কথা রাখলো তিতলি। ওড়িশা ও অন্ধ্র উপকূলে প্রবল বেগে আছড়ে পড়লো ঘূর্ণিঝড় তিতলি। বৃহস্পতিবার সকাল হতে না হতেই ঘন্টায় প্রায় ১২৬ কিলোমিটার বেগে দুই রাজ্যের উপকূলে আছড়ে পড়লো ঝড়। যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন, বহু জায়গায় উপড়ে গিয়েছে গাছ। ঘুর পথে চালানো হচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের ট্রেনগুলি। ঝড়ের প্রভাবে সমুদ্র এখন ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে।

প্রশাসন আগে থেকেই সচেতন ছিল এই ঝড় সম্পর্কে। গতকালই ওড়িশার সমস্ত স্কুল, কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটির কথা ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছিলো। সেই সঙ্গে যে রেলের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিলো ভুবনেশ্বরে তাও বাতিল করে দেয় আরআরবি কলকাতা।

ঝড়ে সব থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গোপালপুর জেলা। আগে থেকেই ওই এলাকার প্রায় তিন লক্ষ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো। ঝড়ের ফলে গোপালপুর ও বেরহামপুর সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। খুরদা রোড ও বিজয় নগরের মধ্যে রেল যোগাযোগও ভেঙে পড়েছে। খড়্গপুরে দাঁড়িয়ে রয়েছে একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন। এছাড়াও একাধিক ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।

এ রাজ্যেও প্রভাব পড়বে তিতলির। উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে এই প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা বেশি। মৎস্যজীবীদের আগে থেকেই সমুদ্রে যেতে নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে। দিঘা ও মন্দারমনিতে গতকাল থেকেই প্রভাব শুরু হয়ে গেছে তিতলির। ঢেউয়ের উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে ঝোড়ো হাওয়াও চলছে ক্রমাগত। রাত থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়েছে। পর্যটকদের সমুদের বেশি কাছে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। মাইকিং করেও বারবার সতর্ক করা হচ্ছে। নবান্নে বিশেষ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এক কথায় তিতলি মোকাবিলায় প্রস্তুত এ রাজ্যের সরকারও। তবে পূজোর মরশুমে প্রকৃতির এই তান্ডবে মাথায় হাত পড়েছে পূজো কর্তা থেকে শুরু করে শিল্পীদের।


জনপ্রিয় খবর

  • এই সপ্তাহের এর

  • এই মাস এর

  • সর্বকালীন