প্রায় নিঃশব্দে চলে গেল আরও এক জন্মদিন। অথচ হয়তো বা তাঁরই জন্য ভারতবর্ষ পেতে পারতো চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল।

যদিও সময়ের থেকে এগিয়ে থাকা মানুষটির সময়োচিত মূল্যায়ন হয়নি। যুগে যুগে কাজের স্বীকৃতি পেতে মানুষকে অনেক লড়াই করতে হয়েছে। বরণ ক‍রে নিতে হয়েছে লাঞ্ছনা, অপমান, উপহাস আর ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ। গ্যালিলিওর কথা তো আমাদের অজানা নয়।

আজ ডাক্তার সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিন। বেঁচে থাকলে বয়স হতো ৮৭ বছর। ১৯৩১ সালের ১৬ জানুয়ারি বিহারের হাজারিবাগে তাঁর জন্ম।

ভারতে সর্বপ্রথম এবং বিশ্বের দ্বিতীয় নলজাত শিশু দুর্গার সৃষ্টিকর্তা ডঃ সুভাষ মুখোপাধ্যায়। পৃথিবীর প্রথম নলজাত শিশু জন্মের ৬৭দিন পর ৩ অক্টোবর ১৯৭৮ ডাক্তার সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের দীর্ঘ গবেষণার ফসল দুর্গা জন্মগ্রহণ করে। ১৯৭৮ সালে তাঁর গবেষণা সফল হবার পর প্রশাসনিক স্তরে ও সহকর্মীদের কাছে কাজের স্বীকৃতির পরিবর্তে পেয়েছিলেন অপমান, উপহাস ও চূড়ান্ত লাঞ্ছনা। নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ থেকে তাঁকে প্রথমে বদলি করা হয় বাঁকুড়ার একটি হাসপাতালের চক্ষু বিভাগে। সেখানে হৃদরোগে আক্রান্ত হবার পর তাঁকে কলকাতায় বদলি করা হয়।

জাপানে একটা সেমিনারে ডাক্তার মুখোপাধ্যায় ওনার কাজের বিষয়ে বক্তৃতা করার আহ্বান পেয়েছিলেন। কিন্তু ভারত সরকার তাঁকে এই সেমিনারে যাওয়ার অনুমতি দেন নি। চূড়ান্ত হতাশায় ১৯৮১ সালের ১৯ জুন মাত্র ৫০ বছর বয়সে নিজের বাড়িতে আত্মহত্যা ক‍রেন।

মৃত্যুর বেশ কয়েক বছর পর মূলত ডাক্তার টি সি আনন্দ কুমারের প্রচেষ্টায় স্বীকৃতি পান ডাক্তার মুখোপাধ্যায়।

জনপ্রিয় খবর

  • এই সপ্তাহের এর

  • এই মাস এর

  • সর্বকালীন