এলপিজি দুর্নীতিতে ধৃত বিজেপি নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এলো। সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেওয়ার বহু আগেই এলপিজি দুর্নীতির ছক তৈরী করেছিলেন ধৃত বিজেপি নেতা রণজিৎ মজুমদার। এমনটাই দাবি লালবাজারের তদন্তকারী অফিসারদের।

বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরশীপ নেওয়ার জন্য কেন্দ্রের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক থেকে সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। কিন্তু তদন্তকারী অফিসারের দাবি, সরকারিভাবে বিজ্ঞপ্তি জারির পনেরো দিন আগেই ধৃত বিজেপি নেতা একটি গোপন বৈঠক করেছিলেন। সেখানেই তিনি প্রত্যেক জেলার বিজেপি সভাপতিকে একটি ই-মেল করেন। ই-মেলে গ্রামে গ্রামে ডিস্ট্রিবিউটরশীপ নিতে ইচ্ছুক বিজেপি কর্মীদের নাম পাঠাতে বলা হয়। এই ই-মেলে পাঠানো নাম থেকেই এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরদের নামের তালিকা তৈরী করা হয়। এর জন্য প্রত্যেকের থেকে প্রায় ৪ লক্ষ থেকে ৭ লক্ষ টাকা নিয়েছেন ধৃত ওই বিজেপি নেতা বলেই পুলিশ সূত্রের খবর।

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত নেতাকে জেরা করে ওই ই-মেল উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় রণজিৎ মজুমদার ছাড়াও আরও কয়েকটি জেলার বিজেপি সভাপতিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইচ্ছুক আরও যে সমস্ত কর্মীরা টাকা দেওয়া সত্ত্বেও ডিস্ট্রবিউটরশীপ পায়নি, সেই প্রতারিত বিজেপি কর্মীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

দুর্নীতির এই ঘটনা কার্যত স্বীকার করে নিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, "কেউ যদি কারও নাম সুপারিশ করে থাকে তাতে আপত্তির কী আছে?" বিজ্ঞাপন বেরোনোর আগে বৈঠক সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, "দলীয় বৈঠক হয়নি। কোনো ব্যক্তি বৈঠক করে থাকতে পারেন। যে দল যখন সরকারে থাকে, তারা তখন এরকম করে।"

উল্লেখ্য, গত আগস্ট মাসে বিধাননগরের প্রাক্তন বিজেপি নেতা অশোক সরকার এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরশীপ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে জোড়াসাঁকো থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। এরই তদন্তে নেমে লালবাজার পুলিশ সেপ্টেম্বরে রণজিৎ মজুমদার নামে ওই বিজেপি নেতাকে গ্রেপ্তার করেন।


জনপ্রিয় খবর

  • এই সপ্তাহের এর

  • এই মাস এর

  • সর্বকালীন