রবিবার রাতে টিটাগড় পুরসভার কাউন্সিলর তথা অর্জুন সিং ঘনিষ্ঠ বিজেপি নেতা মনীশ শুক্লা খুনের ঘটনায় বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। উঠে এসেছে সুপারি কিলার দিয়ে খুনের তত্ত্ব।

প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, এই বিজেপি নেতাকে খুন করার জন্য যে বা যারা মাস্টারমাইন্ড তারা সুপারি কিলার পাঠিয়েছিল। ওই কিলাররা দুটো বাইকে করে ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। এছাড়াও ভিড়ের মধ্যেও আততায়ীরা মিশে ছিল। তারাই মণীশ শুক্লার গতিবিধি সম্পর্কে আততায়ীদের খবর দেয় যাতে কোনওভাবে টার্গেট মিস না হয়। যা রীতিমতো যে কোনও হিন্দি সিনেমার শুটআউটের দৃশ্যের স্ক্রিপ্টকেও হার মানায়। মনীশ শুক্লাকে লক্ষ্য করে সুপারি কিলাররা মোট সাত রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। যার মধ্যে ৪ টি গুলি মনীশের শরীরে লাগে। পুলিশ জানিয়েছে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীর খোঁজ মিলেছে। যার কথায় স্টেনগান জাতীয় বন্দুক থেকে গুলি ছোড়ে আততায়ীরা।

তবে কী ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র খুনের জন্য ব্যবহার হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট করে পুলিশ জানায়নি। পুলিশ সূত্রে খবর, মনিশের দেহ থেকে নাইন এমএম গুলি পাওয়া গেছে। তাই কার্বাইন বন্দুকের তত্ত্ব জোরালো হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রশ্ন এতো সফিস্টিকেটেড বন্দুকের সাপ্লাই পেলো কি কিভাবে আততায়ীরা।

সিপিআইএম নেতা তড়িৎ তোপদারের হাত ধরে মণীশের রাজনীতিতে আসা। ২০০৯ সালে তৃণমূলের শীলভদ্র দত্ত ও প্রশান্ত চৌধুরীর হাত ধরে নতুন ইনিংসের শুরু। মণীশের অঙ্গুলী হেলনেই ২০১০ ও ২০১১ সালে ব্যারাকপুরের সব কলেজ এসএফআই থেকে টিএমসিপির দখলে চলে যায়। ওই অঞ্চলের ২০১১ সালের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় মণীশ শুক্লা।

দীনেশ ত্রিবেদীর হয়েও ভোটের কাজ দেখভাল করেছেন। তবে নানা কারণে ২০১২ থেকে ২০১৪ ক্রমে তৃণমূল থেকে দূরে সরে যান। তবে ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ফের সক্রিয় ভূমিকা নেন তিনি। সেই সময় থেকেই অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা। পরবর্তী সময়ে অর্জুন সিং বিজেপিতে যোগ দিলে তিনিও বিজেপিতে যোগ দেন।


জনপ্রিয় খবর

  • এই সপ্তাহের এর

  • এই মাস এর

  • সর্বকালীন