধক ভ্যাকসিন।

রাশিয়ার উপ স্বাস্হ্যমন্ত্রী ওলেগ গ্রিডনেভ জানিয়েছেন ১২ ই আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে এই ভ্যাকসিনের ঘোষণা করা হবে, রাশিয়াই হবে বিশ্বের প্রথম করোনা ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী দেশ। যদিও ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাশিয়ার এই ভ্যাকসিনের প্রসঙ্গে বলা হয়েছে যে যে কোনো ভ্যাকসিনের জন্য প্রথম ট্রায়াল দরকার। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়ার এই ভ্যাকসিনের কার্যকরী হবার সম্ভাবনা খুবই কম এবং তা অসুরক্ষিত হতে পারে।

এখনও পর্যন্ত বিশ্বের প্রায় সাত লক্ষ মানুষ ইতিমধ্যেই এই মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। উপ স্বাস্হ্যমন্ত্রী এও জানিয়েছেন যে দেশের প্রবীণ মানুষ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতিষেধক প্রয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়া শুরু হবে আগামী অক্টোবর মাস থেকেই।

রাশিয়ায় উৎপাদিত এই ভ্যাকসিনের ক্লিনিকাল ট্রায়াল শুরু হয়েছিলো ১৮ ই জুন মস্কোয় অবস্হিত Sechenov বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, ৩৮ জন স্বেচ্ছাসেবীর মাধ্যমে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু করে রাশিয়া।

এই প্রতিষেধকটির ট্রায়ালে অংশ নেওয়া সবার শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তাদের কোনরূপ প্বার্শপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

এই ভ্যাকসিনে অবস্হিত প্রোটিন শরীরের কোষের মধ্যে অবিকল কোভিড-১৯-এর প্রতিরূপ গঠন করে শরীরের মধ্যে কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। শেখেনভ বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ বৈজ্ঞানিকের মতে এই ভাইরাস ভেক্টর ভ্যাকসিন SARS CoV - 2'S স্পাইক প্রোটিনের সাথে মিলন ঘটিয়ে মানুষের শরীরে সর্বোচ্চ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে।

যদিও পরীক্ষিত ভাবে কোভিড-১৯-এর এই প্রতিষেধক মানুষের উপরে প্রয়োগ চলেছিল গত দুমাস ধরে। যদিও বিশ্ববাজারে করোনা প্রতিষেধক তৈরিতে বৈজ্ঞানিক ভিত্তির উপর প্রমাণাদি সহ কোনো ভ্যাকসিন এখনও বেরোয়নি।

জনপ্রিয় খবর

  • এই সপ্তাহের এর

  • এই মাস এর

  • সর্বকালীন