সিঙ্গুরে আন্দোলন ভুল ছিলো। এতে রাজ্যের বেকার যুবক যুবতীরা ভুগছেন। সিঙ্গুরে টাটার ছেড়ে যাওয়া জমি পড়ে আছে। সিঙ্গুরের জমিতে না হল শিল্প, না হল চাষ। টাটা ফিরে যাওয়ায় মানুষের কাছে ভুল বার্তা যায়। একদা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী এবং তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড, বর্তমানে বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের বিস্ফোরক এই মন্তব্যে সরগরম রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।

এক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিজেপি নেতা মুকুল রায় স্বীকার করে নেন – সিঙ্গুর আন্দোলন ভুল ছিলো। এতে রাজ্যের বেকার যুবক যুবতীরা ভুগছেন।

মুকুল রায়ের এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সিপিআই(এম) পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম জানান, তিনি এখন তৃণমূল থেকে বিজেপির মুখ্য ভূমিকায় আছেন। তাই হয়তো একথা বলেছেন। আগে তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মুকুল রায় দুজনেরই রাজ্যের মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ। সেখানে শুধু মুকুল রায় কেন। রাজনাথ সিং, আদবানী, সুষমা স্বরাজ – বিজেপির সবাই সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। এটা কোনো গাড়ি কারখানার বিষয় ছিলো না। এটা ছিলো গোটা পূর্বভারতে অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে আসার প্রশ্ন। কীভাবে রাজ্যে আবার শিল্প হতে পারে সে বিষয়ে ভাবনা চিন্তা করা উচিৎ। আমরা তখনই বলেছিলাম রাজ্যে শিল্প সম্ভাবনার ভ্রূণ হত্যা করা হলো। সেই ভ্রূণ হত্যার জন্য দায়ী এঁরা উভয়েই। আজকে যে রাজ্যে শিল্প হচ্ছে না তার জন্য রাজ্যের হাজার হাজার বেকার যুবক যুবতীর কাছে এঁদের ক্ষমা চাওয়া উচিৎ।

তিনি আরও বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ল্যান্ড ব্যাঙ্ক কোথায় গেল? তিনি যে এত শিল্প সম্মেলন, বিশ্ব বাংলা, বেঙ্গল লীডস করলেন সেই বিনিয়োগ কোথায় গেল? অন্যত্র কোথাও কোনো কলকারখানা হচ্ছে না কেন? এখনও কেন সিঙ্গুরের কৃষকরা হা পিত্যেশ করছেন? এখানে তো কৃষকরা জমি দিয়েছিলেন। কিছু অরাজী ছিলেন। কিন্তু জমি অধিগ্রহণের বিরোধিতা করার নামে কারখানাটা ওখানে করতে দেওয়া হয়নি।


জনপ্রিয় খবর

  • এই সপ্তাহের এর

  • এই মাস এর

  • সর্বকালীন