আদালতের আশঙ্কাই অবশেষে সত্যি হলো। পশ্চিমবঙ্গে ২০১৮-র পঞ্চায়েত নির্বাচনের বলি ২০ টি প্রাণ। চারিদিকে অশান্তির অভিযোগ। মুড়িমুড়কির মতো বোমা পড়লো, গুলি চললো। কোথাও ব্যালট বাক্সে আগুন তো কোথাও জল ঢেলে ভিজিয়ে দেওয়া হলো ব্যালট বাক্স। প্রিসাঁইডিং অফিসার সহ ভোট কর্মীদের কোনোরকমে পালিয়ে প্রাণে বাঁচতে হয়েছে বহু জায়গায়। রক্তাত খাকি উর্দি, আক্রান্ত সংবাদমাধ্যম। গণতন্ত্রের উৎসবে সারা রাজ্য জুড়েই গতকাল দেখা গেছে এই ছবি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অভিযোগের তীর শাসক দলের বিরুদ্ধে।

অথচ নির্বাচনের দিন সন্ধ্যেয় রাজ্য পুলিশের ডিজি সুরজিৎ পুরকায়স্থ এক সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি করেছেন, রাজ্যে গত পঞ্চায়েত নির্বাচনগুলির তুলনায় এবারে হতাহতের সংখ্যা অনেক কম। হিংসার ঘটনা অনেক কম। বিক্ষিপ্ত কয়েকটি ঘটনা ছাড়া মোটের ওপর ভোট শান্তিপূর্ণ হয়েছে। পুলিশ অনেক বেশী সহনশীলতার সাথে সমস্ত ঝামেলা মিটিয়েছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত ২০১৩-র পঞ্চায়েত নির্বাচনে ১৪ দিনে ২৫ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। সেবার রাজ্যে পাঁচ দফায় নির্বাচন হয়েছিল। যদিও সেবারের মত এবারেও মৃতের সংখ্যা 'কম' করে দেখানোর অভিযোগ উঠেছে প্রশাসনের বিরুদ্ধে।

মনোনয়ন পর্বেই যে ব্যপক প্রাণহানি ও অশান্তির অভিযোগ উঠেছিল শাসক দলের বিরুদ্ধে তা বিবেচনা করেই আদালত নির্বাচনের দিন নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছিল। কেনোরকম প্রাণহানির ঘটনা ঘটলে আধিকারিকদেরই তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আধিকারিকদের বেতন থেকে কেটে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। প্রয়োজন পড়লে আধিকারিকদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে। কিন্তু এতো নির্দেশ সত্ত্বেও এই ব্যাপক প্রাণহানি আটকানো গেল না। এতোগুলো প্রাণের দায় নির্বাচন কমিশন নেবে তো? প্রশ্ন এখন এটাই।


জনপ্রিয় খবর

  • এই সপ্তাহের এর

  • এই মাস এর

  • সর্বকালীন