বীরভূমের খয়রাশোলে কয়লাখনি তৈরির জন্য প্রায় ১০১ হেক্টর গভীর বনভূমি কেটে ফেলার অভিযোগ উঠলো পশ্চিমবঙ্গ বিদ‍্যুৎ উন্নয়ন নিগমের বিরুদ্ধে। খয়রাশোলের গঙ্গারামচকে অবস্থিত এই বিপুল পরিমাণ জঙ্গল কাটার প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকটি আদিবাসী গ্রামের বাসিন্দারা। গত মঙ্গলবার বিডিও-র কাছে লিখিতভাবে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা।

খয়রাশোলের বিডিও সঞ্জয় দাস এই প্রতিবাদপত্র পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, কয়লা খনি লাগোয়া এলাকার বাসিন্দাদের যাতে কোনো অসুবিধা না হয় সে বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে ও পশ্চিমবঙ্গ বিদ‍্যুৎ উন্নয়ন নিগমের কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করবেন তিনি।

জঙ্গল থেকে মাত্র ২-৩ কিমি দুরেই বাস্তবপুর, গঙ্গারামচক, বেলডাঙা নামের বেশ কয়েকটি আদিবাসীদের গ্রাম রয়েছে।  গ্রামবাসীদের অভিযোগ, যেভাবে কয়লাখনি তৈরির জন্য জঙ্গল কাটা হচ্ছে তাতে আর কয়েকদিনের মধ্যেই তাঁদের উচ্ছেদ করা হবে। সরকার কর্তৃপক্ষ তাঁদের সাথে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা করেনি এখনও। এছাড়া উচ্ছেদ না করলেও কয়েকদিন পর কয়লা উত্তোলনের জন্য বিস্ফোরণ ঘটালে তাঁদের মাটির ঘরে সরাসরি এর প্রভাব পড়বে।

 জীবন-জীবিকার জন্য এই জঙ্গলের ওপরেই গ্রামবাসীরা সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। জঙ্গলের কাঠ, মধু, শালপাতা, কেন্দুপাতা বিক্রি করে তাঁরা তাঁদের জীবিকা নির্বাহ করে। বিস্তীর্ণ এই বনভূমি কেটে ফেললে তাঁদের জীবন-জীবিকায় এর প্রভাব পড়বে। পরিবেশও দূষিত হবে।

এই সমস্ত অভিযোগের কথা জানিয়েই বিডিওকে প্রতিবাদপত্র দিয়েছেন গ্রামবাসীরা। যদিও বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার এই সমস্ত অভিযোগের কথা অস্বীকার করেছেন। অপরদিকে এই বিশাল জঙ্গল কেটে ফেলার কথা স্বীকার করেছে পশ্চিমবঙ্গ বন দফতর।


জনপ্রিয় খবর

  • এই সপ্তাহের এর

  • এই মাস এর

  • সর্বকালীন