দলবদলুরা কি আবার তৃণমূলে ফিরতে চেয়ে যোগাযোগ করছেন! জল্পনা রাজনৈতিক মহলে

বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছিলেন, দলত্যাগীরা আসতে চাইলে তাঁরা স্বাগত।
দলবদলুরা কি আবার তৃণমূলে ফিরতে চেয়ে যোগাযোগ করছেন! জল্পনা রাজনৈতিক মহলে

দু'দিনে চার দফায় মোট ৭৪ জন বিধায়ক শপথ নিচ্ছেন। গতকালের পর আজ দ্বিতীয় দিনে বাকি বিধায়করা শপথ নেবেন। এদের মধ্যে অনেকেই রাজনীতির আঙিনায় এই প্রথমবার পা রেখেছেন। তাই একেকজনের বহিঃপ্রকাশ এরকম হচ্ছে। এরইমধ্যে আইনসভার অলিন্দে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে দলবদলুদের অনেকেই নাকি দলে ফিরতে চেয়েছেন। যোগাযোগও করতে শুরু করে দিয়েছেন দলত্যাগীরা।

প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছিলেন, দলত্যাগীরা আসতে চাইলে তাঁরা স্বাগত। গত বছরের ডিসেম্বরে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী। তারপর একের পর এক তৃণমূলের তাবড় নেতারা ঘাসফুল শিবিরে নাম লেখান। তাঁদের প্রত্যেকেরই বক্তব্য ছিল, তাঁরা দলে থেকে কাজ করতে পারছিলেন না। তাই বাধ্য হয়ে তাঁরা দল ছেড়েছেন। অনেকের দমবন্ধ হয়ে আসছিল বলে অভিযোগ করেছেন। অনেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলের একাধিক নেতার ব্যক্তিগত কুৎসা করেছিলেন।

যদিও তৃণমূলের ঝড়ে তাঁরা কেউই মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেননি। চার্টার্ড ফ্লাইটে দিল্লি গিয়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, বৈশালী ডালমিয়া, প্রবীর ঘোষাল, রথীন চক্রবর্তী কেউই জেতেননি। তাঁরাই এবার তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ মহলে যোগাযোগ শুরু করেছেন বলে সূত্রের খবর। তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতা বক্তব্য, আসলে মমতা বন্দনা করে তাঁরা দলে ফিরতে চাইছেন। কেউ কেউ হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করেছেন। ফোনে না পেয়ে কেউ হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠিয়েছেন, 'দিদিকে একটু দেখতে বলো'।

তবে অনেকেই লিখেছেন, 'পাপ করেছি, আমি জানি। সাজা পেতে প্রস্তুত থাকতে হবে।' তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই দলবদলু নেতাদের দলে না ফেরানো নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন। ভোট প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য বেশ কয়েকবার বলেছেন, গদ্দারদের ক্ষমা করা হবে না। তবে রাজনীতিতে অসম্ভব বলে কিছু নেই, এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in